তীব্র ভূমিকম্পে ভেঙে পড়েছে পৃথিবীর ছাদ, লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, শুধুই হাহাকার

এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে তিব্বতের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়ে আরও আফটারশক হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

তিব্বতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ১২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন ১৮৮ জন। মঙ্গলবার সকাল ৯টা নাগাদ তিব্বতের শিগাতসে অঞ্চলে এই ভূমিকম্প আঘাত হানে, যার তীব্রতা রিখটার স্কেলে ৭.১ ছিল।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল তিংরি প্রদেশের জিগাজে শহরের নিকটবর্তী জ়োগো এলাকায়, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে। এই অঞ্চলটি এভারেস্টের উত্তরের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত। কম্পনের তীব্রতা এতটাই ছিল যে, প্রভাব পড়েছে নেপাল, ভুটান এবং ভারতের কিছু অংশেও। সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে প্রায় আট লক্ষ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

Shamim Ahamed Ads

তীব্র ভূমিকম্পে ভেঙে পড়েছে পৃথিবীর ছাদ, লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, শুধুই হাহাকার

তীব্র ভূমিকম্পে ভেঙে পড়েছে পৃথিবীর ছাদ, লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, শুধুই হাহাকার

ভূমিকম্পের পরপরই বেশ কয়েকটি আফটারশক অনুভূত হয়েছে, যার মধ্যে সর্বোচ্চ তীব্রতা ছিল রিখটার স্কেলে ৪.৪। জ়োগো জনপদের প্রায় সাত হাজার এবং ডিরিং কাউন্টির প্রায় ৬২ হাজার বাসিন্দা এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এ পর্যন্ত ছয় হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছে।

উদ্ধারকাজ চলছে, তবে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চল এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে তা ব্যাহত হচ্ছে। চীনা কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সমন্বিত প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তিব্বতের এই ভয়াবহ ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বিশ্বব্যাপী সহায়তার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তীব্র ভূমিকম্পে ভেঙে পড়েছে পৃথিবীর ছাদ, লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, শুধুই হাহাকার
তীব্র ভূমিকম্পে ভেঙে পড়েছে পৃথিবীর ছাদ, লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা, শুধুই হাহাকার

এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ফলে তিব্বতের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনাগুলিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, ভূমিকম্পের পরবর্তী সময়ে আরও আফটারশক হতে পারে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সর্বসাধারণকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এই ভয়াবহ ভূমিকম্প তিব্বতের জনগণের জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে এবং পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টার প্রয়োজন হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা ও সমর্থন এই সংকট মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত