নজরবন্দি ব্যুরো: বিজেপিতে অবস্থান কী, আর কয়েক মাস পরেই বঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজবে। আসন্ন এই নির্বাচনকে ঘিরে তপ্ত বঙ্গ রাজনীতি। বেড়েছে দল বদলের হিড়িক। বর্তমান সময়ে শাসক শিবিরকে ধাক্কা দিয়ে গেরুয়া শিবিরে নাম লেখাচ্ছেন দলীয় কর্মীরা। শাসক দলের জন্য মুকুল রায়ের পরেই প্রাক্তন মেয়র শোভন চ্যাটার্জির দল বদল তৃণমূলের পক্ষে বড় ধাক্কা ছিল। ২০১৯ সালের শেষের দিকে দিল্লিতে গিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন শোভন চট্টোপাধ্যায় । কিন্তু তারপর থেকে বিজেপির তরফে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও, এখনও কোনও সক্রিয় কর্মসূচিতে নামানো যায়নি প্রাক্তন মেয়রকে।
যদিও শোনা যাচ্ছে, আগামী সোমবার ফের একদফায় রাজপথে দলীয় কর্মসুচি নিয়ে নামবেন। সঙ্গে থাকবেন চেষ্টা করছে বিজেপি। যদিও এরইমধ্যে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিয়ে তৃণমূলের পদক্ষেপকে ঘিরে জল্পনা তৈরি হয়েছে। তৃণমূলের তরফে বিজেপিতে যোগ দেওয়া দলের বিধায়কদের অবস্থান জানতে চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন শুভ্রাংশু রায়, শীলভদ্র দত্তের মতো বিধায়করা। এইসব বিধায়কদের বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান কোথায়, তা জানতে চেয়েই এই চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে খবর। এখনও পর্যন্ত সামনাসামনি ১৫ জন বিধায়ক তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে শুভেন্দু অধিকারী অবশ্য বিধায়ক পদে ইস্তফা দিয়েই বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন।


যদিও অন্যরা বিধায়ক পদে ইস্তফা দেননি। এইসব বিধায়কদের মধ্যে থেকে শোভন চট্টোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে বাকি বিধায়কদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। যা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। সূত্রের খবর, শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বর্তমান অবস্থান নিয়ে ইন্ধন জোগাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, তৃণমূল শিবিরের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের কথাও মাথার রাখা হয়েছে।
তবে এও শোনা যাচ্ছে, এখন শোভন চট্টোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠানো না হলেও ভবিষ্যতে তাঁকে চিঠি পাঠানোর একটা প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হয়েছে। উল্লেখ্য, গেরুয়া শিবিরে নাম লেখানোর পরেও কিছুটা ব্রাত্য হয়ে ছিলেন শোভন। গুরুত্বপূর্ণ পদ কিংবা গুরুত্ব না পাওয়া নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে নির্বাচনী আবহে যাতে তাঁরা বেঁকে না বসেন সেজন্য তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয় বিজেপি।
শোভন চট্টোপাধ্যায়কে কলকাতার পর্যবেক্ষক আর বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে সহ আহ্বায়কের পদ দেওয়া হয়। এরপর মুরলিধর সেন লেনে বিজেপির পার্টি অফিসে তাঁদের জন্য আলাদা ঘরের বন্দোবস্তও করা হয়। কিন্তু তারপরেই ৪ জানুয়ারি সোমবার রোড শো কর্মসূচিতে নামানো যায়নি শোভন চট্টোপাধ্যায়কে।


বিজেপিতে অবস্থান কী, সেইসময় বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, তাঁর শরীর খারাপের জন্য যাননি শোভন চট্টোপাধ্যায়। এরপর অবশ্য শোভন চট্টোপাধ্যায়কে সক্রিয় করতে নতুন করে কর্মসূচি নিয়েছে বিজেপি। ঠিক হয়েছে ১১ জানুয়ারি শোভন চট্টোপাধ্যায়ের বাসস্থান গোলপার্ক থেকে সেলিমপুরে বিজেপির পার্টি অফিস পর্যন্ত মিছিল করবে বিজেপি। মিছিল শেষে শোভন চট্টোপাধ্যায় এবং বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংবর্ধনাও দেওয়া হবে। বিজেপির তরফে আশা প্রকাশ করা হয়েছে, এই কর্মসূচিতে থাকবেন শোভন-বৈশাখী উভয়েই।







