৯ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে SIR-এর মূল রিভিশন পর্ব। এই পর্যায়ে ভোটার তালিকায় সংশোধন করতে হলে ভোটার তথ্য সংশোধন আধার কার্ড বাধ্যতামূলক—এমনটাই জানিয়ে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। যদিও রাজ্যজুড়ে SIR নিয়ে ইতিমধ্যেই প্রশাসনিক চাপ, রাজনৈতিক অভিযোগ এবং মাঠপর্যায়ের কর্মীদের বিভ্রান্তি চরমে। ঠিক সেই সময়ই কমিশনের এই নতুন ঘোষণা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে।
এনুমারেশন ফর্ম জমা দেওয়ার শেষ সময় নিয়েও মঙ্গলবার একাধিক অঞ্চলে বিভ্রান্তি ছড়ায়। অনেক BLO-র কাছেই ভিন্ন তথ্য পৌঁছনোয় তারা রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কমিশন এরপর স্পষ্ট করে দেয়, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ফর্ম জমার শেষ তারিখ ৪ ডিসেম্বরই চূড়ান্ত।

কমিশন বলছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে SIR-এর জন্য আধার কার্ডকে ‘গ্রহণযোগ্য নথি’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ফলে এখন অনলাইনে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করতে গেলে আধার নম্বর ব্যবহার করে ই-স্বাক্ষর করতে হচ্ছে। একই নিয়ম প্রযোজ্য হবে ৯ ডিসেম্বরের পর প্রকাশিত খসড়া ভোটার তালিকায় সংশোধন, নাম বাদ বা নতুন নাম তোলার সময়ও।
ভোটার তথ্য সংশোধন আধার কার্ড বাধ্যতামূলক হওয়ায় সংশোধন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে কমিশনের দাবি। তবে আধার কার্ডকে নাগরিকত্বের নথি হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না। কমিশনের এক কর্তা জানাচ্ছেন, আধার শুধুমাত্র পরিচয় যাচাইয়ের মাধ্যম, নাগরিকত্ব নির্ধারণের নথি নয়।
এই পর্যায়ে জমা পড়া ফর্মের মধ্যে পাঁচ কোটিরও বেশি ডিজিটাইজড হয়েছে। মোট বিলি হওয়া ফর্মের প্রায় ৭০ শতাংশ ইতিমধ্যেই কমিশনের পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। BLO-দের ওপর সার্ভারের চাপ কমাতে ছোট বুথগুলির ক্ষেত্রে ২৫ থেকে ২৮ নভেম্বরের মধ্যে কাজ সারার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।
৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিলি, জমা ও আপলোডের কাজ চলবে। এরপর ৯ ডিসেম্বর প্রকাশ হবে খসড়া ভোটার তালিকা এবং শুরু হবে রিভিশন পর্ব। এই সময় মৃত ভোটার, অন্য রাজ্যে মাইগ্রেটেড ভোটার কিংবা মাল্টিপল এন্ট্রি চিহ্নিত করে বাদ দেওয়ার কাজ চলবে। সঙ্গে ৮ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে তথ্য সংশোধন এবং ৬ নম্বর ফর্মের মাধ্যমে নতুন ভোটার যুক্ত করার প্রক্রিয়াও চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।
কমিশন আবারও জানাচ্ছে, এই সব ক্ষেত্রেই ভোটার তথ্য সংশোধন আধার কার্ড বাধ্যতামূলক এবং ই-স্বাক্ষরের মাধ্যমে ফর্ম যাচাই করতে হবে। প্রয়োজন হলে পাসপোর্ট বা অন্যান্য নথিও জমা দিতে হবে।
এদিকে আন্দোলনে থাকা BLO অধিকার রক্ষা মঞ্চ বুধবার সন্ধ্যায় অবস্থান তুলে নিয়েছে, যা কমিশনের কাজে স্বস্তি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ভোটার তালিকা আপডেটের এই কেন্দ্রীয় প্রক্রিয়া উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। কমিশনের মতে, নির্ভুল তালিকা তৈরিতে আধার যুক্ত হওয়াই দ্রুততম সমাধান।







