রাজ্য সভার প্রাক্তন সাংসদ শান্তনু সেনকে দলের মুখপাত্র পদ থেকে অপসারণ করল তৃণমূল! আরজি করে তরুণী চিকিৎসককে খুন এবং ধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তাল গোটা রাজ্য। এই ইস্যুতে প্রথম থেকেই রাজ্য সরকারের পক্ষেই বয়ান দিচ্ছিলেন শান্তনু। কিন্তু, বুধবার তিনি বলেন, আরজি কর ইস্যু নিয়ে তিনি আর বক্তব্য রাখবেন না। কারণ, তাঁর ধারণা, চিকিৎসক মহল মনে করছে তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে এবং দলের তরফেও নাকি শান্তনুর মন্তব্যকে সমর্থন করা হয়নি। কিন্তু, অন্য ইস্যু নিয়ে তিনি মুখপাত্র হিসাবেই কাজ করে যাবেন বলেছিলেন। যদিও তৃণমূল একেবারে মুখপাত্র পদ থেকেই তাঁকে সরিয়ে দিল।
বুধবার শান্তনু সেন একটি প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমে বিস্ফোরক বয়ান দেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর মেয়ে আরজি করে পড়ার সময় কেবল ‘তৃণমূলপন্থী’ বাবার জন্য নানান চক্রান্তের শিকার হন। পাশাপাশি, তিনি বলেন, “চিকিৎসকমহল ও তৃণমূল দলের মধ্যে একটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে। আমি কারুর পক্ষে নেই। এই ঘটনা খুবই নিন্দাজনক। আরজি কর ইস্যু নিয়ে আমি আর মন্তব্য করব না।” শান্তনুর পদত্যাগ সম্পর্কে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক জয়প্রকাশ মজুমদার বলেছেন, দলের তরফে আগেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে স্বাধীনতার আগের রাতে শহর ও জেলায় হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় বেরিয়ে প্রতিবাদ জানান। সকলের একটাই দাবি, প্রকৃত দোষীর বিচার চাই। রাত দখলের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেও ভিন্ন মত শোনা গেল তৃণমূলের অন্দরে। একদিকে সুখেন্দু শেখর দে, মহুয়া মৈত্র এই কর্মসূচিকে সমর্থন করলেও কুণাল ঘোষ, দেবাংশু ভট্টাচার্য বাম ও বিজেপির ‘চক্রান্ত’ বলে কটাক্ষ করেন।
আরজি কর ইস্যুকে কেন্দ্র করে মানুষের মনে ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। শুধুমাত্র মহিলারা মিছিলের ডাক দিলেও পুরুষরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মিছিলে পা মেলান। যাদবপুর, অ্যাকাডেমি, কলেজ স্ট্রিটে মূলত রাত দখলের ডাক দিলেও সমস্ত জেলাতেই কমবেশি এই কর্মসূচি পালিত হল। আরজি করের ইস্যু নিয়ে ক্রমেই চাপ বাড়ছে শাসক দলের। এই মুহূর্তে তদন্তভার রয়েছে সিবিআই-এর হাতে।



