এসএসসি শিক্ষক নিয়োগে অগ্রগতির পর এবার প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগেও গতি আনতে চলেছে রাজ্য। প্রশাসনিক সূত্রের খবর, ৩০ ডিসেম্বর থেকে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে। দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষায় থাকা টেট উত্তীর্ণ চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজ্যে ১৩ হাজার ৪২১টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন জমা পড়েছে প্রায় ৬০ হাজার। ইন্টারভিউ প্রক্রিয়া হবে কেন্দ্রীয়ভাবে, পর্ষদের দফতরে, এবং পুরো প্রক্রিয়াই ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে নথিভুক্ত করা হবে। ইন্টারভিউ শেষ হলে মেধাতালিকা প্রকাশ করা হবে।


সূত্রের ইঙ্গিত, বছরের শেষ পর্বে প্রথমে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলগুলির জন্যই ইন্টারভিউ নেওয়া হবে। পরবর্তী ধাপে অন্যান্য মাধ্যমের স্কুলগুলির জন্য ইন্টারভিউয়ের দিনক্ষণ ঘোষণা করা হবে। সমস্ত তথ্য পর্ষদের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক দিক থেকেও এই নিয়োগ প্রক্রিয়া তাৎপর্যপূর্ণ। সামনে বিধানসভা নির্বাচন থাকায় শিক্ষা দফতরের লক্ষ্য, আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর হওয়ার আগেই এসএসসি ও প্রাথমিক—দুই স্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়ার বড় অংশ সম্পন্ন করা। এসএসসি-র ২৬ হাজার শিক্ষক নিয়োগে সময়সীমা বাড়ানোয় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে চাকরিপ্রার্থীদের।
প্রাথমিক স্তরে শেষ বড় নিয়োগ হয়েছিল ২০১৭ সালে। তার পর দীর্ঘদিন কোনও নিয়োগ না হওয়ায় টেট উত্তীর্ণ বহু প্রার্থী পথে নেমে আন্দোলন করেছেন। সল্টলেকে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের দফতরের সামনে দফায় দফায় বিক্ষোভও হয়েছে। সেই প্রেক্ষিতেই গত মাসে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি করে পর্ষদ।


বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে টেট উত্তীর্ণরা সহকারী শিক্ষক পদের জন্য আবেদন করেছেন। এবার ইন্টারভিউয়ের নির্দিষ্ট তারিখ সামনে আসায় বহু চাকরিপ্রার্থীর মধ্যেই নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এখন নজর—এই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ ও সময়মতো সম্পন্ন হয়, সেদিকেই।







