শীঘ্রপতনের সমস্যায় হতাশ, মাত্র তিনটি বদল আনুন জীবন অভ্যাসে! নারী-পুরুষ মাত্রই যৌন সমস্যা থাকতে পারে। কারণ পুরোটাই মানব শরীরের বিষয়। কিন্তু যৌনতা নিয়ে বেশিরভাগ মানুষের মধ্যেই আছে একটা রক্ষণশীল মনোভাব। দুঃখের সঙ্গে বলতে হলেও এটা সত্যি, ভারতবর্ষে এই মনোভাব এখনও অনেক বেশি দৃশ্যমান। বিশেষ করে অনেকসময় পুরুষরা কিছুতেই মানতে চান না যে তাদের মধ্যে কোনও দুর্বলতা থাকতে পারে। সমাজের পুরুষতান্ত্রিকতা থেকেই এই মনোভাবের জন্ম। শীঘ্রপতনের সমস্যা পুরুষদের মধ্যে অত্যন্ত সাধারণ একটি সমস্যা। গবেষণা বলছে, আধুনিক পুরুষের মধ্যে শীঘ্রপতনের সমস্যা ব্যাপক মাত্রায় বেড়েছে, ৩ জন পুরুষের মধ্যে ১ জনের এই সমস্যা হচ্ছে। আর তা হয়েছে বর্তমানের অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, রোগ এবং কিছু কু-অভ্যাসের কারণে। শীঘ্রপতনের সমস্যা তেমন কোনও বড় সমস্যা নয়, অনায়াসেই এর থেকে মুক্তি পাওয়া যেতে পারে।

প্রথমত, আপনাকে আগে বুঝতে হবে শীঘ্রপতন কী? জীবনে প্রথমবার মিলিত হতে গিয়ে কোনও পুরুষের যদি খুব তাড়াতাড়ি বীর্যপাত হয় তবে তা একেবারেই শীঘ্রপতন (Premature Ejaculation) নয়। বা, যদি দীর্ঘ দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে (লং ডিস্ট্যান্স রিলেশনশিপ) আপনি আপনার সঙ্গীর সাথে মিলিত হন, তাহলে তা দীর্ঘস্থায়ী নাই হতে পারে, সেটাকেও শীঘ্রপতন বলা চলে না। যখন আপনি নিয়মিত আপনার সঙ্গীর সঙ্গে মিলিত হচ্ছেন অর্থাৎ সপ্তাহে তিন থেকে চার বার, এবং প্রত্যেকবার সঙ্গমের সময় এক মিনিটের মধ্যে বীর্যপাত হচ্ছে তাহলে বুঝতে হবে আপনার শীঘ্রপতনের (Premature Ejaculation) সমস্যা রয়েছে।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের যৌন ক্ষমতা কমতে থাকে। ফলে চল্লিশের পর ধীরে ধীরে শীঘ্রপতন, লিঙ্গ শিথিলতা বা উত্থান সমস্যা দেখা দিলে ভয়ের কিছু নেই। যৌনতা নারী-পুরুষ কারুর ক্ষেত্রেই চিরকালীন নয়। তবে তা যদি নির্দিষ্ট বয়সের আগেই দেখা যায় তবে সেটা অবশ্যই একটা রোগ এবং তা নিয়ে চুপচাপ বসে থাকা একেবারেই উচিত নয়। অবিবাহিত পুরুষদের মধ্যেও শীঘ্রপতন (Premature Ejaculation) দেখা যায়। যে কারণে অনেকে বিয়ে করতে দ্বিধাগ্রস্থ হয়ে পড়েন। লিঙ্গের মাপ বা আকার ছোট বা বড় হওয়া পুরুষদের কোনও রোগ নয়। কিন্তু মনে রাখবেন, শীঘ্রপতন একটা রোগ। আর তা কুড়ি বছরের পর যে কোনও বয়সে হতে পারে।

শীঘ্রপতনের সমস্যার (Premature Ejaculation) নেপথ্যে বেশ কিছু কারণ আছে। টেস্টস্টেরন হরমোনের ক্ষরণ দেহে কমে গেলে পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ধরনের নানান যৌন সমস্যা দেখা যায়। এছাড়াও ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা, ফ্যাটি লিভারের কারণে শীঘ্রপতন দেখা যেতে পারে। গবেষণা বলে, শীঘ্রপতন একটি মানসিক বিষয়। অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে গেলে শীঘ্রপতন হতে পারে। তবে আরেকটি গবেষণা বলছে, আসলে কিছু কু-অভ্যাসের কারণে পুরুষদের মধ্যে শীঘ্রপতনের সমস্যা দেখা যায়। সেগুলি হল পর্ন দেখে হস্তমৈথুনের অভ্যেস, যৌনাঙ্গকে বিকৃত করবার চেষ্টা, ধূমপান, মদ্যপান এবং মাদক সেবন।
শীঘ্রপতন (Premature Ejaculation) ছয় মাস থেকে এক বছর টানা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ছাড়া কোনও উপায় নেই। একমাত্র ওষুধের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু যদি একেবারে শুরুতে সমস্যা ধরা পড়ে, তাহলে তা বাড়িতেই নিজে চেষ্টা করে সমাধান করা যায়।
শীঘ্রপতনের সমস্যায় হতাশ, মাত্র তিনটি বদল আনুন জীবন অভ্যাসে

১. প্রতিদিন ব্যায়াম বা যোগাভ্যাসের মাধ্যমে শীঘ্রপতন (Premature Ejaculation) সমাধান করা যায়। সেক্ষেত্রে বিশেষ করে জোর দিতে হবে পেটের ব্যায়ামের। ধনুরাসন, নৌকসন এবং শলভাসন করতে পারেন প্রতিদিন।
২. নেশা করা ছেড়ে দিন। আপনি যদি ধূমপায়ী বা মদ্যপায়ী হয়ে থাকেন তাহলে তা দ্রুত ত্যাগ করুন। মাদক সেবন নৈব নৈব চ। অবাঞ্চিত কোন সেক্স ট্যাবলেটের ব্যবহার করবেন না। জিম করলে স্টেরয়েড নেবেন না।
৩. ডায়েটে পরিবর্তন আনুন। বেশি করে খান আখরোট, আমন্ড, বিভিন্ন রকম বাদাম, ছোলা, খেজুর, তরমুজ, কলা, দুধ, সবুজ শাকসবজি, ছোট মাছ।



