ভারতকে বিশ্বমানের বায়োফার্মাসিউটিক্যাল হাবে পরিণত করার লক্ষ্যেই বাজেটে বড় ঘোষণা করল মোদী সরকার। ২০২৬–’২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট পেশ করে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ জানালেন, বায়োফার্মা ক্ষেত্রকে শক্ত ভিতের উপর দাঁড় করাতে চালু হচ্ছে ‘বায়োফার্মা শক্তি’ প্রকল্প। এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে ১০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের বক্তব্য, এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান, গবেষণা ও রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।
লোকসভায় বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, “২০২৬ সালের বাজেট যুবশক্তি চালিত।” তাঁর কথায়, দেশের যুবসমাজকে সামনে রেখে গবেষণা, উদ্ভাবন ও উৎপাদন—এই তিন স্তম্ভের উপরেই অর্থনৈতিক বিকাশের রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে। বায়োফার্মা শক্তি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি ভারতে আধুনিক গবেষণা পরিকাঠামো গড়ে তোলাই লক্ষ্য।
বাজেট বক্তৃতায় মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও আশ্বাস দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, “আমরা এখন অনেক কম আমদানি নির্ভর। কৃষি উৎপাদনশীলতা বেড়েছে, মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।” পাশাপাশি গরিব ও মধ্যবিত্ত মানুষের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, প্রতিটি অঞ্চলের ভারসাম্যপূর্ণ বিকাশ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
এর আগে শনিবার সকালে ২০২৬–’২৭ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেট অনুমোদন করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা। তার পরই সংসদের উদ্দেশে রওনা হন নির্মলা সীতারমণ। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু-র সঙ্গে সাক্ষাতের পর বাজেট পেশ করেন তিনি। বাজেট পেশের সময় সংসদে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।
বাজেটের দিন শেয়ার বাজার সকাল ৯টা ১৫ মিনিট থেকে বিকেল সাড়ে ৩টে পর্যন্ত খোলা ছিল। পাশাপাশি ভোটমুখী রাজ্যগুলির দিকেও নজর ছিল রাজনৈতিক মহলের। পশ্চিমবঙ্গ, অসম, কেরল, তামিলনাড়ু ও পুদুচেরির মতো রাজ্যগুলির জন্য বিশেষ ঘোষণার প্রত্যাশা ছিল বিজেপি নেতৃত্বের একাংশের মধ্যেও।
সব মিলিয়ে, ‘বায়োফার্মা শক্তি’ প্রকল্পের ঘোষণায় স্পষ্ট—উৎপাদন, গবেষণা ও যুবশক্তিকে সামনে রেখে আগামী দিনে ভারতকে বৈশ্বিক অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় করে তুলতেই চাইছে কেন্দ্র।



