মধ্যপ্রদেশের সাগর জেলায় ছুরিকাঘাতে গুরুতর জখম হলেন পশ্চিমবঙ্গের মালদহের এক পরিযায়ী শ্রমিক। বাংলায় কথা বলার জেরেই তাঁর উপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। মালদহের কালিয়াচকের পাহাড়পুর গ্রামের বাসিন্দা সৈয়দ শেখ বর্তমানে বুন্দেলখণ্ড মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসাধীন। পরিবারের দাবি, তাঁকে মারধর করে টাকাপয়সা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও গ্রেফতারি হয়নি, যা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি এই হামলার ঘটনা ঘটে। দীর্ঘ প্রায় ন’বছর ধরে কাপড়ের ব্যবসার সূত্রে ভিন্রাজ্যে যাতায়াত করতেন সৈয়দ। মাস দুয়েক আগে গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। তারপর ফের কাজে যান মধ্যপ্রদেশে। অভিযোগ, সাগর জেলার একটি গ্রামে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁকে ঘিরে ধরে বেধড়ক মারধর করে এবং পরে ছুরি দিয়ে কোপায়। তাঁর হাত ও পেটে গভীর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসা চলছে।


পরিজনদের অভিযোগ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের দাবি, বাংলায় কথা বলছিলেন বলেই সৈয়দকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। শুধু শারীরিক আঘাত নয়, তাঁর কাছ থেকে নগদ অর্থও কেড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর থেকেই পরিবার আতঙ্কিত। এখনও পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেফতার না করায় প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনীতির পারদও চড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, বিজেপি শাসিত রাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে। দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বাংলাভাষী হওয়ার কারণে একের পর এক হেনস্থা ও হামলার ঘটনা সামনে আসছে।
এ মাসের শুরুতেই মহারাষ্ট্রে পুরুলিয়ার বাসিন্দা এক পরিযায়ী শ্রমিক সুখে মাহাতোর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছিল তৃণমূল। পুণেতে কাজ করতে গিয়ে খুন হন বলে অভিযোগ। সেখানেও ‘বাংলাভাষী’ হওয়ার কারণকেই দায়ী করা হয়েছিল। সুখেনের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি জানিয়েছিলেন, যথাযথ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবিতে দল শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবে।


গত কয়েক মাস ধরেই ভিন্রাজ্যে বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর ধারাবাহিক হামলার অভিযোগ সামনে আসছে। কর্মসংস্থানের সন্ধানে হাজার হাজার যুবক প্রতিবছর রাজ্য ছাড়ছেন। কিন্তু কাজের জায়গায় নিরাপত্তাহীনতা নতুন উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে ভাষা বা পরিচয়ের ভিত্তিতে আক্রমণের অভিযোগ দেশজুড়ে সহাবস্থানের প্রশ্নও তুলছে।
মধ্যপ্রদেশের এই ঘটনায় এখনও পুলিশ প্রশাসনের তরফে বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে পরিবার এবং রাজনৈতিক মহল দু’দিক থেকেই চাপ বাড়ছে। প্রশ্ন একটাই—কর্মসংস্থানের সন্ধানে ভিন্রাজ্যে যাওয়া বাংলার শ্রমিকরা কতটা নিরাপদ?







