দিশা নেই শিল্পে, পরিষ্কার নয় জমি নীতি, TMC’র ইস্তেহার অনুদানের রাজনীতি, অভিযোগ শমীকের।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ দিশা নেই শিল্পে, পরিষ্কার নয় জমি নীতি, তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশের পর একথাই বললেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। বার্ষিক ৫ লক্ষ কর্মসংস্থান থেকে ছাত্রদের ১০ লক্ষ ঋণ, ১০ অঙ্গীকার সহ একাধিক প্রতিশ্রুতি নিয়ে আজ প্রকাশ পেল TMC’র ইস্তেহার। গত ১০ বছরে যা উন্নয়ন হয়েছে তৃতীয় বার ক্ষমতায় ফিরে তার থেকেও বেশি উন্নয়ন করবে সরকার। তাই বিজেপিকে হিংসা বা আক্রমণ করে সময় নষ্ট করতে চায়না দল। শুধু মাত্র উন্নয়নকে হাতিয়ার করেই তৃতীয় বার ক্ষমতায় ফিরতে চাইছে মমতার সরকার। একথা বেশ কয়েকদিন আগেই জানিয়েছিলেন ফিরহাদ হাকিম। নন্দীগ্রামে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আহত হওয়ায় পিছিয়ে যায় তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশ। আজ দলনেত্রীও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জঙ্গলমহল কর্মসুচী সেরে প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তেহার।

আরও পড়ুনঃ ১.৬ কোটি পরিবারের ‘কর্ত্রীকে’ মাসিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি মমতার ইস্তেহারে।

- Advertisement -

১.৬ কোটি পরিবারের ‘কর্ত্রীকে’ মাসিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি মমতার ইস্তেহারে। ইস্তেহার প্রকাশের আগেই দলের তরফ থেকে জানানো হয়েছিল দল তৃতীয় বার ক্ষমতায় এলে নিশ্চিত করবে যাতে বাংলার উন্নয়ন থেমে না থাকে। আগামী ৫ বছগরে উন্ননতর বাংলা গরবে মা মাটি মানুষের সরকার। দলের তরফ থেকে জানানো হয়েছে বিগত ১০ বছরের উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে আগামী ৫ বছর সেই স্তম্ভগুলি পরিপুর্ন করবে দল। গড়ে তুলবে দেশের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি। কর্মসংস্থান হবে বার্ষিক ৫ লক্ষ। এছাড়াও ইস্তেহার প্রকাশের শুরুতেই তিনি গত ১০ বছরের তৃণমূল সরকারের কাজের খতিয়ান দেন তিনি। জানান ২০১১ সালে ইস্তেহারে যা প্রতিশ্রুতি ছিল, ১১০ শতাংশ কাজ করেছি। দলের অনেক কাজ সারা বিশ্বে এক নম্বর হয়েছে। ইউনাইটেড নেশন কন্যাশ্রী প্রকল্পে এক নম্বর। ১০০ দিনের কাজে বাংলা এক নম্বর সারা দেশে। তার সঙ্গে এও জানান লকডাউনে যখন ৪০ শতাংশ দারিদ্র্য বেড়েছে তখন বাংলায় বেকার কমেছে ৪০ শতাংশ । এমএসএমইতে বাংলা এক নম্বরে। লক্ষ লক্ষ মানুষকে কাজ দিয়েছে এই সরকার। এছারাও তিনি জানান লকডাউনে যাঁরা চলে এসেছিলেন তাঁদের খাদ্য -চাকরিও দিয়েছে রাজ্য সরকার। তার সঙ্গে তিনি বামপন্থী বন্ধুদের কাছে অনুরোধ করেন, “বামপন্থী বন্ধুদের কাছে অনুরোধ তাঁরা নো ভোট টু বিজেপি বলছেন তার জন্য অভিনন্দন। কিন্তু তাঁরা তো ক্ষমতায় আসতে পারবে না। তাই তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভোট যেন নষ্ট না করে তৃণমূলকে দেন।”

ইস্তেহার প্রকাশের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী জানান উন্নততর বাংলা গড়ার লক্ষ্যেই এই ইস্তেহার। তৃনমূলের নির্বাচনী ইস্তেহারে আছে, রাজ্যের প্রত্যেক পরিবারের নুন্যতম মাসিক আয় সুনিশ্চিত করার জন্য শুরু হবে নতুন প্রকল্প। যেখানে ১.৬ কোটি যোগ্য পরিবারের কর্ত্রীকে মাসিক সহায়তা প্রদান করবে রাজ্য পাশাপাশি রাজ্যের ছাত্রছাত্রীদের জন্য নয়া সুবিধার কথা বলা হয়েছে ইস্তেহারে। বাংলার পড়ুয়াদের জন্য থাকবে নতুন ক্রেডিট কার্ড, যেখানে ১০ লক্ষ টাকা ক্রেডিট লিমিট থাকবে মাত্র ৪শতাংশ সুদে। ব্লক প্রতি অন্তত ১টি মডেল আবাসিক বিদ্যালয় থাকবে। রাজ্যের প্রান্তিক কৃষকদের সাহায্য করা হবে বার্ষিক ১০০০০ টাকা একর পিছু। বাংলার প্রতিটি জেনারেল কাস্টের পরিবারকে বার্ষিক ছ’হাজার টাকা ও এসটি, এসসি, ওবিসি পরিবারকে বছরে ১২ হাজার টাকা দেওয়া হবে।মুখ্যমন্ত্রীর কথায় এটা পকেটমানির মতো। খাদ্য বিনামূল্যে পাচ্ছে। স্বাস্থ্য বিনামূল্যে পাচ্ছে। এটা পকেটমানি। মানুষকে রেশন নিতে যেতে হবে না। দুয়ারে দুয়ারে রেশন পৌঁছে দেবে তৃণমূল সরকার। বছরে দু’বার করে দুয়ারে সরকার হবে। মানুষের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে ১৮ বছরের ঊর্ধ্বে জাত-ধর্ম নির্বিশেষে বিধবা ভাতা। এবং লক্ষ লক্ষ বিধবা, প্রবীণ মানুষ এবং প্রতিবন্ধীদের মে মাস থেকে এক হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে। ৩৫ লক্ষ মানুষকে চরম দারিদ্র্যে থাকা মানুষকে তুলে আনার লক্ষ্য নিয়েছে তৃণমূল। দারিদ্রসীমার নিচে থাকা মানুষের সংখ্যা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হবে। ১০ লক্ষ এমএসএমই ইউনিট গড়ে তোলা হবে। বড় শিল্পে ৫ লক্ষ কোটি বিনিয়োগ করা হবে।

দিশা নেই শিল্পে, পরিষ্কার নয় জমি নীতি, তৃনমূলের ইস্তেহার প্রকাশ পাওয়ার পরেই এমনই অভিযোগ করেছেন বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর মতে, এটা ডোল পলিটিক্স। যাকে বলে অনুদানের রাজনীতি। এভাবে রাজ্যের সমস্যা দূর করা যায় না। তিনি আরও বলেন, “” রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে বিভাজনের রাজনীতি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। পশ্চিমবঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রকল্প ভয়ে বাস্তবায়িত করেননি। আজকে এই ইস্তাহার ঘোষণার মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী নতুন কিছু সামনে আনতে পারেননি। আমরা চাই শিল্পবান্ধব রাজ্য। রাজ্যে প্রচুর শিল্প হোক, বেকার ছেলেমেয়েরা চাকরি পান। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী ইস্তাহারে যা বলেছেন, সেখানে বোঝা যাচ্ছে না কীভাবে শিল্পবিস্তার হবে। কীভাবে চাকরি হবে। এমনিতেও চুক্তিভিত্তিক কর্মীরা যে টাকা বেতন হিসেবে পান তাতে সংসার চালানো যায় না। আমরা চাই স্থায়ী চাকরির প্রতিশ্রুতি। যাতে সকলেই সংসার ভালভাবে চালাতে পারেন।”

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর