তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা? অতলান্তিকে রুশ তেলবাহী জাহাজ দখল মার্কিন মেরিনের, কড়া প্রতিক্রিয়া মস্কোর

অতলান্তিক ও ক্যারিবিয়ানে তেলবাহী জাহাজ দখল ঘিরে আমেরিকা-রাশিয়া সংঘাত তীব্র, নিষেধাজ্ঞা অমান্যের অভিযোগে মস্কোর বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ওয়াশিংটনের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

আন্তর্জাতিক উত্তেজনার পারদ নতুন করে চড়াল অতলান্তিক মহাসাগরের ঘটনা। রুশ প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin-এর পাঠানো নৌবহরের পাহারা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার তেল পরিবহণে যুক্ত তেলবাহী জাহাজ ‘বেলা–১’ দখল করল United States Marine Corps। একই সঙ্গে ক্যারিবিয়ান সাগরে ‘সোফিয়া’ নামের আর একটি তেলবাহী জাহাজের নিয়ন্ত্রণ নেয় United States Coast Guard। ওয়াশিংটনের দাবি, দু’টি জাহাজই মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভেনেজুয়েলা থেকে তেল পরিবহণে যুক্ত ছিল—আর সেই অভিযোগকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন।

মার্কিন সেনার ইউরোপীয় কমান্ড জানিয়েছে, ‘বেলা–১’ ট্যাঙ্কারটিকে আইসল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের মধ্যবর্তী অতলান্তিক অঞ্চলে আটক করা হয়। অন্য দিকে, মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতরের সচিব Kristi Noem আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘সোফিয়া’ দখলের কথা ঘোষণা করেন। ঘটনার পরপরই মস্কো কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়ে রুশ নাবিকদের সঙ্গে মানবিক আচরণ এবং তাঁদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানোর দাবি তোলে।

Shamim Ahamed Ads

ঘটনাপ্রবাহের নেপথ্যে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম The Wall Street Journal-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে—সোমবার থেকেই অতলান্তিকে রুশ তেলবাহী জাহাজটির পিছু নেয় মার্কিন নৌসেনা। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে মঙ্গলবার রাতে পুতিনের নির্দেশে ডুবোজাহাজ ও যুদ্ধজাহাজ পাঠানো হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, আইসল্যান্ড উপকূল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে ‘বেলা–১’-কে অনুসরণ করছিল একাধিক মার্কিন বিমান ও হেলিকপ্টার। তখন থেকেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, হোয়াইট হাউসের নির্দেশে ট্যাঙ্কারটি দখল করতে পারে পেন্টাগন।

অতলান্তিকে রুশ তেলবাহী জাহাজ দখল মার্কিন মেরিনের, কড়া প্রতিক্রিয়া মস্কোর
অতলান্তিকে রুশ তেলবাহী জাহাজ দখল মার্কিন মেরিনের, কড়া প্রতিক্রিয়া মস্কোর

রুশ বিদেশ দফতর জানিয়েছিল, তারা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে। একই সঙ্গে তিন জন মার্কিন সেনাকর্তা সংবাদ সংস্থা Reuters-কে জানান, জাহাজটির উপর কোনও সামরিক হামলা না চালানোর অনুরোধ করেছিল মস্কো। অতীতে ইরানের তেল পরিবহণে ব্যবহৃত হলেও, পরে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ভেনেজুয়েলা সরকার ‘বেলা–১’-কে তেল পরিবহণে ব্যবহার করছিল বলে অভিযোগ ওয়াশিংটনের।

ডিসেম্বরে ক্যারিবিয়ান সাগরেই জাহাজটি দখলের চেষ্টা করেছিল মার্কিন উপকূলরক্ষী বাহিনী—তখন তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছিল ভেনেজুয়েলা। সেই সময় ট্যাঙ্কারটিতে গায়নার পতাকা থাকলেও পরে তাতে রাশিয়ার পতাকা ওড়ানো হয়। সরাসরি ‘বেলা–১’-এর নাম না করে মার্কিন সেনার সাদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, অতলান্তিক অঞ্চলে ‘নিষিদ্ধ’ ঘোষিত জাহাজ ও অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের বিরুদ্ধে প্রয়োজন হলে তারা ব্যবস্থা নেবে। একই যুক্তিতেই ‘সোফিয়া’ দখল করা হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর।

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট Nicolás Maduro-কে ঘিরে সাম্প্রতিক টানাপোড়েনের আবহে এই ঘটনা ওয়াশিংটন–মস্কো সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা। বিশেষ করে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর নিষেধাজ্ঞা নীতির প্রেক্ষিতে রুশ জাহাজ দখলের এই পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে—উত্তেজনা কি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, নাকি সংঘাতের পথে এগোচ্ছে দুই শক্তিধর দেশ?

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত