প্রয়াত ভদ্রা বসু, বাংলা বিনোদনে নেমে এল শোকের ছায়া

নাট্যজগতের প্রভাবশালী মুখ, অভিনেত্রী ভদ্রা বসুর প্রয়াণে স্তব্ধ থিয়েটার ও টলিউড

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলা থিয়েটার ও সিনেমার অমূল্য সম্পদ প্রয়াত ভদ্রা বসু আর নেই। অসাধারণ অভিনয় প্রতিভা এবং নিখুঁত নাট্যনির্দেশনার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্রদ্ধেয় ছিলেন শিল্পমহলে। বর্ষীয়ান এই অভিনেত্রীর প্রয়াণে শোকের ছায়া নেমে এসেছে সমগ্র বিনোদন জগতে।

প্রখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব অসিত বসুর স্ত্রী প্রয়াত ভদ্রা বসু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারাবাহিকভাবে একাধিক উল্লেখযোগ্য ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। সুমন মুখোপাধ্যায়ের ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ এবং অনিলাভ চট্টোপাধ্যায়ের ‘বেলা’ ছবিতে তাঁর অভিনয় নতুন প্রজন্মকেও মুগ্ধ করেছে। ‘বেলা’ই শেষবার বড়পর্দায় দেখা যায় তাঁকে।

শুধু সিনেমাই নয়, নাট্যমঞ্চ ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় ক্ষেত্র। পরিচালনার দক্ষতায় তিনি সৃষ্টি করেছিলেন বহু স্মরণীয় নাটক। তাঁর নির্দেশিত ‘গওহরজান’ আজও থিয়েটারপ্রেমীদের মনে বিশেষ জায়গা করে আছে। অভিনয় ও পরিচালনায় তাঁর স্বতন্ত্র দৃষ্টিভঙ্গি তাঁকে আলাদা করে চিনিয়েছে।

অভিনেত্রীর দুই মেয়ে দামিনী বসু এবং আনন্দী বসু বহু দিন ধরেই নাট্যমঞ্চে সক্রিয়। মায়ের মতোই তাঁরা মঞ্চের দুনিয়ায় প্রতিষ্ঠিত নাম। মাকে হারিয়ে আবেগে ভেঙে পড়েছেন দামিনী। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লিখেছেন শোকবার্তা, যা দেখে শিল্পমহলও আবেগাপ্লুত।

প্রয়াত ভদ্রা বসু–র মৃত্যুতে সহকর্মীরাও স্মৃতিচারণায় ভেসে যাচ্ছেন। অভিনেতা সোহন বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা মনে করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “আর তো কেউ বলবে না পাকামি করিস না, কানটা মুলে দেব।” তাঁর এই বাক্যে প্রকাশ পেয়েছে অভিনেত্রীর সঙ্গে গভীর স্নেহের সম্পর্ক।

বছরের পর বছর বাংলা নাট্যমঞ্চ সমৃদ্ধ করেছেন ভদ্রা বসু। অগণিত সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী ও দর্শকের হৃদয়ে তিনি রেখে গেছেন এক অমলিন ছাপ। তাঁর প্রয়াণে বাংলা বিনোদন দুনিয়া হারাল এক নিবেদিতপ্রাণ শিল্পী, যে শূন্যতা সহজে ভরাট হবে না।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত