জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা আরও জোরদার করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র। ‘বন্দে মাতরম’ গাওয়ার সময় কীভাবে আচরণ করতে হবে, কোন অনুষ্ঠানে বাজবে, আর জাতীয় সঙ্গীতের সঙ্গে গাওয়ার ক্রম কী হবে—সব মিলিয়ে নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। বুধবার প্রকাশিত এই গাইডলাইনে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, জাতীয় গান গাওয়া বা বাজানো হলে উপস্থিত সবাইকে দাঁড়িয়ে সম্মান জানাতে হবে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’-এর অফিশিয়াল সংস্করণ গাওয়া বা বাজানো হলে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত সকলকেই দাঁড়িয়ে সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। একই সঙ্গে জানানো হয়েছে, যদি জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’ এবং জাতীয় গান একসঙ্গে পরিবেশিত হয়, তবে আগে গাওয়া হবে ‘বন্দে মাতরম’, তার পরে ‘জন গণ মন’।


মন্ত্রকের বক্তব্য, জাতীয় গানকে যথাযথ মর্যাদা দিতে এবং অনুষ্ঠানে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, জাতীয় গান পরিবেশনের সময় সম্মানজনক পরিবেশ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক।
তবে একটি ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়া হয়েছে। যদি কোনও নিউজ়রিল বা তথ্যচিত্রের অংশ হিসেবে ‘বন্দে মাতরম’ বাজানো বা দেখানো হয়, তাহলে সেখানে দাঁড়িয়ে সম্মান জানানোর বাধ্যবাধকতা থাকবে না। কারণ এতে ভিডিও বা চলচ্চিত্র প্রদর্শনে বিঘ্ন ঘটতে পারে।
নতুন নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের লেখা ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবকই এখন বাজানো হবে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস আমলে বাদ দেওয়া চারটি স্তবকও এবার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


এছাড়া, পদ্ম পুরস্কারের মতো নাগরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠান এবং রাষ্ট্রপতি উপস্থিত থাকেন এমন অনুষ্ঠানে আগমন ও প্রস্থানের সময় ‘বন্দে মাতরম’ বাজানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রক জানিয়েছে, জাতীয় গান গাওয়ার সময় অফিশিয়াল সংস্করণ অনুযায়ী গণসঙ্গীত আকারে তা পরিবেশন করতে হবে, যাতে সবাই একসঙ্গে অংশ নিতে পারেন। স্কুলগুলির প্রতিও বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—তাদের কর্মসূচিতে জাতীয় গান ও জাতীয় সঙ্গীতকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে জাতীয় পতাকার প্রতি সম্মানবোধ গড়ে তুলতে উদ্যোগ নিতে হবে।
কেন্দ্রের দাবি, নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা এবং জাতীয় প্রতীকের প্রতি সম্মান আরও বৃদ্ধি করতেই এই নতুন পদক্ষেপ।







