নজরবন্দি ব্যুরো: ১৯৫৯ সালের আগস্ট মাসে দুবারের চেষ্টায় ইংলিশ চ্যানেল পার হয়েছিলেন মিহির সেন। স্বপ্ন সার্থক হয়েছিল মিহির সেনের। মিহির সেনের এই সাফল্যে ১৯৫৯ সালে ভারত সরকার তাকে পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত করে। জওহরলাল নেহরু তার এই অবিশ্বাস্য সাফল্যের জন্য ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন।
আরও পড়ুন: ১১ বছরের খরা কাটল না, বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া


কিন্তু অসম্ভবের অভিযাত্রী মিহির সেন যে এখানেই থেমে যেতে চাননি। তার দু চোখে তখন সাত সমুদ্র পার হওয়ার স্বপ্ন। যার নাম দিয়েছিলেন ‘অপারেশন সেভেন সিজ’। সেই স্বপ্নেরই ফল ১৯৬৬ সালে শ্রীলঙ্কা ও ভারতের মধ্যবর্তী জলপ্রণালী যা ‘পক স্ট্রেট’ নামে খ্যাত, সেই প্রণালী সাঁতরে পার হওয়া।

এই অভিযানের জন্য নৌবাহিনীর একটি বোট ভাড়া করার সবটা অর্থ তিনি জোগাড় করতে পারেননি। এজন্য মরিয়া হয়ে যাত্রা শুরুর কয়েক দিন আগে তিনি ইন্দিরা গাঁধীকে অর্থসাহায্য চেয়ে চিঠি লেখেন। ইন্দিরা পত্রপাঠ সেই টাকা পাঠিয়ে দেন। ১৯৬৬র এপ্রিল মাসের ৫ ও ৬ তারিখ জুড়ে টানা পঁচিশ ঘণ্টা ছত্রিশ মিনিট সাঁতার কেটে তিনি পক স্ট্রেট পার হন।



এই সাফল্য মিহির সেনের মধ্যে আরো মনোবল বাড়িয়ে দিয়েছিল। তিনি ওই বছরেরই অগস্টের ২৪ তারিখ ইউরোপ ও আফ্রিকার মধ্যবর্তী ‘স্ট্রেট অব জিব্রাল্টার’ বা জিব্রাল্টার প্রণালী পার হন আট ঘণ্টা এক মিনিট সাঁতার কেটে। যুগিয়েছিল। এর ফলে মিহির হয়ে যান প্রথম এশিয়াবাসী তথা ভারতীয়। এর পর সেপ্টেম্বরে তিনি হাজির হন উত্তর-পশ্চিম তুরস্কের ‘ডারডেনেলস’- প্রাচীন জলপ্রণালীর তীরে।
এই প্রণালী এশিয়া মাইনরের সেডুলবাহির ও ইউরোপের গাল্লিপোলি উপদ্বীপের এক প্রাকৃতিক জলপ্রণালী, যা এশিয়া ও ইউরোপের সংযোগস্থল। চল্লিশ মাইল লম্বা এই প্রণালী মিহির পার হন ১৯৬৬র ১২ সেপ্টেম্বর, ১৩ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট সাঁতার কেটে। তাঁর এই অবিশ্বাস্য সাফল্য গিনেস বুকে নথিবদ্ধ হয়ে আছে। ১৯৬৭ সালে ভারত সরকার তাঁকে ‘পদ্মভূষণ’ সম্মান দেয়।
এক বছরে পাঁচ মহাদেশের সমুদ্র সাঁতরে পার করা এই বাঙালির আজ মৃত্যু দিন

তাঁর এই সাফল্যের দিনগুলোর কথা ‘অনারেবল সোসাইটি অব লিঙ্কন ইন’এর ‘ব্ল্যাক বুক’-এ আজও নথিভুক্ত হয়ে আছে। এ এক বিরল সম্মান। সেই মহান কিংবদন্তি বাঙালি মিহির সেন ৬৬ বছর বয়সে ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৯৯৭ সালের ১১ জুন চলে যান। শুধু রেখে যান তাঁর কীর্তি ও দূরকে জয় করার অপূতভূর্ব অনুপ্রেরণা।







