রাত পোহালেই ভোট সপ্তমী, ‘১৬-‘১৯ দেখে নিন কোন দল কোথায় দাঁড়িয়ে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাত পোহালেই ভোট সপ্তমী, করোনার ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্যেই আগামিকাল ৩৪ আসনে হতে চলেছে ভোট গ্রহণ। ভোট হওয়ার কথা ছিল ৩৬ টি আসনে। কিন্তু দুই প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ার ফলে আগামিকাল ভোট গ্রহণ হবে ৩৪ তি আসনে। মুর্শিদাবাদ জেলার সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুরে ভোট স্থগিত হয়েছে। এই দুই আসনে ভোট গ্রহণ হবে আগামি ১৬ই মে।

আরও পড়ুনঃ সারা দেশে যে কোনো মূল্যে অক্সিজেন সরবরাহ করুক কেন্দ্র, আর্জি পুত্রহারা ইয়েচুরির

রাত পোহালেই ৫ জেলার ৩৪ টি আসনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন মানুষ। ৩৪ আসনের মধ্যে রয়েছে, দক্ষিণ দিনাজপুরের ৬ এবং পশ্চিম বর্ধমানের ৯ মালদহের ১২টির মধ্যে ৬, মুর্শিদাবাদ জেলার ২২টির মধ্যে ৯ (সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুর বাদে) এবং কলকাতার ১১টি আসনের মধ্যে ৪টি আসন। ২০১৬ সালের নির্বাচনে এই দফার ৩৬(সামশেরগঞ্জ এবং জঙ্গিপুর সহ) আসনের মধ্যে তৃণমূল জিতেছিল ১৪ আসনে এবং বাম কংগ্রেস জোট বেঁধে জিতেছিল ২২টি আসন। বাম ১০ এবং কংগ্রেস ১২।

কিন্তু পট পরিবর্তন হয় ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনে। ২০১৬ তে একটিও আসন না জেতা বিজেপি লোকসভার ভিত্তিতে এগিয়ে যায় ১৬ টি আসনে। কংগ্রেস থমকে যায় ৪টি আসনে এবং তৃণমূল ১৪ টির যায়গায় ২টি আসন বাড়িয়ে এগিয়ে যায় ১৬ টি আসনে। বামেরা ১০ থেকে শূন্যতে নেমে আসে! লোকসভার ভিত্তিতে বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩৬.৫৭ শতাংশ। তৃণমূলের ৩৮.৫৪ শতাংশ। বামেরা ৬.৮৪ এবং কংগ্রেস ১৩.৭৫ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।

রাত পোহালেই ভোট সপ্তমী, এবার দেখে নিন এই আসনগুলিতে ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের ভিত্তিতে কোন দল কত ভোট পেয়েছিল।
হবিবপুরে ১,০৭,৬৩০ ভোট পেয়ে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূল পায় ৫৩,৭৯৪ ভোট। কংগ্রেস ১১,৩৯৯, সিপিএম ৮,৪৭৩ ভোট পেয়েছিল।
গাজোলে ১,০৮,৩৫১ ভোট পেয়ে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূল পায় ৬৭,১৮০ ভোট। সিপিএম ৫,৯৩৬ ও কংগ্রেস ১৮,৫৫০ ভোট পায়।
চাঁচলে ৬৪,৩৩৮ ভোট পেয়ে এগিয়ে কংগ্রেস। তৃণমূল পায় ৫৫,১৪৪ ভোট। বিজেপি ৪৮,৯৮৭ ভোট পেয়েছিল। সিপিএম পায় ১২,১৪৪ ভোট।
হরিশ্চন্দ্রপুরে ৬৩,১১৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে তৃণমূল। কংগ্রেস পায় ৬০,৬০৫ ভোট। বিজেপি পেয়েছিল ৪৭,৪৯০ ভোট। সিপিএম পেয়েছিল ৭,৫০০ ভোট।
মালতিপুর ৬৪,৪৩৮ ভোট পেয়ে এগিয়ে কংগ্রেস। তৃণমূল পেয়েছিল ৫৮,৭৯৪ ভোট। বিজেপির প্রাপ্ত ভোট ছিল ৩৫,৪৮৮। সিপিএম পায় ৪,৭১৬ ভোট।

ফারাক্কায় ৭৬,১০৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে কংগ্রেস। বিজেপি পেয়েছিল ৪৬,৮৮৬ ভোট। তৃণমূল পায় ৪৪,৫২৮ ভোট।
রতুয়ায় ৭৬,০০৮ পেয়ে এগিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস পেয়েছিল ৫৭,৯১৩ ভোট। বিজেপি পায় ৫৫,০২৭ ভোট। সিপিএম পায় ৭,২২২ ভোট।
সুতিতে ৯৪,৯১১ ভোট পেয়ে এগিয়ে তৃণমূল। বিজেপি পায় ৫০,৯৫৭ ভোট। কংগ্রেস পেয়েছিল ২৯,২৯০ ভোট। সিপিএম ১০,২০৯ ভোট পেয়েছিল।
রঘুনাথগঞ্জে ৯৩,১৫৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে তৃণমূল। বিজেপি পেয়েছিল ২৮,৭২৭ ভোট। কংগ্রেস পায় ৩০,৫৯৮ ভোট। সিপিএম পেয়েছিল ১৪,৯৬৪ ভোট।

সাগরদিঘিতে ৭৫,৩৭৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে তৃণমূল। বিজেপি পেয়েছিল ৪১,৯৬৭ ভোট। কংগ্রেস ৪০,৬২৬ ও সিপিএম ১২,২৯১ ভোট পেয়েছিল।
লালগোলায় ৬৫,১২৮ ভোট পেয়ে এগিয়ে তৃণমূল। কংগ্রেস পেয়েছিল ৪৬,৫৮৮ ভোট। বিজেপি ২৮,১৭২ ও সিপিএম ২৪,৭৫৭ ভোট পেয়েছিল।
নবগ্রামে ৭৬,৫৭৪ ভোট পেয়ে এগিয়েছিল তৃণমূল। বিজেপি ৫১,৭৫৭ ভোট পেয়েছিল। কংগ্রেস ৪৮,০৮৯ ও সিপিএম ১৩,৩৮৮ ভোট পেয়েছিল।
রানিনগরে ৯৪,৪৫৫ ভোট পেয়ে এগিয়ে তৃণমূল। কংগ্রেস পেয়েছিল ৫৪,৯৯৩ ভোট। বিজেপি ১৭,৪৩৫ ও সিপিএম ৩৩,৭২৫ ভোট পেয়েছিল।
মুর্শিদাবাদে ৮০,৯৬৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূল পেয়েছিল ৭৭,৫৬৭ ভোট। কংগ্রেস ৩৯,২৯৭ ও সিপিএম ১২,৮১৪ ভোট পেয়েছিল।

পাণ্ডেবশ্বরে ৭০,২৯৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূল পায় ৬৪,২৭৫ ভোট। সিপিএম ১১,৫৮৩ ভোট পেয়েছিল।
রানিগঞ্জে ৯২,৮৮২ ভোট পেয়ে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূল পায় ৬১,১৭২ ভোট। সিপিএম পেয়েছিল ১৮,৪৩৬ ভোট।
জামুড়িয়ায় ৭৬,০৫১ ভোট পেয়ে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূল পায় ৫৭,৯৯৯ ভোট। সিপিএম পেয়েছিল ১৫,৫৪৯ ভোট।
আসানসোল উত্তরে ৯৮,০২০ ভোট পেয়ে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৭৭,৭০৬। সিপিএম পায় ৯,৮৪৩।

আসানসোল দক্ষিণে ১,১১,০২১ ভোট পেয়ে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূল পায় ৫৭,২০১ ভোট। সিপিএম পেয়েছিল ১৪,৩৯৪ ভোট।
কুলটিতে ১,০৫,১৭৬ ভোট পেয়ে এগিয়ে বিজেপি।তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৫৫,৮২৫। সিপিএম পায় ৫,৯৮৭ ভোট।
বারাবনীতে ৭৯,২৮১ ভোট পেয়ে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূল পেয়েছিল ৬১,৪০৬। সিপিএম পায় ১১,৭৬১ ভোট।
দুর্গাপুর পূর্বে ৯০,৪৫৫ ভোট পেয়ে এগিয়ে বিজেপি।তৃণমূল পেয়েছিল ৬৩,৮৬৪ ভোট। সিপিএমের প্রাপ্ত ভোট ২৮,২৯৭।
দুর্গাপুর পশ্চিমে ১,০৯,১৫৭ ভোট পেয়ে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূলের প্রাপ্ত ভোট ৫৯,৬৪২। সিপিএম পেয়েছিল ২২,০১১ ভোট।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত