উত্তর গোলার্ধ যখন শীতের কামড়ে কাঁপছে, ঠিক তখনই দক্ষিণ গোলার্ধে তীব্র তাপপ্রবাহ আর দাবানলে জ্বলছে অস্ট্রেলিয়া। ভিক্টোরিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে ভয়াবহ আগুনে ঘরছাড়া হাজার হাজার মানুষ। মুহূর্তে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে বন, বসতি আর জীববৈচিত্র্য—২০১৯–২০ সালের বিভীষিকাময় ‘ব্ল্যাক সামার’-এর স্মৃতি ফের আতঙ্ক ছড়াচ্ছে দেশজুড়ে।
দাবানলের সবচেয়ে ভয়াবহ চিত্র ধরা পড়েছে Victoria-তে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ইতিমধ্যেই ৩ লক্ষ হেক্টরের বেশি বনভূমি পুড়ে গিয়েছে। আগুনে ছাই হয়ে গিয়েছে অন্তত ১১৯টি বাড়ি। কয়েক হাজার বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। পরিস্থিতির জেরে প্রায় ৩৮ হাজার বাড়ি ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ পরিষেবা বিচ্ছিন্ন।
দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে, ভিক্টোরিয়া জুড়ে এই মুহূর্তে ৬৭টি জায়গায় দাবানল জ্বলছে, যার মধ্যে অন্তত ১০টি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে। লংউড, রেভেন্সউড এবং ওয়ালওয়ার বিস্তীর্ণ অংশ কার্যত ভস্মীভূত। নতুন করে আগুন ছড়িয়েছে গ্রেট ওটওয়ে অঞ্চলেও। কেপ ওটওয়ে ও মেইটস রেস্টের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তর।
হাজার হাজার দমকলকর্মী দিন-রাত এক করে আগুন নেভানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে Country Fire Authority-র প্রধান জেসন হেফারনান স্পষ্ট জানিয়েছেন, কবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে সে বিষয়ে এখনই আশাবাদী কিছু বলা সম্ভব নয়। তাঁর কথায়, “গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে একাধিক জায়গায় আগুন ছড়িয়েছে। যে কোনও মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।”
দাবানলের প্রভাব পড়েছে জনজীবনেও। ভিক্টোরিয়ার একাধিক পার্ক ও ক্যাম্পগ্রাউন্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জরুরি পরিষেবা সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণে Anthony Albanese বলেন, “ভিক্টোরিয়ার বড় অংশকে দুর্যোগপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। যাঁরা ঘরবাড়ি ও পরিবার হারিয়েছেন, এই কঠিন সময়ে গোটা অস্ট্রেলিয়া তাঁদের পাশে রয়েছে।” দমকলকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকদের সাহসিকতার ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, তীব্র তাপপ্রবাহ ও খরার জেরে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে অস্ট্রেলিয়ায় ফের ‘ব্ল্যাক সামার’-এর মতো ভয়াবহ অধ্যায় ফিরে আসতে পারে।



