SIR: বাড়ি গিয়ে প্রতিটি ভোটারের ছবি তুলতে হবে বিএলওদের, ভুল তথ্য দিলে শাস্তি!

ডিজিটাল ভোটার তালিকা তৈরিতে বাড়ি গিয়ে প্রতিটি ভোটারের ছবি তুলতে হবে বিএলওদের, ভুল তথ্য দিলে শাস্তির কথাও স্পষ্ট জানাল কমিশন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

কলকাতা: ভোটার ফটো আপডেট নিয়ে কড়া নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ছবি তুলবেন বিএলওরা। পশ্চিমবঙ্গে ভোটার ফটো আপডেট প্রক্রিয়ায় আরও কড়া নজরদারি চালু করল নির্বাচন কমিশন। নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে—প্রতিটি ভোটারের বাড়ি গিয়ে নির্দিষ্ট অ্যাপের মাধ্যমে তাঁদের ছবি তুলতেই হবে বুথ স্তরের আধিকারিকদের, অর্থাৎ বিএলওদের। যদিও ভোটারদের এনুমারেশন ফর্মে ছবি দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়, তবুও ডিজিটাল রেকর্ড তৈরির প্রয়োজনে এই ভোটার ফটো আপডেট প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এনুমারেশন ফর্মে যদি আগেই পরিষ্কার ছবি দেওয়া থাকে, সে ক্ষেত্রে নতুন করে ছবি তোলার প্রয়োজন নাও পড়তে পারে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিএলওদের ফের ভোটারের বাড়িতে গিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে আপডেটেড ছবি তুলতে হবে। যাঁরা আপাতত ছবি তোলার সময় পাওয়া যাবেন না, তাঁদের ক্ষেত্রে পুরনো ছবি ধরে ফর্ম জমা পড়বে।

SIR: বাড়ি গিয়ে প্রতিটি ভোটারের ছবি তুলতে হবে বিএলওদের, ভুল তথ্য দিলে শাস্তি!

রাজ্যের প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গে ৮০ লক্ষেরও বেশি ভোটারের এনুমারেশন ফর্ম সংগ্রহ করে ইতিমধ্যেই ডিজিটাইজ় করা হয়েছে। ভোটার তালিকা আপডেটে নকল বা ভুয়ো নাম আটকাতে ব্যবহার করা হচ্ছে এআই (Artificial Intelligence) ভিত্তিক সফটওয়্যার, যা সরাসরি ভোটার ফটো আপডেট প্রক্রিয়ার উপর নির্ভর করছে।

SIR: বাড়ি গিয়ে প্রতিটি ভোটারের ছবি তুলতে হবে বিএলওদের, ভুল তথ্য দিলে শাস্তি!
SIR: বাড়ি গিয়ে প্রতিটি ভোটারের ছবি তুলতে হবে বিএলওদের, ভুল তথ্য দিলে শাস্তি!

কমিশনের মতে, ভোটারের মুখের ছবি না-থাকলে বা অস্পষ্ট হলে ভুয়ো তথ্য চিহ্নিত করা কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তাই প্রতিটি বাড়ি গিয়ে ছবি তোলা বাধ্যতামূলক। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, ফর্মে ছবি আটকানো বাধ্যতামূলক নয়, কিন্তু ইচ্ছা করলে ভোটার যে কোনও মাপের ছবি দিতে পারবেন।

এবার নজর দেওয়া যাক কমিশনের নতুন নির্দেশিকায় থাকা আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের দিকে। মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের সঠিক তথ্য জানাতে হবে বিএলওদের। কোনও তালিকায় একই ভোটারের দু’টি এন্ট্রি থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে তা জানাতে হবে। আবার যেসব বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ) একদিনে ৫০টি ফর্ম জমা দিচ্ছেন, তাঁদের প্রত্যেকটি ফর্মে থাকা তথ্য সঠিক কি না তা নিশ্চিত করেই সই করতে হবে।

এখানেই শেষ নয়। ভুল তথ্য দিলে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের ৩১ নম্বর ধারায় এক বছর পর্যন্ত জেল বা জরিমানা বা উভয়ই হতে পারে। অন্যদিকে, বিএলওরা ফর্ম যাচাইয়ের পরে ভুল রেখে দিলে ৩২ নম্বর ধারায় তাঁদের বিরুদ্ধেও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অর্থাৎ পুরো ভোটার ফটো আপডেট প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে কমিশন এবার কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয়।

এনুমারেশন ফর্ম ডিজিটাইজ় হওয়ায় প্রতিটি নথি, তথ্য, স্বাক্ষর, নাম এবং ছবি—সবই ডিজিটাল রেকর্ডে থেকে যাবে। ফলে ভুল তথ্য দিলে সহজেই শনাক্ত করা যাবে। যদি ফর্মে কোনও ভুল থাকে, তা শুধুমাত্র একটি দাগ টেনে কেটে দিয়ে একই সারিতে নতুন তথ্য লিখে সংশোধন করতে বলা হয়েছে।

যাঁরা এখনও এনুমারেশন ফর্ম পাননি, অথচ ২৮ অক্টোবর ২০২৫ পর্যন্ত ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে, তাঁদের টোল ফ্রি নম্বর ১৯৫০ বা ০৩৩-২২৩১-০৮৫০-তে ফোন করতে বলা হয়েছে। চাইলে ৯৮৩০০৭৮২৫০ নম্বরে নিজের নাম, বিধানসভা কেন্দ্র, পার্ট নম্বর এবং সিরিয়াল নম্বর হোয়াটসঅ্যাপ করলেও হবে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গত ৪ নভেম্বর থেকে রাজ্যের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফর্ম বিতরণ শুরু হয়েছে। কমিশনের রবিবার রাত ৮টার বুলেটিন অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে ৯৯ শতাংশের বেশি এনুমারেশন ফর্ম ইতিমধ্যেই বিলি হয়ে গিয়েছে। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ—ভোটার ফটো আপডেট সম্পন্ন করা এবং তা ডিজিটাল রেকর্ডে যোগ করা।

এই কড়াকড়িতে পরিষ্কার, ২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকা আরও স্বচ্ছ এবং নির্ভুল করতে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত