থ্রেট কালচার যে শুধু হাসপাতালগুলোতে নয়, সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতেও বর্তমান, তা চোখে আঙুল দিয়ে প্রমাণ করল, শনিবার রাতে এক হেয়ার ড্রেসারের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা। যা সামনে আনলেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। আর এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে গোটা বিনোদন জগত। সুদীপ্তা চক্রবর্তী এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি পোস্ট করে এই দুঃসংবাদ দেন। ঠিক কী ঘটেছে? অভিযোগকারিণী মাস তিনেকের জন্য গিল্ড থেকে সাসপেন্ড হন।
সংসার চালাতে গিয়ে তাঁকে প্রচুর দেনা করতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ের পর তিনি কাজের অনুমতি পান। কিন্তু নিজে বাইরের কাজ জোগাড় করতে পারবেন না, এই নির্দেশ জানানো হয় তাঁকে। ওই বার্তা অনুযায়ী, “এর পরেই আমার হাত থেকে একের পর এক কাজ কেড়ে নেওয়া হতে থাকে।” উদাহরণ দিয়ে জানান, রবিবার মৈনাক ভৌমিকের আগামী ছবির লুক সেট। তিনি এই কাজটি জোগাড় করেছিলেন। শনিবার প্রোডাকশন ম্যানেজার ফোন করে জানান, গিল্ড থেকে ফোনে বলা হয়েছে তাঁকে যেন কাজটি না দেওয়া হয়। এইভাবে একাধিক কাজ চলে যেতেই হতাশ হয়ে পড়েন ওই কেশ সজ্জাশিল্পী।
এরপরেই তিনি গায়ে কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। কোনক্রমে তাকে উদ্ধার করেন তার মেয়ে। বাড়িতে অসুস্থ স্বামী, মীর পড়াশোনা সবকিছু সামলে মাত্র এক শিফটে কাজ করেন তিনি। কিন্তু সেই কাজো নাকি কেড়ে নেওয়া হয়েছে তার কাছ থেকেই। সেই শয্যাশিল্পী বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি। ডাক্তাররা তাকে ঘুমের ওষুধ দিয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখেছেন বলে খবর। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অন্যান্য শিল্পীরাও। খুবই ফেটে পড়েন গিল্ডের প্রাক্তন সম্পাদক হিমা মুন্সী।
তিনি জানান, “বিষয়টি একাধিক ফোন করেছি। প্রত্যেকটি কাজ করতে দেওয়া হোক। কিন্তু এরপরেও এমন ঘটনা ঘটবে ভাবতে পারিনি “।তবে শুধু কি ওই কিশশ্যা শিল্পী এই নির্যাতনের শিকার? ইন্ডাস্ট্রির অন্যরা কিন্তু অন্য কথা বলছেন। তারা জানিয়েছেন একা উনি নয়, অনেকের সঙ্গেই এইভাবে ব্যবহার করা হয়। সাসপেন্ড করার পর যখন কাজে ফিরি আমরা তখন দিয়ে মুছলে কার লিখিয়ে নেওয়া হয়। যে আমরা একা কোন কাজ খুঁজে নিতে পারব না, কাজ দেবে গিল। কিন্তু মুছলে কে লেখার পরেই শুরু হয় এই কান্ড।



