‘সুপারমুনের’ পূর্ণগ্রহন, মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী থাকতে চলেছে বুদ্ধপূর্ণিমার রাত।

'সুপারমুনের' পূর্ণগ্রহন, মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী থাকতে চলেছে বুদ্ধপূর্ণিমার রাত।
'সুপারমুনের' পূর্ণগ্রহন, মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী থাকতে চলেছে বুদ্ধপূর্ণিমার রাত।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ‘সুপারমুনের’ পূর্ণগ্রহন, মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী থাকতে চলেছে বুদ্ধপূর্ণিমার রাত। ইয়াসের দাপটে আপাতত কাবু ওড়িশা ও পশ্চিমবঙ্গ। এদিকে আজই বুদ্ধপূর্ণিমা। এই দিনেই জন্ম নিয়েছিলেন বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিষ্ঠাতা গৌতম বুদ্ধ। আর এমন দিনেই এক মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী থাকতে চলেছে বিশ্ব। একই সাথে আজ মহাকাশে দেখা যাবে ‘সুপারমুন’ এবং বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহন। যা হতে চলেছে পূর্ণগ্রাস অর্থাৎ সম্পূর্ণ চন্দ্রগ্রহন। ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসের পর ফের পৃথিবী ও চাঁদ সবথেকে কাছাকাছি চলে আসায় ২০২১ সালের সব চেয়ে নিকটস্থ এবং সর্ববৃহত্‍ পূর্ণচন্দ্র বা সুপারমুন দেখা যাবে এক।

আরও পড়ুনঃ বিকেল পর্যন্ত চলবে ইয়াসের তাণ্ডব, সন্ধ্যেয় পরিণত হবে সাধারন ঘূর্ণিঝড়ে।

তবে সেই সাথেই আজই হবে পূর্ণগ্রাস চন্দ্রগ্রহন। একই সাথে দুই পরিস্থিতি অতি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা। আসলে চাঁদ যে পথে পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে, তা পুরোপুরি গোলাকার নয়, অনেকটা দেখতে উপবৃত্তাকার। ফলে পৃথিবীর চারিদিকে ঘুরতে ঘুরতে চাঁদ কখনও পৃথিবীর কাছে চলে আসে, আবার কখনও পৃথিবীর থেকে দূরে চলে যায়। পৃথিবীকে আবর্তের চাঁদের কক্ষপথে একটা সময় এমন আসে যখন চাঁদ ও পৃথিবীর মধ্যে গড় দূরত্ব কমে হয় ৩৬০,০০০ কিমি, যাকে জোর্তিবিজ্ঞানের পরিভাষায় বলা হয় পেরিজি । অন্য দিকে, যখন এই দুই গ্রহ ও উপগ্রহের মধ্যে সব চেয়ে বেশি দূরত্ব বেড়ে হয় ৪০৫,০০০ কিমি, তখন তাকে বলা হয় অ্যাপোজি। এবার চাঁদের কক্ষপথে চাঁদ যখন পৃথিবীর খুব কাছে চলে আসে এবং একইসঙ্গে পূর্ণ চাঁদ থাকে তখন পৃথিবী থেকে চাঁদকে শুধু উজ্জ্বলই দেখায় না, স্বাভাবিক পূর্ণ চাঁদের তুলনায় অনেক বড়ও দেখায়। NASA-র সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৯৭৯ সালে জোর্তিষী রিচার্ড নোল্লে সুপারমুন কথাটির প্রচলন করেন। একটি সাধারণ বছরে, দু’টি থেকে চারটি পূর্ণ সুপারমুন থাকতে পারে।

প্রায় এক মাস আগে ২৬ এপ্রিল, আরও একটি পূর্ণিমা ছিল, তবে আজ যে সুপারমুনটি দেখা যাবে তা পৃথিবীর সঙ্গে ০.০৪ শতাংশের ব্যবধানে কাছাকাছি থাকবে। তাই আজ দু’টি মহাজাগতিক ঘটনা একসঙ্গে ঘটবে। সুপারমুনের সঙ্গে হবে পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ যেখানে চাঁদ ও সূর্য পৃথিবীর বিপরীত দিকে থাকে। পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণের কারণে, যেহেতু পৃথিবী, চাঁদে সূর্যের আলো পৌঁছাতে বাধা দেয় এবং পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল সূর্যের আলো পরিস্রুত করে, তাই চাঁদকে গোলাপি আভায় লাল দেখায়। বুধবার সকালে, চাঁদ পৃথিবীর বিপরীত দিকে থাকবে এবং পুরো আলোকিত হবে। কেন্দ্রীয় দিবালোকের সময় সকাল ৬ টা ১৩ মিনিটে অর্থাত্‍ ভারতীয় স্ট্যান্ডার্ড সময় ভোর ৪ টের সময়ে ঘটনাটি ঘটবে।

‘সুপারমুনের’ পূর্ণগ্রহন, মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী থাকতে চলেছে বুদ্ধপূর্ণিমার রাত। আকাশ পরিষ্কার থাকলে সমগ্র পৃথিবীর মানুষ সারা রাত ধরে সুপারমুন দেখতে পারবে। যা গভীর রাতে বা ভোরের দিকেই সব চেয়ে ভালো দেখা যাবে। তবে NASA জানিয়েছে, চন্দ্রগ্রহণ প্রত্যক্ষ করা খুব একটা সহজ হবে না। তবে চাঁদ যখন পৃথিবীর ছায়ায় চলবে অর্থাত্‍ আংশিক চন্দ্রগ্রহণ, সেটা কিছু কিছু জায়গায় দেখা যাবে। ভারত, নেপাল, পশ্চিম চিন, মঙ্গোলিয়া এবং রাশিয়ার পূর্ব দিকে সন্ধ্যায় আকাশে চাঁদ ওঠার ঠিক পরে আংশিক চন্দ্রগ্রহণ লক্ষ্য করা যেতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here