ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সর্বাধিক রানে জয়, ঘরের মাঠে এই জয়কে সবচেয়ে স্পেশ্যাল বললেন ম্যাচের সেরা অশ্বিন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সর্বাধিক রানে জয়, ঘরের মাঠে এই জয়কে সবচেয়ে স্পেশ্যাল বললেন ম্যাচের সেরা অশ্বিন। ৪৭৮ রানের বিশাল লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৫৩ রানে ৩ উইকেট খুইয়ে ইংল্যান্ড শেষ করে তৃতীয় দিনের খেলা। তাই চতুর্থ দিনে ভারতের জয় যে সময়ের অপেক্ষা তা বোঝাই যাচ্ছিল। কারন চিপকের ঘূর্ণি পিচে ২ দিন ব্যাট হাতে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব। আশানুরূপ ভাবেই আজ লাঞ্চের কিছুক্ষন পরেই মাত্র ১৬৪ রানে শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংস।

আরও পড়ুনঃ প্রেম দিবসে সাত পাকে বাঁধা পড়ল ৭০ যুগল

সাথে সাথেই ভারত পেল ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৩২৭ রানের জয়। যা ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভারতের সর্বাধিক ব্যাবধানে জয়। সিরিজে সমতা ফেরান ছাড়াও টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ তালিকায় ভারত উঠে এল দ্বিতীয় স্থানে। ফাইনালে পৌঁছনোর জন্য এই জয় অত্যন্ত গুরুত্ত্বপূর্ণ ছিল। ম্যাচের সেরা নির্বাচিত হন শতরান করা ও ৮ উইকেট (প্রথম ইনিংসে ৫ উইকেট) নেওয়া ঘরের ছেলে রবিচন্দ্রন অশ্বিন। এছাড়া অভিষেক করা অক্ষর প্যাটেল দ্বিতীয় ইনিংসে নেন ৫ উইকেট( মোট ৭ উইকেট)।

ম্যান অফ দ্যা ম্যাচ অশ্বিন আজ বলেন ”আমি খেলাটা উপভোগ করছি। চেন্নাইয়ের মাঠে এত ভাল খেলতে পেরে আমি খুব খুশি। বোলিং করার সময় আমি বিভিন্ন লাইনে বল করেছি। হাওয়াকে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছি। গতিও পরিবর্তন করেছি বিভিন্ন সময়ে।” চিপকে খেলা সবসময়ই বিশেষ অনুভূতি ভারতীয় এই স্পিনারের কাছে। তিনি বলেন, ”আমি এই মাঠে ২৫ বছর খেলেছি। আট বছর বয়সে আমি প্রথম টেস্ট দেখতে এসেছিলাম এই স্টেডিয়ামে। এখানে খেলতে এলে আমি বীরের সম্মান পাই। কোভিডের মধ্যেও অনেকে এসেছিলেন খেলা দেখতে। দর্শকহীন প্রথম টেস্টে হেরে আমরা ০-১ এ পিছিয়ে গিয়েছিলাম। এরপর এই টেস্টে দর্শকদের ঢোকার অনুমতি দেওয়া হয়। আর আমরা সিরিজে সমতা ফেরাই।” নিজের ব্যাটিং নিয়ে বলতে গিয়ে অশ্বিন বলেন, ”প্রথম ম্যাচের থেকে এই ম্যাচের উইকেট পুরোপুরি আলাদা ছিল। এখানে প্রথম থেকেই বোলারদের ওপর চাপ বাড়াতে পারলে কাজটা কিছুটা সহজ হয়। আমি জানতাম এই পিচে আমি টিকে থাকতে পারব। যখন আমি ভাল ছন্দে থাকি না, তখন আমি আরও বেশি করে ছন্দে ফেরার চেষ্টা করি।”

অন্যদিকে এই টেস্ট জিতে ঘরের মাঠে সরবাধিক জয়ে ধোনিকে ছুঁয়ে ফেললেন অধিনায়ক কোহলী। দুজনেই জিতেছেন ২১ টি টেস্ট। তবে বিরাট দুটি কম টেস্ট( ২৮ টেস্ট) খেলেছেন। দীর্ঘদিন পর ঘরের মাঠে দর্শকপূর্ণ গ্যালারিতে খেলা কোহলী কিছুটা আবেগতারিত হয়ে পরেন তিনি। ধন্যবাদ জানান চেন্নাই দর্শকদের। ম্যাচ জেতা নিয়ে তিনি বলেন “এই জয় আমাদের খুব দরকার ছিল। আক্ষরিক অর্থে জয়। চিপকের এই পিচ কিন্তু দুটো দলের কাছেই কঠিন। দুই ইনিংসে আমরা অনেক ভাল ব্যাট করেছি। তাই সহজে টেস্ট জিতলাম। প্রথমদিন থেকে বল ঘুরলেও আমরা কেঁপে যাইনি। বরং পিচের চরিত্র বুঝে আমরা ব্যাট করেছি। আর তাই দুই ইনিংস মিলিয়ে ৬০০ রানে বেশি করতে পারলাম। তাই কেউ এই পিচকে কাঠগড়ায় দাঁড় করালেও আমি কিন্তু পিচকে দোষ দেব না। সেই জন্য আমার মতে টস মোটেও ফ্যাক্টর হয়নি। সেটা হলে আমরা দ্বিতীয় ইনিংসে ২৮৬ রান করতে পারতাম না। প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ড কিন্তু প্রবলভাবে ম্যাচে ছিল। যদিও ওরা সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি।”

ম্যাচের সেরা অশ্বিনকে নিয়ে বলেন অশ্বিন চিপকের এই পিচকে হাতের তালুর মত চেনে। তাই ও খুব সহজে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করে গেল। শুধু তো ব্যাট করা নয়, সেই ইনিংসে ইংরেজ বোলারদের রীতিমত আক্রমণ করেছে অশ্বিন। ওকে দেখে তো আমিও উদ্বুদ্ধ হয়েছিলাম। তবে এই জয় এখন অতীত। পরের টেস্ট গোলাপি বলে খেলা হবে। আর সেই টেস্ট কিন্তু আমাদের জন্য বেশ কঠিন হতে পারে। তাই সজাগ থাকতে হবে।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সর্বাধিক রানে জয়, ঘরের মাঠে এই জয়কে সবচেয়ে স্পেশ্যাল বললেন ম্যাচের সেরা অশ্বিন। অন্যদিকে নবাগত অক্ষরকে নিয়ে তিনি বলেন “প্রথম টেস্ট খেলতে নামলে সবাই একটু চাপে থাকে। তবে ওর মধ্যে বিন্দুমাত্র জড়তা ছিল না। অনেকদিন পর এমন রাজকীয় টেস্ট অভিষেক দেখলাম। জো রুট ও অন্যান্য ইংরেজ ব্যাটসম্যানদের বিরুদ্ধে অক্ষর পরিকল্পনা করে মাঠে নেমেছিল। সবসময় হাসছে। এমন ঘূর্ণি পিচে বোলিং করার জন্য এগিয়ে আসছে। তাই তো প্রথম টেস্ট (৪০/২, ৬০/৫) খেলতে নেমেই সফল হল। আশাকরি অক্ষর ভবিষ্যতেও এমনভাবেই মেলে ধরবে। আগামী দুই টেস্ট আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এদের মত তরুণ দলের কাছে সম্পদ। তাই আমি কোনও ভুল করলেও ম্যাচ হারব না। এই বিশ্বাস ওদের প্রতি তৈরি হয়ে গিয়েছে। কারণ এরাই ভবিষ্যতে দলকে এগিয়ে যাবে।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন