কেন্দ্রের রিপোর্ট: বিদেশি পর্যটকদের পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় পশ্চিমবঙ্গ, বার্তা মমতার

পর্যটনে মহারাষ্ট্রের পর দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ; কোভিড-পরবর্তী মন্দা কাটিয়ে রাজ্যের পুনরুত্থান স্পষ্ট বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রকের পরিসংখ্যানে এ বার স্পষ্ট—পশ্চিমবঙ্গ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে দ্বিতীয়। বুধবার সমাজমাধ্যমে এই তথ্য শেয়ার করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, রাজ্য যেভাবে কোভিড-পরবর্তী সময় পর্যটনকে সামনে রেখে কাজ করেছে, কেন্দ্রের রিপোর্ট তারই প্রমাণ। বাণিজ্য, সংস্কৃতি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে যে বহুমুখী সম্ভাবনা রয়েছে, তা এবার আন্তর্জাতিক পর্যটকদের আগমনে প্রতিফলিত হয়েছে।

কেন্দ্রের প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বিদেশি পর্যটক আগমনে প্রথম স্থানে রয়েছে মহারাষ্ট্র। সেখানে পর্যটকের সংখ্যা ৩৭ লক্ষ। দ্বিতীয় স্থানে পশ্চিমবঙ্গ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে দ্বিতীয় হওয়ায় রাজ্যে এসেছে প্রায় ৩১ লক্ষ বিদেশি পর্যটক। দার্জিলিংয়ের পাহাড় থেকে সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ, দিঘা-তাজপুরের সমুদ্র কিংবা ডুয়ার্সের ঘন অরণ্য—প্রকৃতির বৈচিত্র্যই পর্যটকদের কাছে পশ্চিমবঙ্গকে নতুন করে তুলে ধরেছে।

এই রিপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ আরও একটি কারণে—২০১৯ সালের পর প্রথমবার বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা প্রায় সমান স্তরে ফিরে এসেছে। কোভিডের ধাক্কায় বিশ্ব অর্থনীতি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, পর্যটন শিল্পও তার ব্যতিক্রম ছিল না। ভারতের পর্যটন খাতে যে ভয়াবহ মন্দা দেখা দিয়েছিল, তা কাটিয়ে ওঠা সহজ ছিল না। তবে এবার বোঝা যাচ্ছে, আন্তর্জাতিক পর্যটকের আগমন ভারতীয় অর্থনীতিকে আবার গতিমুখী করছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে দাবি করেছেন, কোভিড-পরবর্তী পুনর্গঠনের সময় রাজ্য সরকার বিশেষভাবে পর্যটনে জোর দিয়েছিল। পশ্চিমবঙ্গ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে দ্বিতীয় হওয়ার সাফল্য সেই পরিকল্পনারই প্রতিফলন। তাঁর কথায়, দার্জিলিংয়ের লামাহাটার মতো অনামি জায়গাকে পর্যটন মানচিত্রে তুলে ধরা রাজ্যের প্রচেষ্টাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

রাজ্য সরকারের দাবি—পর্যটনের প্রসার শুধু অর্থনৈতিক লাভ নয়, কর্মসংস্থানেও বড় ভূমিকা রাখছে। পাহাড়ি হোমস্টে, সমুদ্রপর্যটন, জঙ্গলসাফারি, ঐতিহ্যভিত্তিক পর্যটন—সব ক্ষেত্রেই দ্রুত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় রিপোর্টের পর এই ক্ষেত্র এখন আরও দ্রুত প্রসারিত হবে বলেই আশা প্রশাসনের।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিমবঙ্গ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে দ্বিতীয় হওয়া শুধুমাত্র পরিসংখ্যানগত সাফল্য নয়—এটি রাজ্যের ব্র্যান্ডমূল্যকে আরও উঁচুতে নিয়ে গেল। বৈদেশিক পর্যটন বৃদ্ধি মানে আন্তর্জাতিক বিপণনে বাংলার অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়া। বিশেষ করে সাংস্কৃতিক পর্যটন ও ইকো-ট্যুরিজমে পশ্চিমবঙ্গ এখন ভারতের অন্যতম সম্ভাবনাময় মুখ।

যদিও পর্যটন শিল্পকে আরও এগিয়ে নিতে পরিকাঠামো, পরিবহন, পরিষেবার মান বৃদ্ধি ও নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। শিল্পমহলের দাবি, আন্তর্জাতিক পর্যটন বৃদ্ধির এই গতি ধরে রাখতে হলে বিমান সংযোগ বাড়ানো, গন্তব্যভিত্তিক প্রচার চালানো এবং নতুন পর্যটন কেন্দ্র তৈরি করাই হবে আগামী লক্ষ্য।

তবে আজকের দিনে সবচেয়ে বড় বার্তাটি একটাই—বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও পশ্চিমবঙ্গ বিদেশি পর্যটক আকর্ষণে দ্বিতীয় হতে পেরেছে। সেই সাফল্য রাজ্যের কোভিডোত্তর পুনরুত্থানের নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত