মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক রায়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক বাতিল—ভারতের উপর ১৮ শতাংশ শুল্ক নেমে এল ১০ শতাংশে। আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) ব্যবহার করে বাড়তি ট্যারিফ চাপানোর সিদ্ধান্তকে বেআইনি বলেছে আদালত। তবে ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ধারা ১২২ অনুযায়ী নতুন করে ১০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছেন ট্রাম্প, যা কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ১৫০ দিনের বেশি কার্যকর রাখা যাবে না। ফলে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হল।
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে একক সিদ্ধান্তে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা সংবিধানসম্মত নয়, কারণ এতে কংগ্রেসের অনুমোদন নেই। আদালতের পর্যবেক্ষণ—রাষ্ট্রপতি ক্ষমতার সীমা লঙ্ঘন করেছেন। রায়ের পরেই হোয়াইট হাউস বিবৃতি দিয়ে জানায়, আইইইপিএ-র আওতায় আরোপিত অতিরিক্ত শুল্ক আর কার্যকর থাকবে না এবং দ্রুত তা আদায় বন্ধ করা হবে।


এর ফলে ভারতের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন ঘটে। আগে দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার ভিত্তিতে ১৮ শতাংশ শুল্ক প্রযোজ্য ছিল। এখন সেই অতিরিক্ত অংশ বাতিল হয়ে স্বাভাবিক কাঠামোয় ১০ শতাংশে নেমে এসেছে। তবে ট্রাম্প নতুন কৌশল হিসেবে ১৯৭৪ সালের মার্কিন বাণিজ্য আইনের ১২২ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে সব দেশের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন। এই ধারা অনুযায়ী, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ১৫০ দিনের বেশি শুল্ক কার্যকর রাখা যায় না।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে নতুন ১০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হতে পারে। অর্থাৎ আপাতত ১৫০ দিনের জন্য ভারত-সহ অন্যান্য দেশকে এই হারে শুল্ক দিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়কে ‘অত্যন্ত হতাশাজনক’ বলে মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, শুল্ক আদায়ের আরও বিকল্প পথ তাঁর হাতে রয়েছে। তবে ভারতের সঙ্গে হওয়া বাণিজ্য সমঝোতা অপরিবর্তিত থাকবে বলেই জানিয়েছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ভারতের সঙ্গে একটি ন্যায্য সমঝোতা করেছি। এটি অপরিবর্তিত থাকছে।”


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় মার্কিন প্রশাসনিক ক্ষমতার সীমা স্পষ্ট করে দিল। একই সঙ্গে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন আইনি কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হবে। ১৫০ দিনের সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে কংগ্রেসের ভূমিকা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।








