ভোটের বছরে রাজনীতির উত্তাপের মাঝেই শুরু হচ্ছে রাজ্যের শেষ বাজেট অধিবেশন। মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া বিধানসভার অধিবেশনেই বৃহস্পতিবার দুপুরে পেশ হবে রাজ্য বাজেট—যা কার্যত ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটের আগে শাসক শিবিরের শেষ আর্থিক বার্তা। জনপ্রিয় প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়বে কি না, ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ বাজেটে কোন কোন অগ্রাধিকার উঠে আসবে—সব মিলিয়ে নজর বৃহস্পতিবারের দিকে।
বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে বারোটায় রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস-এর ভাষণের পর দুপুর আড়াইটায় বাজেট পেশ করা হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-এর নেতৃত্বাধীন তৃতীয় তৃণমূল সরকারের এটাই শেষ বাজেট। বিধানসভা নির্বাচনের পরে নবগঠিত বিধানসভায় পূর্ণাঙ্গ বাজেট আসবে—সে কারণেই এ বারের বাজেট মূলত ‘ভোট অন অ্যাকাউন্ট’ হিসেবেই বিবেচিত।
এই বাজেট অধিবেশনে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ইস্যুতে বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি একাধিক বিল পেশ হতে পারে। সোমবার সর্বদলীয় বৈঠক ও কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকের পরে অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিধানসভা চলবে এবং বিলের সংখ্যার উপর ভিত্তি করেই কার্যসূচি চূড়ান্ত হবে।
বিরোধী বিজেপি নেতৃত্ব—শুভেন্দু অধিকারী-র নেতৃত্বে—দীর্ঘদিন ধরে সর্বদলীয় ও কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অনুপস্থিত থাকলেও, রাজ্যপালের ভাষণ, বাজেট ও প্রস্তাবিত বিলের বিতর্কে বিজেপি বিধায়করা উপস্থিত থাকবেন বলে গেরুয়া শিবির সূত্রে খবর।
ভোটের আগে শেষ বাজেট হওয়ায় রাজ্য সরকারের তরফে জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ার সম্ভাবনা প্রবল—এমনটাই তৃণমূলের প্রবীণ বিধায়কদের পর্যবেক্ষণ। বিশেষ করে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে উপভোক্তাদের প্রাপ্য বাড়তে পারে বলে শাসক শিবিরে আলোচনা চলছে। কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলার জন্য বড় ঘোষণা না থাকায় তৃণমূল নেতৃত্ব আগেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে। রাজ্য বাজেটে সেই সমালোচনার রাজনৈতিক জবাবও মিলতে পারে—এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।











