পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের জন্য ভিনরাজ্যে পাড়ি দেওয়া কমাতে বড় উদ্যোগ নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। গ্রামে ফিরিয়ে তাঁদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে চিহ্নিত পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের ১০০ শতাংশকে ‘গ্রামীণ রোজগার গ্যারান্টি কার্ড’ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দপ্তর। এই কার্ডের মাধ্যমে যোগ্য প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যদের বছরে ১২৫ দিনের মজুরি-ভিত্তিক কাজের সুযোগ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
গত ২৫ অগস্ট জেলাশাসক এবং জেলা প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটরদের কাছে এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা পাঠানো হয়েছে। তাতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, চিহ্নিত পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের যাঁদের এখনও রোজগার গ্যারান্টি কার্ড হয়নি, তাঁদের দ্রুত কার্ড দিতে হবে।
শুধু নতুন কার্ড দেওয়াই নয়, ইতিমধ্যে কার্ড পেয়েছেন এমন পরিবারগুলির তথ্যও যাচাই করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে দেখতে হবে, তালিকাভুক্ত কোনও পরিযায়ী শ্রমিক পরিবার এখনও এই সুবিধার বাইরে রয়েছে কি না। যাঁদের কার্ড হয়নি, তাঁদের ক্ষেত্রে দ্রুত প্রক্রিয়া শেষ করে ১০০ শতাংশ কভারেজ নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, কাজের অভাবে যাতে গ্রামের মানুষকে অন্য রাজ্যে যেতে না হয়, সেই পরিস্থিতি তৈরি করা। নির্দেশিকায় জীবিকা সুরক্ষার পাশাপাশি পরিযানের প্রবণতা কমানোর উপরেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ গ্রামেই কাজের সুযোগ তৈরি করে স্থানীয় স্তরে আয় নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য।
দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামীণ পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্যরা অদক্ষ শ্রমের কাজে আগ্রহী হলে বছরে ১২৫ দিনের মজুরির কাজের আইনি নিশ্চয়তা পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে শুধু কার্ড হাতে তুলে দিলেই দায়িত্ব শেষ হবে না। যোগ্য সদস্যদের কাজের চাহিদাও নথিভুক্ত করতে হবে।
জেলাগুলিকে চিহ্নিত পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারের তালিকা খতিয়ে দেখে প্রত্যেকের রোজগার গ্যারান্টি কার্ড হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যাঁরা ইতিমধ্যেই কার্ড পেয়েছেন, তাঁদের তথ্য যাচাই করা হবে। আর যাঁদের এখনও কার্ড হয়নি, তাঁদের দ্রুত এই ব্যবস্থার আওতায় আনার নির্দেশ রয়েছে।
এর পাশাপাশি, কার্ডপ্রাপ্ত যোগ্য প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য কাজের আবেদন করলে সেই চাহিদা নথিভুক্ত করে সংশ্লিষ্ট আইনের নিয়ম মেনে মজুরির কাজ দেওয়ার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। ফলে কার্ড দেওয়া থেকে কাজের সুযোগ তৈরি—পুরো প্রক্রিয়াটিকে কার্যকর করার উপরেই জোর দেওয়া হচ্ছে।
রাজ্য সরকারের এই উদ্যোগ কার্যকর হলে পরিযায়ী শ্রমিক পরিবারগুলির জন্য স্থানীয় স্তরে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়তে পারে। বিশেষ করে কাজের সন্ধানে দীর্ঘদিন ধরে অন্য রাজ্যে যাওয়া গ্রামীণ শ্রমিকদের একাংশকে নিজের এলাকায় ফিরিয়ে এনে জীবিকার ব্যবস্থা করাই এখন পঞ্চায়েত দপ্তরের অন্যতম লক্ষ্য।



