আমেরিকার খাদ্যদ্রব্যের দামে অস্থিরতা এবং ঘরোয়া কৃষকদের ক্ষোভ সামাল দিতে Trump India Tariff আরও বাড়ানোর কথা ভাবছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বর্তমানে ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপিত রয়েছে। এরই মাঝেই হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প জানান, আমেরিকার বাজারে ভারত থেকে আমদানি হওয়া চালের উপর আরও শুল্ক চাপানো হতে পারে। ফলে ভারত-আমেরিকা বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে।
সোমবার আমেরিকার কৃষি খাতের প্রতিনিধি ও কৃষকদের সঙ্গে বৈঠকে বারবার উঠে আসে বিদেশ থেকে সস্তায় আমদানির অভিযোগ। কৃষকদের বক্তব্য, ভারত থেকে ভর্তুকিযুক্ত চাল আসায় আমেরিকান কৃষকরা স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে পারছেন না। এর জবাবে ট্রাম্প বলেন, বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন এবং প্রয়োজনে Trump India Tariff বৃদ্ধি করতেও পিছপা হবেন না।


ভারতের উপর আরও শুল্ক চাপানোর ভাবনা ট্রাম্পের! নিজের দেশেই চাপে প্রেসিডেন্ট
লুইসিয়ানার কেনেডি রাইস মিলের সিইও মেরিল কেনেডি জানান, আমেরিকায় সবচেয়ে বেশি সস্তা চাল আসে ভারত, চিন ও থাইল্যান্ড থেকে। তাঁর অভিযোগ, এই আমদানির ফলে দেশের নিজের উৎপাদিত চালের দাম পড়ে যাচ্ছে। বর্তমানে যে শুল্ক আরোপ রয়েছে, তাতে কোনও কাজ হচ্ছে না বলেই মনে করছেন তাঁরা। তাই সেই হার দ্বিগুণ করার আহ্বানও জানান তিনি।
ট্রাম্পের মন্তব্য ছিল যথেষ্ট ইঙ্গিতবহ। তিনি বলেন, “আমরা ভারত থেকে চাল এনে বাজারে জমিয়ে রাখার প্রবণতা দেখছি। এটা ডাম্পিং। এটা করা উচিত নয়।” একইভাবে কানাডা থেকে আমদানি হওয়া সারের উপরও আরও শুল্ক বসানো হতে পারে বলে জানান তিনি। ফলে ভবিষ্যতে কৃষিজ আমদানিতে একাধিক নিয়ন্ত্রণ কঠোর হতে পারে।
আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মূল্যবৃদ্ধি এখন বড় ইস্যু। গত কয়েক মাসে আমেরিকানদের মধ্যে খাদ্যদ্রব্যের দাম বাড়ায় অসন্তোষ জমেছে। রিপাবলিকান শিবির মনে করছে, এই অসন্তোষ ডেমোক্র্যাটদের সুবিধা করে দিতে পারে। ফলে ট্রাম্প প্রশাসন Trump India Tariff বাড়িয়ে ঘরোয়া ক্ষোভ প্রশমনের চেষ্টা করছে বলেই মনে করা হচ্ছে।



এদিকে ভারত এবং কানাডা—দু’দেশই আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক স্থিতিশীল রাখতে চাইছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলছে বহুদিন। কিন্তু ট্রাম্পের নতুন মন্তব্য সেই আলোচনাকে আরও জটিল করতে পারে। বিশেষত ভারতীয় চাল আমদানিতে কড়া শুল্ক চাপানোর সিদ্ধান্ত নিলে তা দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় টানাপড়েন তৈরি করবে।
বর্তমানে ভারতীয় পণ্যের উপর ২৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ ‘শাস্তিমূলক শুল্ক’ আরোপ করা রয়েছে। রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের বাণিজ্য সম্পর্ককে কেন্দ্র করে এই বাড়তি শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। এখন তার উপরে আবার নতুন শুল্ক যুক্ত হলে তা Trump India Tariff বিতর্ককে নতুন মাত্রা দেবে।
এই সপ্তাহেই বাণিজ্য আলোচনার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিদল ভারতে আসছে। ভারত সরকার এই মন্তব্যগুলিকে কতটা গুরুত্ব দেবে এবং আলোচনায় বিষয়টি কি ওঠে—সেদিকেই এখন নজর।
ভারতীয় চাল আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি কেবল দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, আন্তর্জাতিক কৃষিপণ্যের বাজারেও তা উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্ত মূলত আমেরিকার রাজনৈতিক চাপ সামাল দেওয়ার কৌশলের অংশ।









