পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আর দলে ফেরাবে না তৃণমূল, তাঁর ছায়াও মাড়াবে না কেউ!

জামিনে মুক্তি পেয়েই সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা পার্থর, কিন্তু কালীঘাট জানিয়ে দিল—তিনি এখনও সাসপেন্ডেড এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফিরবেন না দলে

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সওয়া তিন বছর পর জামিনে মুক্তি পেয়েই ফের রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। একের পর এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করছেন, তাঁর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক সম্পর্ক এখনও অটুট। এমনকি তাঁর কথায়, তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের “অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ”। কিন্তু তাঁর এই দাবির মাঝেই কালীঘাট থেকে স্পষ্ট করে দেওয়া হল দলের অবস্থান—পার্থ এখনও সাসপেন্ডেড, এবং দল তাঁর কাছে ফিরতে চাইছে না।

দলের মুখপাত্রদের কালীঘাট নির্দেশ দিয়েছে, পার্থ সম্পর্কে প্রশ্ন উঠলে স্পষ্ট জানাতে হবে—দুর্নীতির অভিযোগে তাঁকে ৬ বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে, যার মধ্যে মাত্র সওয়া তিন বছর পেরিয়েছে। এখনও বাকি রয়েছে প্রায় দুই বছর সাত মাস। তাছাড়া নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত এখনও শেষ হয়নি, ফলে পার্থ এখনই দলে ফিরে আসার উপযুক্ত নন। জামিনে মুক্তি পাওয়া মানেই যে তিনি নির্দোষ—তা নয়, এমনটাই জানানো হয়েছে অভ্যন্তরীণ বার্তায়।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আর দলে ফেরাবে না তৃণমূল, তাঁর ছায়াও মাড়াবে না কেউ!

জামিন পাওয়ার পর তাঁর নাকতলার বাড়িতে সংবাদমাধ্যমের ভিড় লেগে রয়েছে। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পার্থ বারবার তাঁর ব্যক্তিজীবনের কথা তুলেছেন। বিশেষ করে অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে তিনি প্রকাশ্যে বলেছেন, স্ত্রী মারা যাওয়ার পর অর্পিতা তাঁর জীবনের শূন্যতা পূরণ করেছেন। তিনি আরও বলেন, “অর্পিতা ছিল, আছে, থাকবে।” ওড়িয়া ছবির “নম্বর ওয়ান অভিনেত্রী” বলে অর্পিতাকে উল্লেখ করতেও ভোলেননি তিনি।

পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আর দলে ফেরাবে না তৃণমূল, তাঁর ছায়াও মাড়াবে না কেউ!
পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আর দলে ফেরাবে না তৃণমূল, তাঁর ছায়াও মাড়াবে না কেউ!

তবে পার্থর এই প্রচার ও সম্পর্ক প্রকাশ্যে আনাকে ভালো চোখে দেখছে না দল। পার্থর সাক্ষাৎকারে যেভাবে ব্যক্তিগত প্রসঙ্গ এবং আত্মপ্রচার ঘুরে ফিরে আসছে, তা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—একজন দুর্নীতি অভিযুক্ত নেতাকে এতটা কাভারেজ কেন দেওয়া হচ্ছে? তৃণমূলও এই প্রতিক্রিয়া নজরে রেখেছে।

কালীঘাট সূত্রের বক্তব্য আরও সরাসরি। দলের এক ঘনিষ্ঠ নেতৃত্ব বলেন, “অনেক নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, কিন্তু পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বান্ধবীর বাড়ি থেকে ৫০ কোটি টাকা উদ্ধার—এটা দলের কাছে ‘দৃশ্য দূষণ’। এমন অপমান অন্য কোনও নেতা দলের ঘাড়ে চাপাননি। তাই তাঁর ছায়াও দল মাড়াবে না।”

এই অবস্থায় পার্থ ঘোষণা করেছেন, তিনি খুব শিগগিরই বিধানসভায় যাবেন। যদিও তাঁর শরীর এখনও সম্পূর্ণ সুস্থ নয়—পা ও হাত ফুলে রয়েছে। তবু তিনি দাবি করছেন, তিনি বিধানসভায় উপস্থিত থাকবেন এবং হাত তুলেই বক্তব্য রাখার চেষ্টা করবেন।
আইনগতভাবে তিনি এখনো বেহালা পশ্চিমের বিধায়ক, ফলে বিধানসভায় যাওয়ার অধিকার তাঁর রয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো—তৃণমূল বিধায়করা তাঁকে গ্রহণ করবেন কি? দলের অভ্যন্তরে মনে করা হচ্ছে, পার্থ বিধানসভায় গেলে তিনি অস্বস্তির মুখে পড়বেন। যাঁরা একসময় তাঁর সঙ্গে দেখা করার জন্য লাইনে দাঁড়াতেন, এখন তাঁরা মুখ ফিরিয়ে নেবেন। কালীঘাটের মত—এই অস্বস্তির দায় পার্থরই।

দলের কাছে সবচেয়ে বড় বিব্রতকর বিষয় রয়ে গেছে অর্থ–কাণ্ড। অর্পিতা মুখোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া ৫০ কোটি টাকা এখনও মানুষের স্মৃতিতে তাজা। সেই স্মৃতি মুছতে না মুছতেই পার্থর নতুন করে অর্পিতা-প্রসঙ্গ তোলা, সম্পর্ক নিয়ে গর্ব করা—সবটাই দলের অবস্থানকে বিপাকে ফেলছে। তাই কালীঘাটের বার্তা আরও দৃঢ়—পার্থ এখন দলের কাছে অচ্ছুত, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ফিরে আসার প্রশ্নই নেই

এই কঠোর বার্তার পর পরিষ্কার—পার্থ যতই বলুন তিনি তৃণমূলের “অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ”, দল কিন্তু তাঁকে ফিরে পেতে চাইছে না। বরং দল চাইছে, তদন্ত শেষ হোক, আদালত সিদ্ধান্ত দিক, তারপরই বিবেচনা করা যাবে তাঁর ভবিষ্যৎ ভূমিকা।

রাজনৈতিক মহলে এখন প্রশ্ন—পার্থ কি সত্যিই দল ছাড়া নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারবেন? নাকি তাঁর এই প্রকাশ্য সক্রিয়তা আসলে চাপ তৈরি করার কৌশল? উত্তর দেবে সময়ই।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন