নজরবন্দি ব্যুরোঃ শিক্ষকদের বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে জটিলতা কাটাতে ফের নয়া উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। সুখবর রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলে কর্মরত ‘সিঙ্গেল টিচার’দের জন্যে। মূলত তাঁদের জন্যেই শিক্ষক বদলি নিয়ে নয়া সিদ্ধান্ত রাজ্যের। এখন থেকে কোন সিঙ্গেল টিচার ট্রান্সফার নিতে চাইলে সেই আবেদনে মঞ্জুরি দিতে হবে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক বা পরিচালন সমিতি কে। নতুন নিয়মে ‘সিঙ্গেল টিচার’দের আর আটকে রাখতে পারবেন না কেউ।
আরও পড়ুনঃ অবৈধ সম্পত্তি দখলদারি, রাজ্য কে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করল হাইকোর্ট।
বাড়ি থেকে দূরে চাকরিরত শিক্ষক শিক্ষিকাদের নিজের জেলায় বদলির জন্য উৎসশ্রী পোর্টাল এর কথা ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শিক্ষকদের বদলি নিয়ে একাধিক বার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, সেই সমস্যা সমাধানেই এই পোর্টাল। কদিন আগেই যার উদ্বোধন করছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। ঘরে বসেই বদলির আবেদন করা হবে বলে জানানো হয়েছিল শিক্ষা দফতরের তরফে। কিন্তু সেই পোর্টাল কে কেন্দ্র করে একাধিক অভিযোগ উঠছিল।
বহু শিক্ষক অভিযোগ করে জানিয়েছিলেন, বদলি সংক্রান্ত বিষয়ে স্কুল এনওসি (NOC) দিচ্ছে না। এদিকে স্কুল কর্তৃপক্ষ সাফ জানাচ্ছিল, একটি বিষয় পড়ানোর জন্যে যদি মাত্র একজন শিক্ষক থাকে, আর তিনি যদি বদলি নিয়ে নেন তাহলে পড়াবে কে? এই সমস্যা সমাধানে উদ্যোগী হয়েছিলেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তিনি বলেছিলেন, “আবেদনের এক মাসের মধ্যে সব খতিয়ে দেখে ট্রান্সফার অর্ডার ইস্যু হবে। প্রধান শিক্ষক বা স্কুল কর্তৃপক্ষ কাউকে জোর করে আটকে রাখতে পারবেন না।”
এদিন ব্রাত্য বসুর সেই মন্তব্যকেই হাতিয়ার করে বদলি নিয়ে নয়া সিদ্ধান্ত রাজ্যের। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য কাগজে কলমে শিলমোহর দিল স্কুল শিক্ষা দফতর। নয়া নির্দেশিকা রাজ্যের সমস্ত জেলা স্কুল পরিদর্শককে (DI) পাঠানো হয়েছে। এদিকে উৎসশ্রী পোর্টালে শিক্ষিক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি বদলির আবেদন জানাচ্ছেন শিক্ষাকর্মীরাও। সবার জন্যেই সমাধান সন্ধান করেছে রাজ্য সরকার।
বদলি নিয়ে নয়া সিদ্ধান্ত রাজ্যের

নয়া নিয়মে বলা হয়েছে, কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা সাসপেন্ড থাকলে আবেদন করতে পারবেন না। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে কোনরকম কেস থাকলে বা বিভাগীয় তদন্ত চালু থাকলেও তিনি বদলি পাবেন না। মেডিক্যাল গ্রাউন্ডে আবেদন করলে রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন লাগবে। ৪০ শতাংশের বেশি প্রতিবন্ধকতা থাকলে রিনিউ করা প্রতিবন্ধী সার্টিফিকেট দিয়ে আবেদন করতে হবে।
এমনকি জটিল অসুখ বা কোনও শিক্ষিকার বিবাহবিচ্ছেদ বা স্বামীর মৃত্যুও বদলির কারন হিসেবে গ্রাহ্য হবে।একই স্কুলে পাঁচ বছর কর্মরত যে কোনও শিক্ষক বা শিক্ষিকা বদলির জন্যে আবেদন করতে পারেন। তবে পাঁচ বছরের মধ্যে ট্রান্সফার নিলে আবেদন করা যাবে না। পাশাপাশি সাত বছরের মধ্যে বদলির আদেশ প্রত্যাখ্যান করলেও আবেদন করা যাবে না।



