সন্দেশখালির ‘বেতাজ বাদশা’ শেখ শাহজাহান এখন পুলিশের জালে। ইডির উপর হামলার ৫৫ দিন পর বিভিন্ন টালবাহানার পর তাঁকে গ্রেফতার করা গিয়েছে। এরপরই শাহজাহানকে (Sheikh Shahjahan suspend) দল থেকে সাসপেন্ড করল শাসক দল তৃণমূল। বৃহস্পতিবার দুপুরেই এই কথা ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি আগামী দিনে আরও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও জানানো হয়েছে।



আরও পড়ুন: ১০ দিনের জেল হেফাজতের পরই গন্তব্য ভবানী ভবন, শাহজাহান মামলার তদন্তে CID
এদিন দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু, কাকলি ঘোষ দস্তিদার। জানানো হয়, শেখ শাহজাহানকে আগামী ৬ বছরের জন্য দল থেকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। ডেরেক বলেন, রাজনীতিতে দুই ধরনের মানুষ থাকে। একদল কেবল মুখেই বলে। কিন্তু তৃণমূল যা বলে তাই করে। অতীতেও দেখা গিয়েছে, আরও একবার এর প্রমাণ পাওয়া গেল। শেখ শাহজাহান যে সমস্ত পদে রয়েছেন সেগুলির বিষয়েও কড়া ভাবনা করা হবে।

বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) প্রশ্ন তোলেন, ‘ইডি কেন এতদিনে শেখ শাহজাহানকে ধরতে পারেনি?’ একইসঙ্গে সারদা মামলায় অভিযুক্ত সুদীপ্ত সেনকেও রাজ্য পুলিশ গ্রেফতার করেছিল সেই কথাও মনে করিয়ে দেন। সূত্রে খবর, শেখ শাহজাহানকে উত্তর ২৪ পরগনার জেলা পরিষদের মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ কর্মাধ্যক্ষের পদ থেকেও সরানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার শাহজাহানকে দশ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করা হয়েছে। শাহজাহান মামলার তদন্ত ভার নিয়েছে সিআইডি (CID)।


গ্রেফতার হতেই শাহজাহানকে বড় ‘শাস্তি’ তৃণমূলের, আরও কড়া পদক্ষেপের ভাবনা শাসক দলের

রেশন দুর্নীতি মামলায় (Ration Distribution Case) ধৃত জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সূত্র ধরে শেখ শাহজাহানের হদিশ পায় ইডি। গত ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালিতে তাঁর বাড়িতে হানা দেয় তদন্তকারী আধিকারিকরা। কিন্তু বাড়িতে ছিলেন না শাহজাহান। সেখানে গিয়ে স্থানীয়দের হাতে আক্রান্ত হয় ইডি। সেই ঘটনার ৫৫ দিন পর বৃহস্পতিবার গ্রেফতার করা হয় তাঁকে। বিগত কয়েক সপ্তাহে রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল সন্দেশখালি। স্থানীয় মহিলারা শাহজাহানের গ্রেফতারির দাবিতে পথে নেমে পড়েন। শেখ শাহজাহান গ্রেফতার হতেই সন্দেশখালিতে উল্লাস শুরু হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা খুশিতে মিষ্টি বিলি করে। তাঁদের কথায়, ‘আজ যখন শাহজাহান গ্রেপ্তার, সেই খুশিতেই বোমা ফাটাচ্ছে সবাই, মিষ্টি খাচ্ছে।







