নজরবন্দি ব্যুরোঃ সাময়িক ভাবে সাসপেনশন তুলে ৬ জেলার দায়িত্ব সুশান্ত কে! প্রাক্তন মন্ত্রী তথা সিপিআইএমের দোর্দোন্ডপ্রতাপ নেতা সুশান্ত ঘোষ ফিরতে চলেছেন নিজের জেলা পশ্চিম মেদিনীপুরে। প্রাক্তন মন্ত্রী তথা গড়বেতার সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক ডিসেম্বরের ৬ তারিখে ফিরছেন নিজের জেলায়। কিন্তু সুশান্ত নেজের জেলাতে ফেরার অনুমতি পেলেও তেমন উচ্ছ্বাস নেই জেলা সিপিআইএম নেতৃত্বের। বরং জেলা নেতৃত্বের একাংশ প্রবল বিক্ষুব্ধ সুশান্ত প্রত্যাবর্তনে।
আরও পড়ুনঃ ‘সরকার কখনই বলেনি গোটা দেশকে ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।’ স্বাস্থ্যমন্ত্রক!
অন্যদিকে দলের তরুন সমর্থকদের চাপে পড়ে সুশান্ত কে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছে আলিমুদ্দিন! সূত্রের খবর সাময়িক ভাবে তাঁর সাসপেনশন তুলে নিয়েছে সিপিআইএম। বেশকিছু দিন ধরেই সুশান্ত ঘোষকে সংগঠনের কাজে লাগানোর ব্যাপারে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি তুলছিলেন দলের তরুণ প্রজন্ম। তাঁর হয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছেন দলের তরুন অনুগামীরাই। পোস্টার পড়েছে তাঁর নামে। সেখানে লেখা হয়েছে,’সত্যের জয় সর্বদা, টাইগার ইজ ব্যাক।’ এই প্রসঙ্গে সুশান্ত ঘোষ বলেছেন, “টাইগার কিনা জানি না। তবে ফের লাল ঝান্ডা নিয়েই মাঠে নামব। দল যা বলবে তা করব।”
সূত্র জানাচ্ছে সিপিআইএম দলের তরুন সমর্থকদের চাপে পড়ে সুশান্ত কে বর দায়িত্ব দিয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা নেতৃত্ব কে উপেক্ষা করে! সিপিআইএম সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, বিধানসভা নির্বাচনে পশ্চিম ও পূর্ব মেদিনীপুরের সবকটি সহ ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার বিভিন্ন বিধানসভার দায়িত্ব পেয়েছেন সুশান্তবাবু।
উল্লেখ্য, সুশান্ত বেনাচাপড়া কঙ্কালকান্ডে গ্রেফতার হন ২০১১ সালে। ২০১২ সালে জামিন পেলেও আদালত ছাড়পত্র দেননি জেলায় ঢোকার। তবে এবার সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি পেয়ে জেলায় ফিরছেন সুশান্ত ঘোষ। তিনি নিজের বাড়ি ফিরতে পারবেন ৮ বছর পর ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। কঙ্কাল কাণ্ড নিয়ে তিনি জানিয়েছেন, “কঙ্কাল কীভাবে এল তার সবই জানতে পারবে রাজ্যবাসী। বহু পুরনো মৃতদেহের পাশ থেকে কীভাবে স্যান্ডো গেঙ্গি পাওয়া গেল তারও রহস্য খুলবে। ৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করুন।”
তিনি একসময় ছিলেন গড়বেতার বেতাজ বাদশা। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর তিনি বেনচোপড়া কঙ্কালকাণ্ডে গ্রেফতার হন। দলের সঙ্গে কার্যত সম্পর্ক বিচ্ছেদ করেন তিনি জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর। হাত দেন বই লেখার কাজে। পার্টি বন্দরে বিতর্কে জড়ান ‘বামফ্রন্ট জামানার শেষ দশ বছর’ শীর্ষক একটি বই লিখে। সেই বইতে বুদ্ধবাবুর প্রশাসনিক দূর্বলতা নিয়ে লিখেছেন তিনি। এর ফলে দলের ভিতরেই তাঁকে সমালোচিত হতে হয়, সাসপেণ্ড করা হয় তাঁকে।



