নজরবন্দি ব্যুরোঃ সকাল বেলাতেই বাড়িতে উপস্থিত হয়েছে ইডির আধিকারিকরা। অন্যদিকেও, আজই কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে আদালতে হাজিরা দিতে উপস্থিত হয়েছে বাগদার চন্দন মণ্ডল। টাকার বিনিময়ে প্রাথমিক শিক্ষক পদে চাকরী দেওয়া অভিযোগ উঠেছিল তাঁর বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুনঃ Partha Chaterjee: ৭ ঘন্টার জিজ্ঞাসাবাদে অসুস্থ পার্থ, বাড়িতে এলেন চিকিৎসক
আজ সকাল ৯ টা নাগাদ চন্দন মণ্ডলের বাড়িতে উপস্থিত হন ইডির আধিকারিকরা। কিন্তু বাড়িতে কেউ উপস্থিত না থাকার কারণে প্রায় ৩ ঘন্টা বাইরে অপেক্ষা করতে হয় ইডির আধিকারিকদের। পরে বাড়ির ২ জন সদস্য আসেন। তালা খুলতে বাড়ির ভিতরে প্রবেশ করেন ইডির আধিকারিকরা। এই মুহুর্তে ইডির জিজ্ঞাসাবাদের সম্মুখীন বাগদার চন্দন মণ্ডলের পরিবার।
চন্দন মণ্ডলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, চাকরী দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়েছেন। এমনকি তাঁর বিরুদ্ধে টাকা দিয়ে চাকরী দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। উপেন বিশ্বাস এই বাগদার চন্দন মণ্ডলের কথা কলকাতা হাইকোর্টের সামনে তুলে ধরে। এরপরেই সিবিআইইয়ের এফআইআরে চন্দন মণ্ডলের নাম যুক্ত করা হয়। এর আগে দুই বার তাঁর বাড়িতে সিবিআই উপস্থিত হলেও চন্দন মণ্ডলের দেখা মেলেনি। স্থানীয় সূত্রে খগবর, এই মুহুর্তে সেভাবে চন্দন মণ্ডলকে এলাকায় দেখা যায় না।

উল্লেখ্য, প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের কাছে এই রঞ্জন ওরফে চন্দন মণ্ডলের কথা প্রথম তুলে ধরেন প্রাক্তন সিবিআই অফিসার উপেন্দ্রনাথ বিশ্বাস। তিনি বলেন, টাকার বিনিময়ে চাকরী পাইয়ে দিতেন চন্দন মণ্ডল। এমনকি চাকরি না দিতে পারলে এই টাকা সুদ সমেত ফেরত দিতেন তিনি। প্রাথমিকস শিক্ষক নিয়োগ মামলায় এই মুহুর্তে ৪৩ হাজার চাকরী প্রার্থীদের নিয়োগপত্র সিবিআইয়ের স্ক্যানারে।
আজ আদালতে হাজিরা দেন তিনি। এজলাসে উপস্থিত হয়ে চন্দন মণ্ডল বলেন, দু’বার জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিবিআই। এদিন আদালতে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় জিজ্ঞাসা করেন, আপনার বিরুদ্ধে কী অভিযোগ তা জানেন? জবাবে রঞ্জন মণ্ডল বলে, তিনি জানেন না উপেন বিশ্বাস তাঁকে একটি ভিডিওর মাধ্যমে ভাইরাল করে দিয়েছেন।
রঞ্জনকে দেখে চিনতে পারলেন না উপেন বিশ্বাস,তাজ্জব ঘটনা

এরপরেই বিচারপতি বলেন, আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ আপনি টাকার বিনিময়ে চাকরী পাইয়ে দিয়েছেন। চন্দন মণ্ডলেরুত্তর ছিল, আমি কারোর থেকে টাকা নিইনি এবং কাউকে চাকরী পাইয়েও দিইনি। এদিন সিবিআইয়ের আইনজিবিরা বলেন, দুই বার জিজ্ঞাসাবাদ পর্বে অসহযোগীতার কোনও অভিযোগ নেই। এরপরেই বিচারপতি উপেন বিশ্বাসকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি রঞ্জন মণ্ডলকে চিনতে পারছেন কি না। তখন উপেন বিশ্বাস বলেন, আমি এনাকে চিনতে পারছি না।
পাল্টা চন্দন মণ্ডলের বক্তব্য ছিল, হ্যাঁ আমরা কখনই পরস্পরের সম্মুখীন হইনি। আমরা তাই পরস্পরকে চিনি না। অর্থাৎ এদিন আলাদ মোড় নিল এই মামলা। রঞ্জনকে দেখে চিনতে পারলেন না উপেন বিশ্বাস, যা অত্যন্ত বেনজির ঘটনা ঘটল কলকাতা হাইকোর্টে।



