মার্কিন রাজনীতিতে ফের তীব্র হল নোবেল শান্তি পুরস্কার বিতর্ক। ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি আক্রমণ করলেন তাঁর ডেমোক্র্যাট পূর্বসূরি বারাক ওবামাকে। শান্তি পুরস্কার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দাবি করলেন, আটটি বড় যুদ্ধ বন্ধ করেছেন তিনি। আর ওবামা কিছু না করেই নোবেল পেয়ে গিয়েছিলেন।
শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ট্রাম্প বলেন, “উনি কিছু না করেই ওটা পেয়েছিলেন। ওরা (নোবেল কমিটি) কিছু করার জন্য নয়, বরং আমাদের দেশকে ধ্বংস করার জন্য ওবামাকে পুরস্কার দিয়েছিল।”


২০০৯ সালে ওবামার নোবেল জয় ঘিরে বিতর্ক
প্রসঙ্গত, মাত্র আট মাসের মাথায় ২০০৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান ওবামা। নোবেল কমিটির ব্যাখ্যা ছিল, আন্তর্জাতিক কূটনীতিকে শক্তিশালী করার জন্য তাঁর উদ্যোগকেই তারা স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে শুরু থেকেই রিপাবলিকান শিবিরের একাংশ ওবামার পুরস্কার নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল। সেই পুরনো বিতর্কই ফের উসকে দিলেন ট্রাম্প।
নোবেল প্রাইজ চান ‘শান্তির দূত’ ট্রাম্প, কমিটিকে দুষে এবার আক্রমণ বারাক ওবামাকে!

ট্রাম্পের দাবি: আট যুদ্ধ থামিয়েছি, ভারত–পাক সংঘাত ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
হোয়াইট হাউসে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাবের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প বলেন, “আমি আটটি যুদ্ধ থামিয়েছি। আমার মনে হয়, ভারত এবং পাকিস্তানের সংঘাতটা সবচেয়ে বড় ছিল। দুটোই পারমাণবিক শক্তিধর দেশ।”
এরপর নিজের বাণিজ্যনীতি নিয়ে সাফাই দিতে গিয়ে ট্রাম্প জানান, “আমি বলেছিলাম, যদি ভারত ও পাকিস্তান লড়াই চালিয়ে যায়, তাহলে প্রত্যেকের উপর ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপাব। এরপরই দুই দেশ যুদ্ধ থামিয়ে দেয়।”


নোবেল মনোনয়নে পাকিস্তানের প্রশংসা ট্রাম্পের প্রতি
গত ২০ জুন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দফতর ট্রাম্পকে নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য মনোনীত করার প্রস্তাব দেয়। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়, ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক অস্থিরতার মধ্যে অসাধারণ কূটনৈতিক দক্ষতা দেখিয়ে ভারত–পাকিস্তান সংঘাত নিরসনে ভূমিকা নিয়েছেন ট্রাম্প। এর ফলে বৃহত্তর যুদ্ধ এড়ানো গেছে, লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে।
তবে ভারত বরাবরই জানিয়েছে, পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাত থামাতে কোনও তৃতীয় পক্ষের ভূমিকা নেই। ভারতের বক্তব্য অনুযায়ী, দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে বাইরের হস্তক্ষেপের জায়গা নেই।
ওবামা বনাম ট্রাম্প: নোবেল শান্তি পুরস্কারের রাজনীতি
ওবামা নোবেল পাওয়ার পর থেকেই রিপাবলিকানদের একাংশ অভিযোগ তোলে, তিনি কোনও প্রকৃত শান্তি চুক্তি না করেই পুরস্কার পেয়ে গিয়েছিলেন। অপরদিকে ট্রাম্প তাঁর মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে একাধিক ঐতিহাসিক চুক্তি (যেমন আব্রাহাম অ্যাকর্ড) করলেও নোবেল পাননি।
শুক্রবারও তিনি বলেন, “আমি কোনও পুরস্কারের জন্য এই কাজ করিনি। কিন্তু সঠিক ইতিহাসটা বিশ্ব জানুক।” এই মন্তব্যে ফের চড়ছে নোবেল প্রাইজ নিয়ে মার্কিন রাজনৈতিক তাপমাত্রা।
ট্রাম্পের বক্তব্য শুধু ওবামাকে খোঁচা নয়, বরং তাঁর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক দক্ষতাকে কেন্দ্র করে নিজের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করা। শান্তি পুরস্কারের মতো সম্মানকে ঘিরে এই রাজনৈতিক ‘ক্রেডিট যুদ্ধ’ এখন আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক লড়াইয়েরই প্রতিফলন।
২০২৪ ও ২০২৫ সালের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ভারত–পাকিস্তান সংঘাত থামানোর কৃতিত্ব দাবি করে ট্রাম্প যেমন মার্কিন ভোটারদের নজর কাড়ছেন, তেমনই ওবামার নোবেলকে প্রশ্ন করে রিপাবলিকান সমর্থনকেও সংহত করতে চাইছেন।







