স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান দুষ্মন্ত নারিয়ালা, স্বচ্ছ নিয়োগে বড় পদক্ষেপ শুভেন্দু সরকারের

ইউপিএসসি-র আদলে স্বচ্ছ শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বড় পদক্ষেপ। স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেলেন প্রাক্তন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বড় সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) ঘোষণা করেছেন, পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশন (West Bengal Central School Service Commission – WBCSSC)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রাক্তন মুখ্যসচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা (Dushyant Nariala)-কে। সরকারের দাবি, এই নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে ইউপিএসসি (UPSC)-র আদলে আরও স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং রাজনীতিমুক্ত করা হবে।

শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ফেসবুক পোস্টে এই নিয়োগের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে নিয়োগ কমিশনগুলিকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা হবে এবং কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ সংক্রান্ত কমিটির দায়িত্বে রাখা হবে না। সেই প্রতিশ্রুতিরই বাস্তব রূপ এই নিয়োগ।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বাজেট ভাষণে শূন্যপদে নিয়োগের ঘোষণা করার সময়ই সরকার জানিয়েছিল যে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সেই লক্ষ্যেই দীর্ঘ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আইএএস (IAS) কর্মকর্তা দুষ্মন্ত নারিয়ালা (Dushyant Nariala)-কে কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) তাঁকে রাজ্যের মুখ্যসচিবের দায়িত্ব দিয়েছিল। প্রশাসনিক দক্ষতা এবং দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কারণেই তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের দাবি।

ফেসবুক পোস্টে শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আরও বলেন, নতুন সরকারের কাছে মেধা ও যোগ্যতাই হবে চাকরি পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি। অতীতে নিয়োগকে ঘিরে যে দুর্নীতির অভিযোগ এবং বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি হবে না বলেও আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

সরকারের বক্তব্য, যোগ্য চাকরিপ্রার্থীদের অধিকার রক্ষা করা এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়াই এখন প্রধান লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও একই নীতিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া পরিচালিত হবে এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সংস্কার অব্যাহত থাকবে।

গত কয়েক বছরে শিক্ষক নিয়োগ-সহ একাধিক সরকারি নিয়োগকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েছিল। সেই প্রেক্ষাপটে নতুন চেয়ারম্যান নিয়োগকে শিক্ষা প্রশাসনে আস্থা ফেরানোর গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলের একাংশ। এখন নজর থাকবে, নতুন নেতৃত্বে স্কুল সার্ভিস কমিশন (WBCSSC) কত দ্রুত স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যকর করতে পারে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন