ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি আবারও কঠোর পথে। দ্বিতীয়বার হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকেই অভিবাসন নিয়ে কড়া অবস্থান নিলেও, সাম্প্রতিক গুলিকাণ্ডের পর তাঁর সিদ্ধান্ত আরও কঠোর হয়ে উঠেছে।
হোয়াইট হাউসের কয়েক ব্লক দূরে টহলরত দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্যের উপর আফগান নাগরিক রহমানউল্লাহ লাকানওয়ালার গুলিচালনার পর পরিস্থিতি মুহূর্তে উত্তাল হয়ে ওঠে। পাল্টা গুলিতে হামলাকারী আটক হলেও গুরুতর জখম হন দুই গার্ড সদস্য। এদের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয় শুক্রবার সকালে।
এই ঘটনার পরই ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে তৃতীয় বিশ্বের কোনও দেশ থেকেই আর অভিবাসীকে আমেরিকায় ঢুকতে দেওয়া হবে না।
গুলিকাণ্ডের পরে ট্রাম্পের কড়া ঘোষণা, ‘তৃতীয় বিশ্বের অভিবাসীদের আমেরিকায় ঢুকতে দেব না’
ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টেই কঠোর বার্তা
শুক্রবার ট্রুথ সোশ্যালে দীর্ঘ পোস্টে ট্রাম্প লেখেন, “তৃতীয় বিশ্বের সব দেশ থেকেই অভিবাসন স্থগিত করা হলো। অভিবাসীরা আমেরিকার অগ্রগতি থামিয়ে দিচ্ছে।”
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নিয়ে বরাবরই বিতর্ক ছিল, কিন্তু এবার ঘোষণা আরও সোজাসাপটা। তাঁর দাবি, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকদের জীবন—সবকিছুই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের কারণে।
আফগান নাগরিকদের ইমিগ্রেশনও অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত
গুলিকাণ্ডের পরই আফগানিস্তান থেকে আসা অভিবাসীদের আবেদন স্থগিত করা হয়। এবার তা আরও বিস্তৃত করা হল।
ট্রাম্প প্রশাসন জানিয়েছে, তৃতীয় বিশ্বের কোনও দেশের নাগরিকই আপাতত আমেরিকায় অভিবাসন করতে পারবেন না। এই ঘোষণা ট্রাম্পের নতুন অভিবাসন নীতির সবচেয়ে কঠোর ধাপ বলে মনে করা হচ্ছে।

“যাঁরা দেশকে ভালোবাসেন না, তাঁদের থাকা নয়”—ট্রাম্পের কড়া সতর্কতা
বর্তমানে আমেরিকায় থাকা বিদেশি অভিবাসীদের জন্যও কঠোর বার্তা দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন:
“যাঁরা দেশকে ভালোবাসেন না, তাঁরা এখানে থাকতে পারবেন না।”
তিনি আরও বলেছেন, আমেরিকার নাগরিক নন এমন অভিবাসীদের সুযোগসুবিধা, ভর্তুকি, সরকারি সুবিধা—সবই বন্ধ করে দেওয়া হবে।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি অনুযায়ী, যারা দেশের নিরাপত্তার ঝুঁকি বাড়ায় বা রাষ্ট্রের ওপর বোঝা হয়ে ওঠে, তাঁদের নাগরিকত্ব বাতিল বা বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
‘অবৈধ অনুপ্রবেশের অবসান’—ট্রাম্পের প্রতিশ্রুতি
বাইডেনের আমলে যে “মিলিয়ন মিলিয়ন অবৈধ অনুপ্রবেশ” ঘটেছে বলে ট্রাম্পের দাবি, তার ইতি ঘটাতে তিনি বদ্ধপরিকর। তাঁর মন্তব্য, “আমাদের লক্ষ্য আমেরিকায় অবৈধ ও বিশৃঙ্খল মানুষের সংখ্যা দ্রুত কমানো।”
পোস্টের শেষে ট্রাম্প নিজের স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে লিখেছেন, “থ্যাঙ্কসগিভিং টু অল। কিন্তু যারা চুরি করে, হত্যা করে, ঘৃণা ছড়ায়—তারা এখানে বেশিদিন থাকবে না।”
পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াবে?
ট্রাম্পের ঘোষণার পর আমেরিকায় থাকা অভিবাসীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে। বিশেষত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলি থেকে যাঁরা বৈধ বা অবৈধভাবে আমেরিকায় রয়েছেন, তাঁদের অনেকেই আতঙ্কে ভবিষ্যৎ ভেবে ছটফট করছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসন নীতি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কও সৃষ্টি করেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলি বলছে, এমন সিদ্ধান্ত আমেরিকার গণতান্ত্রিক ধ্যানধারণার বিরোধী। অন্যদিকে ট্রাম্প সমর্থকরা মনে করছেন, এটাই প্রয়োজন ছিল দেশের নিরাপত্তা রক্ষার জন্য।







