নজরবন্দি ব্যুরোঃ গা ঘেঁষাঘষি করে থাকলে করোনা পালিয়ে যাবে! লকডাউনের মেয়াদ বাড়লেও কার্যত লকডাউন উঠে গিয়েছিল রাজ্য তথা দেশে, ফলে করোনা ভাইরাস এখন প্রত্যেক মূহুর্তে বাড়াচ্ছে তার তীব্রতা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কনটেনমেন্ট জোন গুলিতে ফের নিশ্ছিদ্র লকডাউন ঘোষণা করেছেন। রাজ্য সরকারের তরফে বারবার বলা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্যে। বলা হচ্ছে সবাইকে মাস্ক পরার কথা।কিন্তু কে শোনে কার কথা?রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারাই ওড়াচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য কে। মোটেই করোনা ভাইরাস কে সিরিয়াসলি নিচ্ছেন না তাঁরা। আজ সেই রকমই ঘটনা ঘটল বর্ধমানে।
আরও পড়ুনঃ বিজেপি করলে ডিপ্রেশন বাড়ে, বিধায়কের মৃত্যু নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য ফিরহাদের!
এদিন বর্ধমান পুর এলাকার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের লোকো বাজার এলাকায় ত্রাণ বিলি করে তৃণমূল। কয়েকশো মানুষ ওই ত্রাণ নিতে জড়ো হন, ছিলনা কোন দূরত্ব বিধি। প্রায় গায়ে গা ঘেঁষে জমায়েত করেছিলেন শতাধিক মানুষ। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব? সংক্রমণের ভয়?উত্তরে তৃণমূলের নেতা যা বললেন তাতে তাজ্জব বনে গেছেন সাংবাদিকরা।
গা ঘেঁষাঘষি করে থাকলে করোনা পালিয়ে যাবে! জানিয়ে বর্ধমান পুর এলাকায় ৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল নেতা শিবশংকর ঘোষ বলেন, “মানুষের উৎসাহের কাছে করোনা পরাজিত হয়েছে। মানুষের সংস্পর্শে এলে করোনা হয়। কিন্তু সংস্পর্শে এসে দেখা যাচ্ছে করোনা পালিয়ে গিয়েছে। করোনা যাতে ফেরত না আসে তার জন্যই সাধারণ মানুষ গা ঘেঁষাঘেঁষি করে আছেন। আমি আল্লা, ঈশ্বর ভগবানের কাছে প্রার্থনা করব করোনা যেন আর না আসে।”
আরও পড়ুনঃ রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে করোনার তাণ্ডব। দেখুন জেলার চিত্র।
এদিকে, গত কয়েক দিন ধরেই রাজ্যে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ। গতকাল নজিরবিহীন ভাবে একদিনেই সংক্রামিত হন ১ হাজার ৫৬০ জন এবং মৃত্যু হয় ২৬ জনের। নতুন ১৫৬০ জন আক্রান্ত কে নিয়ে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩০ হাজার ১৩ জন।পাশাপাশি মৃত্যুমিছিলও অব্যাহত রয়েছে রাজ্যে। রাজ্যে করোনা ভাইরাসে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩২। কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগণা, দক্ষিন ২৪ পরগণা, হাওড়া এবং হুগলী তে কার্যত বেলাগাম করোনা ভাইরাস। বাদ নেই উত্তরের জেলা গুলিও, কার্যত সংকট জনক পরিস্থিতি মালদা, দক্ষিন দিনাজপুর বা দার্জিলিং জেলাতেও। প্রতিদিনই তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন রেকর্ড।



