টলিপাড়ায় নতুন সমীকরণ! ফের ‘ব্যান’ কয়েকজন কলাকুশলী? পাপিয়ার কড়া বার্তা, মুখ খুললেন রূপা-রুদ্রনীল

টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োর বৈঠকে টলিউডের সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিলেন পাপিয়া অধিকারী। ‘ব্যান’ বিতর্কে সতর্ক অবস্থান রূপা গঙ্গোপাধ্যায় ও রুদ্রনীল ঘোষের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

টলিউডে প্রশাসনিক রদবদলের আবহে ফের সামনে এল ‘ব্যান সংস্কৃতি’ নিয়ে বিতর্ক। টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় বৈঠক করে বিজেপি বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী টলিপাড়ার সংগঠন কাঠামোয় বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন। একই সঙ্গে একাধিক কলাকুশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কড়া অবস্থানের বার্তাও দিয়েছেন তিনি। আর সেই ঘোষণার পরই শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

বুধবারের বৈঠকে পাপিয়া অধিকারী জানান, ভবিষ্যতে টলিউডের পরিচালন ব্যবস্থা দিল্লি-নিয়ন্ত্রিত কো-ফেডারেশনের অধীনে আনা হতে পারে। তাঁর দাবি, বহু গিল্ড ও সংগঠনের পরিবর্তে সীমিত সংখ্যক কমিটি রেখে আরও স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক কাঠামো গড়ে তোলাই লক্ষ্য। দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ‘ডি কিউব’ (ডিটেক্ট, ডিপোর্ট, ডিলিট) নীতি প্রয়োগের কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

পাপিয়ার নিশানায় রয়েছেন কয়েকজন গিল্ড কর্তা ও সংগঠক। তাঁদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ জমা পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি। সেই কারণেই ভবিষ্যতে তাঁদের টলিউডে কাজ করার সুযোগ না দেওয়ার প্রস্তাব সামনে এসেছে। যদিও অন্য রাজ্যের বিনোদন জগতে কাজ করার ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকবে না বলেও জানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক।

এই ঘোষণার পর স্বাভাবিকভাবেই সামনে আসে টলিউডের বহুল আলোচিত ‘ব্যান সংস্কৃতি’র প্রসঙ্গ। অতীতে বিভিন্ন সময়ে অভিনেতা-অভিনেত্রী ও কলাকুশলীদের কাজের সুযোগ হারানোর অভিযোগ উঠেছে। ফলে নতুন প্রশাসনিক ব্যবস্থাতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই বিতর্কের মাঝেই প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হয় অভিনেতা ও বিজেপি বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ-এর কাছে। তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনে কোনও মন্তব্য করতে চান না। পাশাপাশি তাঁর বক্তব্য, টলিউড সংক্রান্ত যে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকার এবং তথ্য-সংস্কৃতি দফতরই নেবে।

একইভাবে অভিনেত্রী ও বিধায়ক রূপা গঙ্গোপাধ্যায়-ও সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। বিধানসভার ব্যস্ততার মধ্যে তিনি জানান, পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। তাই বিস্তারিত না জেনে মন্তব্য করা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, টলিউডের সাংগঠনিক সংস্কার নিয়ে আলোচনা জোরদার হলেও এখনও পর্যন্ত শিল্পী, কলাকুশলী এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির সঙ্গে বৃহত্তর স্তরে কোনও যৌথ বৈঠক হয়নি। ফলে আগামী দিনে এই প্রস্তাবিত কাঠামো কতটা বাস্তবায়িত হবে এবং শিল্পমহল কীভাবে তা গ্রহণ করবে, সেদিকেই নজর রয়েছে।

টলিপাড়ার অন্দরে এখন মূল প্রশ্ন একটাই— দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং ‘ব্যান সংস্কৃতি’র মধ্যে সীমারেখা কোথায় টানা হবে? সেই উত্তরই হয়তো আগামী দিনের সিদ্ধান্তে স্পষ্ট হবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর