ভিডিওতে আছেন, অথচ গ্রেপ্তারিতে ছাড়! মুকুল-শুভেন্দু-সৌগতর ছাড়পত্রে ষড়যন্ত্র দেখছে রাজ্যবাসী

ভিডিওতে আছেন, অথচ গ্রেপ্তারিতে ছাড়! মুকুল-শুভেন্দু-সৌগতর ছাড়পত্রে ষড়যন্ত্র দেখছেন রাজ্যবাসী
ভিডিওতে আছেন, অথচ গ্রেপ্তারিতে ছাড়! মুকুল-শুভেন্দু-সৌগতর ছাড়পত্রে ষড়যন্ত্র দেখছেন রাজ্যবাসী

নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভিডিওতে আছেন, অথচ গ্রেপ্তারিতে ছাড়! ববি-সুব্রত গ্রেপ্তার হলে মুকুল-শুভেন্দু নয় কেনো? কেনোই বা ভিডিওতে দেখা যাওয়া বাকিদের গ্রেপ্তার করা হলোনা, এক যাত্রায় এহেন পৃথক ফলে ষড়যন্ত্র দেখছেন আম-জনতা। নারদা কান্ডের বহু বছর পেরিয়েছে বাংলায়, ভোট এসেছে-ভোট গেছে। রাজনীতির ময়দানে বিরোধী দলের পরিবর্তন আর শাসক দলের মন্ত্রী সভায় কিছু রদবদল, বাকি সব এখনো একই থেকে গেছে।

আরও পড়ুনঃ ‘আমাকেও গ্রেপ্তার করুন’, নিজাম প্যালেসে হাজির মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ক্ষমতা সেই কায়েম করেছে মমতার মা-মাটি-মানুষের সরকার। নতুন-পুরোনো মিশেলে তৈরি হয়েছে মমতা সরকার ৩.০। তবে সপ্তাহের শুরুর দিনে আচমকা সাত সকালে ববি-মদন-সুব্রত-শোভনের গ্রেপ্তারি বেশ অবাক করেছে রাজ্যবাসীকে। আর সেই গ্রেপ্তারির পরে উঠে আসছে একাধিক প্রশ্ন, যাঁরা গ্রেপ্তার হলেন হলেন, কিন্তু বাকি যাঁরা হলেন না? কেনো হলেন না সেই নিয়েই তীব্র বিতর্ক।

সোমবার সকালেই তাঁর চেতলার বাড়ি থেকে ‘গ্রেপ্তার’ রাজ্যের নতুন পরিবহণ মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম ,  নিজাম প্যালেসে নিয়ে যান সিবিআই (CBI) কর্তারা। অনুমতি ছাড়াই এই গ্রেফতার হয়েছে বলে দাবি করেছেন মন্ত্রী। সংবাদমাধ্যমকে মন্ত্রী বলেন, ‘নারদ মামলায় আমায় গ্রেফতার করা হল। এদিকে সোমবার সকালেই মদন মিত্র এবং শোভন চট্টোপাধ্যায়কে নিজাম প্যালেসে নিয়ে যাওয়া হয়। নিয়ে যাওয়া হয় সুব্রত মুখোপাধ্যায়কেও। নিজাম প্যালেসেই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয় অ্যারেস্ট মেমো। আজি আদালতে তোলা হবে ৪ জনকেই।

সূত্রের খবর, চার্জশিটের বয়ান ঠিক করে নয়াদিল্লিতে পাঠানো হয়েছিল। সেখান থেকে গ্রিন সিগন্যাল আসার পরেই সাতসকালে তড়িঘড়ি গেপ্তার করা হয়েছে। তার পর থেকেই কার্যত ক্ষোভে ফুঁসছে গোটা তৃণমূল। দিকে দিকে শুরু হয়েছে তীব্র বিক্ষোভ। সকাল বেলাতেই নিজাম প্যালেসে পৌঁছেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন বেআইনি ভাবে এঁদের গ্রেপ্তার করলে করতে হবে তাঁকেও।

এই গ্রেপ্তারি নজিরবিহীন, এই গ্রেপ্তারি বেআইনি দাবী তুলে তৃণমূল কংগ্রেসের সমর্থকেরা তীব্র বিক্ষোভ দেখাচ্ছে স্থানে স্থানে। তার সঙ্গেই তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন মুকুল-শুভেন্দুকে নিয়ে। তাঁদের দাবি এক যাত্রায় পৃথক ফল কেনো?, যদি নারদ কান্ডে ববি-সুব্রত গ্রেপ্তার হয়ে থাকেন তাহলে বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কারণে ছাড় পাচ্ছেন কেনো মুকুল-শুভেন্দুরা।  তৃণমূল সমর্থকদের মতে, বিজেপি করার ছাড় পাচ্ছেন তাঁরা।

তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ এই প্রসঙ্গে বলেছেন, ‘ক্ষমতা থাকলে সিবিআই আগে মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারীদের বাড়ি থেকে নিয়ে আসুন। শুভেন্দু-মুকুলরা এখন বিজেপির কোলে বসে রয়েছে, তাই তাঁরা বাদ!’ তৃণ্মুল সাংসদ সৌগত রায়ের ্ববি-মদনের গ্রেপ্তারিতে জানিয়েছেন  ‘এটা পুরোপুরিই প্রতিহিংসা। অত্যন্ত নিন্দনীয়। বাংলায় হেরে গিয়ে এখন প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে নেমেছে বিজেপি। তাই সিবিআই-কে কাজে লাগানো হচ্ছে।’ একই বক্তব্য বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর কাছে কোন অনুমতি নেওয়া হয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তবে শুধু  মুকুল-শুভেন্দুই নয়, এই প্রসঙ্গে উঠে আসছে আরও কিছু নাম, সৌগত রায়, যিনি নিজে সরব হয়েছেন মকুল-শুভেন্দুর গ্রেপ্তারি নিয়ে, তাছাড়া তালিকায় আছেন কাকলী ঘোষ দস্তিদার, অপরূপা পোদ্দার, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, সুলতান আহেমেদের। তবে, কয়েকদিন আগেই প্রাণ হারিয়েছেন প্রাক্তন সাংসদ সুলতান্ম আহমেদ।  একই ভিডিওতে ছিলেন তাঁরাও, তাহলে যদি ৪ জন গ্রেপ্তার হন, বাকিদের পালি কবে? মুকুল-শুভেন্দু এই মুহুর্তে বিরোধী দলের নেতা, শুভেন্দু এখন বাংলার বিরোধি দলনেতাও, অন্যদিকে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন শোভন চ্যাট্টার্জী, তবে খুব বেশি অ্যাক্টিভ ছিলেন না দলে, গ্রেপ্তার হয়েছেন তিনিও।

ভিডিওতে আছেন, অথচ গ্রেপ্তারিতে ছাড়! বাকি সকলেই এখনো শাসক দলের সঙ্গেই যুক্ত। আজকের ৪ জনের গ্রেপ্তারির পর সাধারণের মনে উঠে এসেছে সেই পুরানো ভিডিও, যেখানে একে একে দেখা গিয়েছিলো সকলকেই, আজকের ঘটনায় নারদা কর্তা ম্যাথু স্যামুয়েল খুশি হয়ে জানিয়েছেন, অবশেষে ফল পেলেন তিনি, তবে শুভেন্দুর কী হলো পরিণতি সেই নিয়ে খোঁজ নিতে ভোলেননি, অন্যদিকে আম-জনতা জানতে চাইছেন একই যাত্রায় পৃথক ফল হচ্ছে কিভাবে? বাকিদের ছাড়পত্রে কার্যত ষড়যন্ত্র দেখছেন রাজ্যবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here