মাত্র ১৪ বছর বয়সেই ভারতীয় ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে বিহারের কিশোর প্রতিভা Vaibhav Suryavanshi। বয়সের গণ্ডি পেরিয়ে একের পর এক নজির গড়ে ফেলার স্বীকৃতি হিসেবে এ বার দেশের সর্বোচ্চ শিশু সম্মান—প্রধানমন্ত্রী জাতীয় শিশু পুরস্কার পেলেন তিনি। শুক্রবার নয়াদিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি নিজে এই সম্মান তুলে দেন বৈভবের হাতে।
অনুষ্ঠানের সময়টিই ছিল তাৎপর্যপূর্ণ। একই দিনে বিজয় হাজারে ট্রফিতে বিহার দলের ম্যাচ থাকলেও দলের অন্যতম ভরসার ব্যাটসম্যান বৈভব হাজির ছিলেন Vigyan Bhavan-এ। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা শিশুদের সঙ্গে তাঁর নাম ঘোষণার মুহূর্তে করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে গোটা সভাকক্ষ।



রাষ্ট্রপতি Droupadi Murmu বৈভবের হাতে পুরস্কার তুলে দিয়ে বলেন, “ক্রিকেটের মতো কঠিন প্রতিযোগিতামূলক জগতে বৈভব নিজের জায়গা তৈরি করেছে। ও ইতিমধ্যেই একাধিক রেকর্ড গড়েছে। তবে মনে রাখতে হবে—এটা তো কেবল শুরু। তোমার মতো মেধাবী শিশুরা দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে।” রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য উপস্থিত অনেক শিশুর কাছেই অনুপ্রেরণার বার্তা হয়ে ওঠে।
বিহারের সমস্তিপুরের বাসিন্দা বৈভব অল্প বয়সেই ক্রিকেটে বিস্ময় জাগিয়েছেন। আইপিএলের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সে মাঠে নামা খেলোয়াড় হওয়া থেকে শুরু করে দ্রুততম শতরানের নজির—সব মিলিয়ে তাঁর উত্থান নজর কেড়েছে ক্রিকেটমহলের। এই কৃতিত্বগুলির স্বীকৃতি হিসেবেই তাঁকে জাতীয় শিশু পুরস্কারে সম্মানিত করা হয়েছে।


অনুষ্ঠানে বৈভবকে দেখা যায় কমলা রঙের ব্লেজার ও সাদা কুর্তা-পাজামায়। পুরস্কার গ্রহণের সময় তাঁর আত্মবিশ্বাসী উপস্থিতি যেমন চোখে পড়ে, তেমনই বোঝা যায় দেশের ক্রিকেট ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁর স্বপ্ন কতটা দৃঢ়।
এই সম্মান শুধু বৈভবের নয়, তাঁর পরিবারের কাছেও গর্বের মুহূর্ত। বৈভবের দাদা Ujjwal Suryavanshi সোশ্যাল মিডিয়ায় অনুষ্ঠানের ছবি ভাগ করে লেখেন, “আমাদের জন্য আজ গর্বের দিন। দেশের রাষ্ট্রপতির হাত থেকে বৈভব শিশু পুরস্কারে সম্মানিত হল, এবং তাঁর প্রশংসাও শুনল।”
ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের মতে, এই স্বীকৃতি বৈভব সূর্যবংশীর যাত্রাপথে শুধু একটি মাইলফলক। সামনে তাঁর জন্য আরও বড় মঞ্চ, আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে—আর সেই পথচলার অনুপ্রেরণা হয়ে রইল রাষ্ট্রপতির কথাই: এটা তো সবে শুরু।







