ভারতী ঘোষ, যিনি একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের “স্নেহভাজন” ছিলেন, বর্তমানে বিজেপির নেত্রী। সম্প্রতি, ভারতী ঘোষের নাম উঠে এসেছে CBI-র চার্জশিটে। অভিযোগ উঠেছে যে, তিনি ২০১৪ সালে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে চাকরির জন্য ৪ জনের তালিকা সুপারিশ করেছিলেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই দাবি করেছে যে, সেই তালিকায় তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতাদের পাশাপাশি ভারতী ঘোষের নামও রয়েছে। এই চার্জশিট প্রকাশিত হওয়ার পর, ভারতী ঘোষ তার বিরুদ্ধে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
চাকরির সুপারিশের জন্য ভারতী ঘোষের নাম এবং অন্য নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ


২০১৪ সালের প্রাথমিক নিয়োগের সময়, চাকরিপ্রার্থীদের ৩২৪ জনের নাম সুপারিশ করা হয়েছিল, এবং সেই তালিকায় ভারতী ঘোষের নামও ছিল। CBI এর তদন্ত অনুযায়ী, ওই তালিকার মধ্যে তৃণমূল সাংসদ মমতা ঠাকুর, বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষ, এবং তৃণমূল নেতা দিব্যেন্দু অধিকারীর নাম রয়েছে। যদিও, ভারতী ঘোষ সমস্ত অভিযোগ নাকচ করে বলেছেন, “আমি কখনও এই ধরনের কাজ করিনি। আমি সবসময় আইনের গণ্ডির মধ্যে থেকে কাজ করেছি।”
CBI তদন্ত এবং ভারতী ঘোষের প্রতিক্রিয়া
সিবিআই জানিয়েছে, ২০২৪ সালের জুন মাসে নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে তল্লাশি চালিয়ে একটি নথি উদ্ধার করা হয়েছে। এই নথিতে ২০১৪ সালের প্রাথমিক টেটের চাকরিপ্রার্থীদের নাম এবং তাদের সুপারিশকারীদের নাম রয়েছে। তবে, ভারতী ঘোষের দাবি, তিনি শুধুমাত্র মানুষের সাহায্য করেছেন, এবং যদি তার নামে কোনো ভুল উপস্থাপন করা হয়, তাহলে তিনি পুরোপুরি পরিষ্কার হতে চান।


সিবিআই তদন্তে নতুন দিক
এছাড়া, ২০১৩ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত পশ্চিম মেদিনীপুরের পুলিশ সুপার হিসেবে ভারতী ঘোষের কর্মজীবন এবং তৃণমূল সরকারের সঙ্গে তার সম্পর্কও তদন্তের আওতায় এসেছে। সিবিআই-র দাবি, তদন্তে আরও কিছু বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসতে পারে।
বিশ্বস্ততা এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি
ভারতী ঘোষের রাজনৈতিক ইতিহাস এবং তার তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগদান একটি বিশেষ রাজনৈতিক মোড় নেয়। তৃণমূল সরকারের সময় তার প্রভাব এবং বর্তমানে বিজেপিতে তার অবস্থান রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সিবিআই-র তদন্তে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতির আরও নানা দিক উঠে আসছে।








