বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি হচ্ছেন শমীক ভট্টাচার্য, নেতৃত্বে বড় রদবদল। সুকান্ত মজুমদারের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের পর থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল—বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি কে হবেন? এক বছরের বেশি সময় ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটাতে দিল্লিতে বিজেপি প্রধান জে.পি. নড্ডার বাসভবনে ডাকা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যকে। দলীয় সূত্র বলছে, এই ডাকই কার্যত সিলমোহর দিল আগামী সভাপতি বদলের রূপরেখায়।
বিজেপি নেতৃত্বের ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতির জেরে সুকান্ত মজুমদার দু’টি গুরুদায়িত্ব একসঙ্গে বহন করছেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল। বিধানসভা ভোটের আগেই সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ালে সংগঠন নতুন গতিপ্রাপ্ত হবে—এই তত্ত্বেই জোর দিচ্ছিল দল। ফলে বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি হওয়া প্রয়োজনীয় বলে মনে করছিলেন অনেকেই।
সোমবার সকালে কলকাতা থেকে দিল্লি উড়ে যান শমীক। বাহ্যিক ভাবে বলা হয়েছিল, সংসদীয় কমিটির বৈঠকে যোগ দেবেন। কিন্তু সন্ধ্যায় নড্ডার বাসভবনে গোপন আমন্ত্রণেই নাটকের মোড় ঘোরে। একই আমন্ত্রণপত্র পেয়েছেন নির্বাচনী আধিকারিক রবিশঙ্কর প্রসাদও। দলীয় মহল মনে করছে, দু’জনের একসঙ্গে উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয়—বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমীককে ‘সবুজ সঙ্কেত’ ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি হচ্ছেন শমীক ভট্টাচার্য

প্রথমে শোনা গিয়েছিল, বিদেশফেরত প্রতিনিধিদলকে ‘অপারেশন সিঁদুর’–এর ব্যাখ্যা দিতে ডেকেছেন নড্ডা। কিন্তু প্রতিনিধিরা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেই আলোচনা সারায় সেই তত্ত্ব ভেস্তে যায়। বাস্তবে, ২ জুলাই মনোনয়ন ও ৩ জুলাই ঘোষণার আগে দলের সর্বোচ্চ মহল থেকেই শমীকের কাছে পৌঁছে গেছে স্পষ্ট বার্তা—বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি তিনিই হতে চলেছেন।
শনিবার রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে পর্যবেক্ষক সুনীল বনসল নির্বাচন নির্ঘণ্ট জানিয়ে দেন। ২ জুলাই মনোনয়নপত্র জমা, ৩ জুলাই ‘সভাপতি বরণ’। রবিশঙ্কর প্রসাদ কলকাতায় থেকে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন। সে যৌথ প্রক্রিয়ার শুরু হওয়ার আগেই দিল্লি ডাকে শমীকের উপস্থিতি—এমন সমাপতন যে কাকতালীয় নয়, তা স্পষ্ট।
দীর্ঘদিনের মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য রাজ্যসভার সদস্য হিসেবেও পরিচিত মুখ। প্রবল বক্তা, সাংগঠনিক হাল ধরার দক্ষতার কারণে দিল্লির ভরসা পেয়েছেন বারবার। তাঁর হাত ধরে দল বুথ-স্তরে নিবিড় প্রচারে নামতে চাইছে, জানাচ্ছে সূত্র। দল মনে করে, বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে শমীক মমতা-শাসিত রাজ্যে শক্তিশালী প্রচারক হতে পারেন।
বিধানসভা ভোটে আর মাত্র আট মাস। ঠিক তখনই সভাপতির বদল কি ঝুঁকিবহুল? বিজেপির একাংশ বলছে, বিপরীতে এটি হতে পারে ‘কোর্স কারেকশন’। নতুন মুখ, নতুন ম্যানেজমেন্টে বুথ সশক্তিকরণের পরিকল্পনা দ্রুত মাঠে নামানো যাবে। তাই দলের শীর্ষ স্তরও বিশ্বাসী—বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি হিসাবে প্রয়োজনীয় ভরসা জোগাবেন শমীক।
সংগঠনের নিচের স্তর পর্যন্ত খবর গেছে দিল্লির বৈঠকের। অনেকেই উচ্ছ্বসিত, কেউ কেউ অবশ্য সভাপতি বদলের ‘টাইমিং’ নিয়ে দ্বিধায়। তবে সূত্রের দাবি, বার্তা স্পষ্ট—দুই-তিন দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হবে। ফলে রাজ্য নেতৃত্ব ইতিমধ্যে ‘পূর্ব প্রস্তুতি’ শুরু করেছে।
নতুন সভাপতির শপথের পরেই রাজ্যে বুথ কর্মসূচি, সদস্যপদ নবায়ন, সম্বলিত প্রচার পরিকল্পনা এগোবে। শমীকের সঙ্গে জাতীয় ও রাজ্য পর্যায়ের সমন্বয় আরও মসৃণ হবে বলে আশা করছেন কোর কমিটি। আগামী বিধানসভা লড়াইয়ে নেতৃত্বের এই বদল আদৌ কতটা ফলপ্রদ হবে, তা অবশ্য সময়ই বলবে। আপাতত অবশ্য বিজেপির অন্দরমহলে সবচেয়ে উচ্চারিত বাক্য—বঙ্গ বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য—দলীয় ঘোষণাই এখন শুধু বাকি।
FAQ
প্রশ্ন ১: কেন সুকান্ত মজুমদার সভাপতির পদ ছাড়তে পারেন?
উত্তর: ‘এক ব্যক্তি, এক পদ’ নীতি মেনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্বের পাশাপাশি সভাপতির দায়িত্ব রাখা দল ঠিক মনে করছে না।
প্রশ্ন ২: শমীক ভট্টাচার্যের মূল সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা কী?
উত্তর: তিনি রাজ্য বিজেপির মুখপত্র, রাজ্যসভা সাংসদ এবং বহু বছর ধরে দলের মিডিয়া ও ক্যাডার ম্যানেজমেন্ট সামলেছেন।
প্রশ্ন ৩: সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়া কবে?
উত্তর: ২ জুলাই মনোনয়নপত্র জমা, ৩ জুলাই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও ‘সভাপতি বরণ’ অনুষ্ঠান।
প্রশ্ন ৪: সভাপতি বদল বিধানসভা ভোটের আগে কতটা প্রভাব ফেলবে?
উত্তর: সমর্থকরা মনে করেন নতুন নেতৃত্বে বুথ স্তরে গতি আসবে, তবে বাস্তব পরীক্ষায় ফুটে উঠবে প্রকৃত ফল।



