টেলিভিশনে আলোড়ন ফেলে দেওয়া টুইঙ্কল খন্না ও কাজলের যৌথ শো বারবারই নানা মন্তব্যে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। এর মধ্যেই সবচেয়ে বড় তর্কের জন্ম দিয়েছে তাঁদের সাম্প্রতিক পর্ব, যেখানে টুইঙ্কল মন্তব্য করেছিলেন—স্বামীদের পরকীয়াকে সমর্থন করা যেতে পারে, কারণ ছোটখাটো ভুল এড়িয়ে যাওয়া উচিত। এই সংলাপ রাতারাতি সোশ্যাল মিডিয়ায় আগুন লাগিয়ে দেয়।
অক্টোবর মাসে প্রচারিত সেই এপিসোডে টুইঙ্কলের মন্তব্য ছিল—“স্বামীদের বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে আপত্তি নেই, এগুলো ছোটখাটো ভুল।” ‘রাত গ্যায়ি, বাত গ্যায়ি’ এই লাইট-টোন মন্তব্যেই তুঙ্গে পৌঁছায় বিতর্ক। বহু দর্শক প্রশ্ন তোলেন, পরকীয়া কি সত্যিই এতটাই সাধারণীকরণ করার মতো বিষয়?
স্বামীদের পরকীয়াকে সমর্থন? নিজের মন্তব্যের পর বিতর্ক থামাতে কী বললেন টুইঙ্কল
আলোচনা যখন থামারই নয়, তখনই সামনে এল টুইঙ্কল খন্নার সাফাই। অভিনেত্রী স্পষ্ট জানালেন, স্বামীদের পরকীয়াকে সমর্থন করার মতো গুরুতর বার্তা দেওয়ার কোনও উদ্দেশ্যই ছিল না। তাঁর কথায়, “এটা নিতান্তই রসিকতা ছিল। সবকিছু নিয়ে এত সিরিয়াস সমালোচনা করার কিছু নেই। যদি একবিবাহ বা lifelong partner নিয়ে আমরা সত্যিই আলোচনা করতাম, তাহলে সেক্ষেত্রে ভেবেচিন্তে কথা বলতাম।”

এরপর থেকেই নেটিজ়েনদের নতুন প্রশ্ন—তাহলে কি বিতর্ক চাপা দিতেই এখন “মজা ছিল” বলে পাল্টে ফেলছেন কথাবার্তা? অনেকে মন্তব্য করেছেন, পরকীয়া বা বিশ্বাসঘাতকতার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সেলেবদের বক্তব্যের দায়িত্ববোধ থাকা উচিত। যদিও টুইঙ্কল নিজের অবস্থানে অনড়—এটি ছিল শুধুই হালকা মেজাজের কন্টেন্ট।
বিতর্ক এখানেই থামেনি। আরেকটি এপিসোডে যখন জাহ্নবী কাপুর ও করণ জোহর উপস্থিত ছিলেন, তখন সঞ্চালিকাদের প্রশ্ন ওঠে—“মানসিকভাবে ঠকানো আর শারীরিকভাবে ঠকানো—কোনটি বড় অপরাধ?” এই প্রশ্নও নেটিজ়েনদের বিস্মিত করে। অনেকে লিখেছিলেন, “ঠকানোর মানে ঠকানোই। সেখানে মানসিক বা শারীরিক ভাগ করা যায় না।”

অনলাইন জগতে আলোড়ন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে টুইঙ্কলের শো নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে—এমন বক্তব্য কি ইচ্ছাকৃত? বিতর্ক বাড়িয়ে TRP ধরতেই কি এমন মন্তব্য করা হচ্ছে?
মনোবিদদের একটি অংশ বলছেন, স্বামীদের পরকীয়াকে সমর্থন করার মন্তব্য সমাজে ভুল বার্তা দিতে পারে। কারণ ‘ছোটখাটো ভুল’ বলে বিশ্বাসঘাতকতা হালকা করে দেখা, সম্পর্কের মূল্যবোধে ঘা দিতে পারে। আবার অন্যপক্ষের বক্তব্য—সমস্ত শো-ই সম্পূর্ণ বাস্তবভিত্তিক মন্তব্যের জন্য তৈরি হয় না; সেখানে রসিকতা, অতিরঞ্জন—সবই কনটেন্টের অংশ।
তবে সত্যি যাই হোক, টুইঙ্কলের মন্তব্য নিয়ে যে তুমুল বিতর্ক ছড়িয়েছে, তা স্পষ্ট। তাঁর সাফাইও নেটিজ়েনদের তেমন শান্ত করতে পারেনি। বরং এখন প্রশ্ন আরও ঘনীভূত—মন্তব্য কি সত্যিই ‘মজাচ্ছলে’, নাকি সমালোচনা থামাতে এটি ড্যামেজ কন্ট্রোল?
টেলিভিশন, OTT এবং সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে প্রতিটি মন্তব্য আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। তাই স্বামীদের পরকীয়াকে সমর্থন করার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে হালকা রসিকতাও কখন যে বড় বিতর্কে পরিণত হয়, তার প্রমাণ মিলল এই ঘটনায়।







