দেশাত্মবোধের গান ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের নতুন নির্দেশিকা জারি হতেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। সরকারি অনুষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট নিয়মে গানটি পরিবেশনের নির্দেশকে অসাংবিধানিক আখ্যা দিয়ে সরব হয়েছে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড (এআইএমপিএলবি)। তাদের দাবি, এই নির্দেশিকা সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার পরিপন্থী।
বুধবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের তরফে জারি হওয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সমস্ত সরকারি অনুষ্ঠান এবং স্কুলে জাতীয় সঙ্গীত ‘জন গণ মন’-এর পরেই ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করতে হবে। যেসব অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত থাকবেন, তাঁর আগমন ও প্রস্থানের সময়ও এই গান বাজাতে হবে। পদ্ম পুরস্কারের মতো নাগরিক সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানেও গানটি পরিবেশনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে সিনেমা হলে গানটি বাজানো বাধ্যতামূলক নয় বলেই স্পষ্ট করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, ‘বন্দে মাতরম’-এর ছ’টি স্তবকই পরিবেশন করতে হবে। উল্লেখযোগ্য, ১৯৩৭ সালে কংগ্রেস আমলে গানটির চারটি স্তবক বাদ দেওয়া হয়েছিল। কেন্দ্রের যুক্তি, নাগরিকদের মধ্যে দেশপ্রেম ও শৃঙ্খলা জাগিয়ে তুলতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই নির্দেশিকার বিরোধিতা করে মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটি সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরিপন্থী এবং সংখ্যালঘুদের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করে। বোর্ডের দাবি, গানটির কয়েকটি অংশে দুর্গা ও অন্যান্য দেবদেবীর উল্লেখ রয়েছে, যা ইসলামের একেশ্বরবাদী বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তাদের বক্তব্য, এ ধরনের নির্দেশ ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধের বিরোধী।
কেন্দ্রের এই নির্দেশিকা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বোর্ড। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়েছে, নির্দেশিকা প্রত্যাহার না করা হলে তারা আদালতের দ্বারস্থ হবে।











