দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও কবে নিয়োগ হবে, সেই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়ায় ক্ষোভে ফুটছে উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীরা। সোমবার সকাল থেকেই বিধাননগরে জমায়েত হয়ে বিকাশ ভবনের উদ্দেশে মিছিল শুরু করেন অপেক্ষমাণ ১,২৪১ জন প্রার্থী। তাঁদের অভিযোগ—হাই কোর্টের নির্দেশ সত্ত্বেও মাসের পর মাস কেটে যাচ্ছে, কিন্তু শিক্ষা দফতর কোনো পদক্ষেপই করছে না।
বিকাশ ভবনের দিকে যাত্রা শুরু হতেই করুণাময়ী মোড়ে কয়েকজন চাকরিপ্রার্থীকে আটক করে পুলিশ। পরে মিছিল এগোতে থাকলে ময়ূখ ভবনের সামনে পুরো দলকে আটকে দেওয়া হয়। সেখানেই শুরু হয় বিক্ষোভ, স্লোগান ওঠে—“কবে নিয়োগ?” অবশেষে সিদ্ধান্ত হয়, কয়েকজন প্রতিনিধি বিকাশ ভবনে স্মারকলিপি জমা দেবেন।


এই বিক্ষোভের পেছনে মূল ক্ষোভের কারণ—হাই কোর্টের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নিয়োগ সম্পূর্ণ হয়নি। কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আগেই জানিয়েছিল, ২০ নভেম্বর ২০২৫-এর মধ্যে ১,২৪১ জন অপেক্ষমাণ প্রার্থীর নিয়োগ শেষ করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে স্কুল সার্ভিস কমিশন সেই প্রক্রিয়া এখনও শেষ করেনি। আদালতের নির্দেশ অমান্য করেই চলেছে নিয়োগের সার্বিক জট।
কবে হবে নিয়োগ? বিকাশ ভবন অভিযান উচ্চ প্রাথমিক চাকরিপ্রার্থীদের, তুমুল বিক্ষোভ

উচ্চ প্রাথমিক চাকরিপ্রার্থীদের সংগঠনের নেতা সুশান্ত ঘোষ বলেন, “২০২৪-এর অগস্টে আদালত নির্দেশ দিয়েছিল। ইতিমধ্যে কেটে গেছে ১৪ মাস। কিন্তু এখনও নিয়োগ শেষ হল না। কত দিন অপেক্ষা করবো? সরকার স্পষ্ট করে বলুক—কবে নিয়োগ সম্পূর্ণ হবে।”
গত আট দফায় মোট ১২,৭২৩ জনের কাউন্সেলিং হয়েছে। জুলাই মাসে হয় অষ্টম দফার কাউন্সেলিং। তারপর থেকে আর কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেনি এসএসসি। নিয়োগ আটকে থাকায় বহু প্রার্থী ইতিমধ্যে মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক চাপে ভুগছেন। কেউ চাকরি ছেড়েছেন, কেউ বেসরকারি স্কুলে সামান্য টাকায় কাজ করছেন এই আশায়—একদিন সরকারি চাকরি হাতে আসবে।


প্রার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিন একের পর এক প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তব পদক্ষেপ শূন্য। তাঁদের কথায়, “প্রায় দেড় বছর ধরে শুধু অপেক্ষাই করছি। হাই কোর্টের নির্দেশ পর্যন্ত মানা হচ্ছে না। তাহলে আমরা কোথায় যাব?”
হাই কোর্টের এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে ২৭ নভেম্বর। আদালত ইতিমধ্যেই এসএসসি ও শিক্ষা দফতরকে কঠোর ভাষায় জানিয়েছে—নিয়োগে দেরি চলতে থাকলে তা আদালত অবমাননা হিসেবে ধরা হবে। অনেক প্রার্থী এ নিয়ে ইতিমধ্যেই আদালত অবমাননার মামলা করেছেন।
এদিকে পুলিশি বাধা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। কেন শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে বারবার বাধা দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে ক্ষুব্ধ আন্দোলনকারীরা। তাঁদের বক্তব্য, যদি সরকারের কাছে কোনো জবাব না থাকে, তাহলে অন্তত আলোচনা করতে দেওয়া উচিত। কিন্তু তা-ও করা হচ্ছে না।
দীর্ঘ আট দফা কাউন্সেলিংয়ের পরই আশা ছিল এবার হয়তো নিয়োগ সম্পন্ন হবে। কিন্তু নিয়োগ প্রক্রিয়ার অগ্রগতি সম্পূর্ণ থমকে গিয়েছে। শিক্ষা দফতর ও এসএসসি-র নীরবতায় ভর করে চাকরিপ্রার্থীদের দুশ্চিন্তা আরও গভীর হচ্ছে। সোমবারের বিক্ষোভ তাই তাঁদের হতাশা এবং ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গেছে, চলতি সপ্তাহে এসএসসি কিছু স্পষ্ট ঘোষণা করতে পারে। তবে চাকরিপ্রার্থীদের বিশ্বাস—ঘোষণা নয়, হাতে নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের আন্দোলন থামার নয়।
রাজ্যের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, আদালতের নির্দেশ অমান্য এবং প্রশাসনিক নীরবতা—এই তিনের মিশেলেই বেড়েছে অনিশ্চয়তা। আর সেই অনিশ্চয়তা থেকেই উচ্চ প্রাথমিকের প্রতিটি আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে একটাই প্রশ্ন—“কবে নিয়োগ?”









