বাজেটের আগে বার্তা রাজ্যপালের: পরিকাঠামো, কৃষি ও সেচে জোর, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানেও বড় ঘোষণা

বাজেটের আগে রাজ্যপালের ভাষণে উন্নয়নের খতিয়ান। মূলধনী ব্যয়, সেচ ও কৃষিতে অগ্রগতি তুলে ধরে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানে ১,৫০০ কোটির ঘোষণা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ভোটের আবহে রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটের আগে উন্নয়ন ও আর্থিক অগ্রাধিকারের স্পষ্ট রূপরেখা তুলে ধরলেন রাজ্যপাল। মূলধনী ব্যয় বৃদ্ধি থেকে শুরু করে কৃষি, সেচ ও সামাজিক উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রেই রাজ্যের অগ্রগতির খতিয়ান তুলে ধরে বাজেটের আগেই রাজনৈতিক বার্তা দিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বাজেট বক্তৃতায় রাজ্যপাল সি ভি আনন্দ বোস জানান, মূলধনী ব্যয়ের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটিয়ে উৎপাদনমুখী পরিকাঠামো, বাস্তব ক্ষেত্রের পরিকাঠামো এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক ক্ষেত্রগুলিকে আরও শক্তিশালী করা হয়েছে। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কাঠামোকে দীর্ঘমেয়াদি বৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যপাল জানান, গত ১৫ বছরে পশ্চিমবঙ্গে সেচের আওতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে রাজ্যের সেচের আওতায় থাকা চাষযোগ্য জমির পরিমাণ জাতীয় গড়ের তুলনায় অনেকটাই বেশি। কৃষিনির্ভর রাজ্যের ক্ষেত্রে এই সাফল্য ভবিষ্যতের খাদ্য নিরাপত্তা ও উৎপাদন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলে দাবি করেন তিনি।

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও বড় ঘোষণা করেন রাজ্যপাল। তাঁর কথায়, কেন্দ্রীয় সরকারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই প্রকল্প রাজ্য সরকার সম্পূর্ণ নিজের দায়িত্বে নিয়েছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের কাজ সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্রেও পশ্চিমবঙ্গের অবস্থান তুলে ধরেন রাজ্যপাল। তিনি জানান, ধান ও পাট উৎপাদনে পশ্চিমবঙ্গ দেশের শীর্ষে রয়েছে। কাট ফ্লাওয়ার্স, আনারস ও মাংস উৎপাদনেও এই রাজ্য প্রথম স্থানে। পাশাপাশি সবজি, মৎস্য ও চা উৎপাদনে দ্বিতীয় বৃহত্তম উৎপাদক পশ্চিমবঙ্গ। ডিম উৎপাদনে রাজ্য এখন সম্পূর্ণ স্বনির্ভর—এই তথ্যও তুলে ধরা হয় ভাষণে।

তবে রাজ্যপালের ভাষণ চলাকালীন রাজনৈতিক উত্তেজনাও চোখে পড়ে। বিধানসভায় বক্তৃতা শুরু হতেই ‘ভারত মাতা কি জয়’ স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে সভাকক্ষ। ভারতীয় জনতা পার্টি–র বিধায়কদের হট্টগোলে একাধিকবার বাধাপ্রাপ্ত হয় ভাষণ।

এ দিকে ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট হলেও রাজ্যের সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা কম নয়। বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃতীয় তৃণমূল সরকারের শেষ এই বাজেটে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, বাংলার বাড়ি, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, গ্রামীণ উন্নয়ন ও সামাজিক প্রকল্পে ‘চমক’ থাকতে পারে বলে জোর জল্পনা চলছে।

উল্লেখ্য, রাজ্যের সপ্তদশ বিধানসভায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর নেতৃত্বে চলা তৃতীয় সরকারের এই ভোট অন অ্যাকাউন্ট বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। দুপুর আড়াইটেয় বাজেট পেশের সময় এবং তার আগে রাজ্যপালের ভাষণ—দু’টি পর্বেই মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা।

সব মিলিয়ে, বাজেট পেশের আগেই রাজ্যপালের ভাষণে উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রাধিকারের বার্তা স্পষ্ট, আর তার সঙ্গেই রাজনৈতিক উত্তাপও চড়ছে বিধানসভায়।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর