পশ্চিমে সরে নিম্নচাপ, দক্ষিণবঙ্গে কিছুটা স্বস্তি, উত্তরে বাড়ছে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা

বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ পশ্চিম দিকে সরে যাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গে কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত। তবে কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় বাংলায় ভারী বৃষ্টি এবং উত্তরবঙ্গে বাড়ছে দুর্যোগের আশঙ্কা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ পশ্চিম দিকে সরে যাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে আবহাওয়া পুরোপুরি স্বাভাবিক হচ্ছে না। ভারতীয় আবহাওয়া দফতর (IMD)-এর ১৮ অগস্টের পূর্বাভাস অনুযায়ী, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে আজও বিচ্ছিন্ন ভাবে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গের পাহাড় ও তরাই-ডুয়ার্স এলাকায় আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের প্রভাবে রবিবার রাত থেকেই দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টি শুরু হয়েছিল। সোমবার কলকাতা-সহ বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির দাপট ছিল। সেই নিম্নচাপ এখন পশ্চিম দিকে সরে ঝাড়খণ্ডের দিকে এগিয়েছে। এর প্রভাবে ঝাড়খণ্ড ও বিহারেও ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে নিম্নচাপ সরে যাওয়াকে দক্ষিণবঙ্গের সম্পূর্ণ স্বস্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। মঙ্গলবারও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎ ও দমকা হাওয়াও হতে পারে। আইএমডি জানিয়েছে, এ দিন গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে ঝোড়ো হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

কলকাতায় সোমবারের তুলনায় বৃষ্টির দাপট কমতে পারে। আকাশ মূলত মেঘলা থাকার পাশাপাশি কয়েক দফায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। তবে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই জলজটের সমস্যা তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় কলকাতায় ৫০ থেকে ১০০ মিলিমিটারের কাছাকাছি বৃষ্টিপাতের খবর পাওয়া গিয়েছে।

কলকাতার একাধিক এলাকাতেই বৃষ্টির পরিমাণ ছিল উল্লেখযোগ্য। আলিপুরে প্রায় ৬০ মিলিমিটার, মানিকতলায় ৭৮ মিলিমিটার, ঠনঠনিয়ায় ৮৮ মিলিমিটার এবং বেহালায় প্রায় ৫৬ মিলিমিটার বৃষ্টির তথ্য মিলেছে। বালিগঞ্জ ও যাদবপুরেও বৃষ্টির পরিমাণ ছিল প্রায় ৬৭ ও ৫৬ মিলিমিটার।

দমদম টবিন রোড এবং সল্টলেক-নিউটাউন এলাকাতেও প্রায় ৭৮-৮০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। ফলে নিচু এলাকা ও জল জমার প্রবণ রাস্তায় যান চলাচলে সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকছে। টানা বৃষ্টির কারণে কলকাতার তাপমাত্রাতেও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ পতন হয়েছে।

দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে অবশ্য বৃষ্টির দাপট তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, পশ্চিম মেদিনীপুর, বীরভূম ও ঝাড়গ্রামের মতো জেলায় ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া পরিস্থিতিকে আরও প্রতিকূল করতে পারে।

এ দিকে নজর ঘুরছে উত্তরবঙ্গের দিকে। আইএমডির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২১ অগস্ট পর্যন্ত উপ-হিমালয় পশ্চিমবঙ্গ ও সিকিমে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি জেলাগুলিতে টানা বৃষ্টির জেরে ধস ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্নের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, নিম্নচাপের প্রভাবে ঝাড়খণ্ডেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ১৮ অগস্ট ঝাড়খণ্ডে বিচ্ছিন্ন ভাবে অত্যন্ত ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আইএমডি। বিহারেও ১৮-১৯ অগস্ট ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিম্নচাপের মূল প্রভাব ধীরে ধীরে পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে সরে যাচ্ছে বলেই আবহাওয়ার পূর্বাভাসে স্পষ্ট।

সমুদ্রও এখনও পুরোপুরি শান্ত নয়। নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে উত্তাল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই মৎস্যজীবীদের জন্য সতর্কতা বহাল রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পরবর্তী আপডেট না আসা পর্যন্ত সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করাই নিরাপদ।

সব মিলিয়ে, নিম্নচাপের কেন্দ্র বাংলার উপর থেকে সরে যাওয়ায় দক্ষিণবঙ্গে একটানা প্রবল বৃষ্টির আশঙ্কা কিছুটা কমলেও বৃষ্টির দাপট একেবারে শেষ হচ্ছে না। কলকাতা-সহ গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে আজও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে উত্তরবঙ্গ এবং ঝাড়খণ্ডে বৃষ্টির নতুন করে বাড়তে থাকা প্রবণতাই এখন আবহাওয়াবিদদের নজরে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

Advertisementspot_img

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর