বড় মঞ্চে বড় পারফরম্যান্স—শুক্রবার সেটাই করে দেখাল ভারত। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানে উড়িয়ে ট্রফি তুলল ভারত, আর সেই জয়ের কেন্দ্রে দাঁড়িয়ে এক নাম—Vaibhav Suryavanshi। ফাইনালের চাপ, প্রতিপক্ষের আক্রমণ—কিছুই যেন তাঁর অভিধানে নেই। ৮০ বলে ১৭৫ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলিয়ে বুঝিয়ে দিলেন, ভবিষ্যতের তারকা হয়ে ওঠার সব উপাদানই তাঁর মধ্যে রয়েছে।
প্রথমে ব্যাট করে ভারত তোলে ৪১১/৯। জবাবে ইংল্যান্ড থামে ৩১১ রানে। শেষদিকে Caleb Faulkner শতরান করেও ম্যাচের রং বদলাতে পারেননি। এই জয়ে ভারতের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ সংখ্যা দাঁড়াল ছ’টিতে—আরও একবার প্রমাণিত হল যুব ক্রিকেটে ভারতের একচ্ছত্র আধিপত্য।


গত তিন বছরে ভারতের বিশ্বজয়ের তালিকা আরও গৌরবময়। পুরুষ ও মহিলা মিলিয়ে পাঁচটি বিশ্বকাপ এসেছে দেশের ঘরে—মহিলাদের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দু’বার, গত বছর মেয়েদের একদিনের বিশ্বকাপ, ২০২৪ সালে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ, আর এ বার ছেলেদের অনূর্ধ্ব-১৯ ট্রফি। ক্রিকেটবিশ্বে এই ধারাবাহিকতা বিরল।

অনূর্ধ্ব-১৯ পর্যায়ে ভারতের দাপট নতুন নয়। টানা ছ’বার ফাইনালে ওঠা, মাঝখানে একবার অস্ট্রেলিয়ার কাছে হার—সব মিলিয়ে ধারাবাহিক সাফল্যের পেছনে ছিল পরিকল্পিত প্রস্তুতি। একসময় এই দল নিয়ে সংশয় তৈরি হলেও বোর্ড দ্রুত বুঝেছিল, শুধু আইসিসি টুর্নামেন্ট খেলালে চলবে না। তাই দ্বিপাক্ষিক সিরিজের সংখ্যা বাড়ানো হয়। অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট ও একদিনের সিরিজ, এশিয়া কাপ জয়, বিশ্বকাপের আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে সিরিজ—সব মিলিয়ে ম্যাচ অনুশীলনে ঘাটতি থাকেনি।
ফল মিলেছে মাঠে। এক জন ব্যর্থ হলে অন্য জন চাপ সামলেছেন। ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং—সব বিভাগেই সমান অবদান। তবে ফাইনালে আলো কেড়েছেন বৈভব। শুরুতে তিন বলে শূন্য, চতুর্থ বলে বাউন্ডারি—এরপর আর থামেননি। ৩২ বলে অর্ধশতরান, ৫৫ বলে শতরান। ১৫টি চার ও ১৫টি ছয়—রেকর্ডবুক কাঁপানো ইনিংস। নিশ্চিত দ্বিশতরান সামনে থাকলেও আউট হওয়ার পর কোনও আক্ষেপ নেই—ব্যাট উঁচু করে গোটা মাঠের অভিবাদন গ্রহণ করেছেন তিনি।


ইংল্যান্ডের বোলারদের কেউই বৈভবের আগ্রাসন থামাতে পারেননি। Farhan Ahmed, Alex Green, Ralphie Albert—একই পরিণতি সবার। অধিনায়ক Thomas Rew-এর সব পরিকল্পনা ভেস্তে যায়।
ভারতের হয়ে অধিনায়ক Ayush Mhatre অর্ধশতরান করেন, Abhigyan Kundu-র ৪০, Bihan Malhotra-র ৩০—সব মিলিয়ে চারশোর গণ্ডি পেরোয় স্কোর।
জবাবে ইংল্যান্ডের শুরু ধীর হলেও মাঝপথে জুটি গড়ে তোলে। কিন্তু একসঙ্গে উইকেট পড়তেই ভেঙে পড়ে ইনিংস। ভারতের বোলাররা চাপ ধরে রাখেন। শেষদিকে ফ্যালকনারের লড়াই সম্মানজনক হলেও ফল বদলায়নি।
ভারতের যুব ক্রিকেট যে এখন বিশ্বসেরা—এই ফাইনাল তার জ্বলন্ত প্রমাণ।








