রাজ্যের ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য—বিএলওদের অভিযোগ, ইআরও-র নির্দেশে বহু বৈধ ভোটারকে ‘আনম্যাপড’ করা হয়েছে। শাসকদল তৃণমূলের বারবার তোলা আশঙ্কা যে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে, সেই ইঙ্গিত মিলছে এই অভিযোগে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে এই পরিস্থিতি রাজ্যের নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়েই বড় প্রশ্ন তুলে দিল।
দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূল নেতৃত্ব অভিযোগ করে আসছিল, এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়ায় গলদ রয়েছে এবং তাতে বহু প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়তে পারে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—দু’জনেই এই নিয়ে একাধিকবার সরব হয়েছেন। এমনকি জাতীয় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের কাছেও বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে বিএলও ঐক্য মঞ্চের চিঠি নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তাঁদের অভিযোগ, কোচবিহার, উত্তর দিনাজপুর, নদিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পশ্চিম মেদিনীপুর—এই পাঁচ জেলায় বহু বৈধ ভোটারকে ‘আনম্যাপড’ করা হয়েছে। যাঁরা শুনানিতে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন, তাঁদেরও এই তালিকায় রাখা হয়েছে বলে দাবি।
বিএলওদের বক্তব্য, ইআরও (Electoral Registration Officer)-দের মৌখিক নির্দেশেই এই ‘আনম্যাপিং’ হয়েছে। বিশেষ করে যেসব ক্ষেত্রে নামের বানান বা পুরনো তালিকার সঙ্গে তথ্যগত অমিল ছিল, সেগুলিকেই ভিত্তি করে ভোটারদের বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ম্যাপিংয়ের সময় এই অসঙ্গতির বিষয়টি তাঁদের জানানো হয়নি বলেই অভিযোগ।
কোচবিহারের তুফানগঞ্জ ২ ব্লকের বিএলও অনির্বাণ দে সরকার তাঁর চিঠিতে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন। তাঁর এলাকায় মোট ১১১ জন ভোটার ‘আনম্যাপড’ হয়েছেন, যেখানে শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন মাত্র ৪ জন। এছাড়া ২০০২ সালের ভোটার তালিকার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রোজেনি ম্যাপিংয়ের সংখ্যা ৭৫। কিন্তু তাঁর দাবি, এই সমস্ত ভোটারই প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েছেন। তা সত্ত্বেও তাঁদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


এই পরিস্থিতিতে বিএলওরা জেলা প্রশাসন ও জেলা নির্বাচন আধিকারিকের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখে সংশোধন না হলে বহু বৈধ ভোটার চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন।
আগামী ২৮ তারিখ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। তার আগে এই অভিযোগ নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল।









