স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে বড় মাইলস্টোন পেরল রাজ্য, কী কী সুবিধা পাবেন পড়ুয়ারা? জানুন বিস্তারিত

Student Credit Card Scheme-এ সুবিধাভোগী ১ লক্ষের মাইলফলক ছুঁল রাজ্য, জানা গেল যোগ্যতা, সুবিধা ও ঋণপ্রাপ্তির খুঁটিনাটি

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের উচ্চশিক্ষার জন্য চালু হওয়া স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পে বড় সাফল্যের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ এদিন একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক স্পর্শ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিক্ষার জন্য কম সুদে ঋণ পাওয়ার এই প্রকল্পে সুবিধাভোগীর সংখ্যা রাজ্যে ১ লক্ষ ছাড়িয়ে গেছে, যা রাজ্যের শিক্ষানীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য।

Primary Keyword: স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড

মুখ্যমন্ত্রী তাঁর অফিসিয়াল X হ্যান্ডেলে পোস্ট করে জানান, স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড স্কিমে আজ ১,০০,০০০-এর বেশি অনুমোদিত আবেদন সম্পন্ন হয়েছে। এই সংখ্যা প্রমাণ করে, প্রকল্পটি রাজ্যের পড়ুয়াদের কাছে কতটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, এই প্রকল্প পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ গঠনে বাস্তবিক সহায়তা করছে এবং তাদের উচ্চশিক্ষার পথকে আরও সহজ করছে।

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে বড় মাইলস্টোন পেরল রাজ্য, কী কী সুবিধা পাবেন পড়ুয়ারা? জানুন বিস্তারিত

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড প্রকল্পটি মূলত অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা, স্বপ্ন ধাওয়া করা পড়ুয়ার জন্য একটি বড় সহায়। বাড়তি খরচ, ফি, কোচিং বা বিদেশে পড়াশোনার পরিকল্পনা—অর্থের অভাবে যাতে কোনও শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থেমে না যায়, সেই লক্ষ্য নিয়েই ২০২১ সালের ৩০ জুন প্রকল্পটি শুরু হয়েছিল। লক্ষ্মীর ভান্ডার বা স্বাস্থ্যসাথীর মতোই এই প্রকল্পকে ‘জনদরদী’ হিসেবে দাবি করছে রাজ্য সরকার।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে আরও জানান, এই প্রকল্পে শিক্ষার্থীরা সর্বাধিক ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত শিক্ষা ঋণ পেতে পারেন, যার সুদের বড় অংশ রাজ্য সরকার নিজেই ভর্তুকি দেয়। কম সুদের হার, সহজ নিয়ম এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিশোধের সুবিধা—সব মিলিয়ে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড এখন বহু পরিবারের ভরসা।

কারা আবেদন করতে পারবেন?

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডে আবেদন করার বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৪০ বছর। আবেদনকারীর পরিবারকে অন্তত ১০ বছর পশ্চিমবঙ্গে বসবাস করতে হবে। ন্যূনতম যোগ্যতা দশম শ্রেণি উত্তীর্ণ হওয়া। স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, পেশাগত কোর্স, ডিপ্লোমা, বিদেশে উচ্চশিক্ষা এমনকি কোচিং সেন্টার—সব ক্ষেত্রেই এই শিক্ষাঋণ পাওয়া যায়।

কী কী সুবিধা পাবেন পড়ুয়ারা? জানুন বিস্তারিত
কী কী সুবিধা পাবেন পড়ুয়ারা? জানুন বিস্তারিত

কোন কোন খাতে ঋণ মিলবে?

টিউশন ফি, ভর্তি ফি, কোচিং ফি, হোস্টেল চার্জ, বাড়িভাড়া, বই-খাতা কেনা, ল্যাপটপ বা কম্পিউটার ক্রয়, ল্যাবরেটরি ফি, পরীক্ষা ফি—প্রায় সব শিক্ষাগত খরচই কভার করে স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড। ফলে ছাত্রছাত্রীদের আর্থিক চাপ অনেকটাই কমে যায়।

সুদ, গ্যারান্টি ও পরিশোধের সুবিধা

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ডের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সুবিধা হল কম সুদে ঋণ পাওয়া। সাধারণ সুদ ৪ শতাংশ। কোর্স চলাকালীন নিয়মিত সুদ পরিশোধ করলে অতিরিক্ত ১ শতাংশ ছাড়ও পাওয়া যায়। আরও বড় সুবিধা—এই ঋণের জন্য কোনও গ্যারান্টর বা জামানত লাগে না; শুধুমাত্র অভিভাবকের তথ্য থাকলেই যথেষ্ট।

ঋণ পরিশোধের সময়সীমা ১৫ বছর, যা পড়ুয়ার উপরে চাপ কমায় এবং পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর চাকরির ভিত্তিতে ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেয়।

রাজ্যের দাবি, প্রান্তিক ও আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পড়ুয়াদের উচ্চশিক্ষায় প্রবেশ সহজ করতেই এই প্রকল্পের জনপ্রিয়তা বাড়ছে। প্রতি বছর বেশি সংখ্যক পড়ুয়া এই সুবিধা পাচ্ছেন, যা রাজ্যের মানবসম্পদ উন্নয়নেও বড় ভূমিকা রাখছে।

স্টুডেন্ট ক্রেডিট কার্ড স্কিম এখন শুধু একটি সরকারি প্রকল্প নয়, বরং হাজার হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্নপূরণের অন্যতম সোপান, যা ভবিষ্যতে আরও বহু তরুণ-তরুণীর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত