নজরবন্দি ব্যুরোঃ এক দিনের ভোটে প্রভাব পড়বে না রাজ্যে, করোনার দ্বিতীয় ঢেউও নিয়ন্ত্রণে কিছুটা। এই সময়েই করানো হোক রাজ্যের উপনির্বাচন। নবান্নর বৈঠক থেকে এই ভাবনার কথা আজ জানালেন খোদ-মুখ্যমন্ত্রী। দিন কয়েক ধরেই জল্পনা চলছিল, রাজ্যের উপ নির্বাচনের তোড়জোড় করছে শাসক দল, আজ নবান্ন সভাঘর থেকে মমতা জানিয়ে দিলেন সেকথা।
আরও পড়ুনঃ বংলা আসলে নৌকার মতো! ২৬ এর বান নিয়ে জেলাগুলিকে সতর্ক বার্তা মমতার
তাঁর মতে যেখানে ৮ দফায় নির্বাচন হয়েছে, সেখানে এই মুহুর্তে এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, এখন ১ দিনের সময় দিয়ে বাই-ইলেকশন করালে বেশি প্রভাব পড়বে না রাজ্যে। সঙ্গে তিনি জানান ভোটের পরে রাজ্যে কোভিড পজিটিভের পরিমাণ ছিল ৩৩ শতাংশ, সেই পিক এরিয়া কাটিয়ে এই মুহুর্তে রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে, এখন ৩.৬১ শতাংশতে।
এতে ৭ দিনের প্রচারের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে ১ দিনের ভোট করালে খুব বেশি সমস্যা হবে না। সেক্ষেত্রে বাকি থাকা কেন্দ্র গুলিতে এখনই ভোট করিয়ে নেওয়ার জন্য আদর্শ সময়। বুধ-বিকেলের বৈঠক থেকে মমতা জানান, ‘‘এখন তো পরিস্থিতি অনেকটাই ভাল। কমিশন চাইলে এখন ভোট করে নিতে পারে। আমি জানি, প্রধানমন্ত্রী বললেই কমিশন উপনির্বাচনের ঘোষণা করবে। আমি তাই প্রধামন্ত্রীকে উদ্যোগী হওয়ার অনুরোধ করব।’’
সঙ্গে তিনি জানান, ‘আমি তো শুনেছি প্রধানমন্ত্রীর ইঙ্গিত না পেলে নির্বাচন কমিশন উপনির্বাচনের অনুমতি দেবে না। তাই আমি প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করব, আমাদের উপনির্বাচনটা ক্লিয়ার করে দিন।’ এই মুহুর্তে রাজ্যের ৭ আসনে হবে বিধানসভা বাই-ইলেকশন। মুর্শিদাবাদের দুই প্রার্থী মারা যাওয়ায় ওই দুই কেন্দ্রে ভোট স্থগিত হয়ে আছে, এদিকে ভোটে হেরে গিয়েও মুখ্যমন্ত্রী পদে বসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
নিয়মঅনুযায়ী ৬ মাসের ভেতর কোন কেন্দ্র থেকে জিতে ফিরতে হবে তাঁকে, হাতে আর আছে সাড়ে ৪ মাস, মমতার লড়ার সুবিধার জন্য তাঁর গড় ভবানীপুর কেন্দ্রের বিধায়ক শোভন্দেব চোট্টোপাধায় ইতিমধ্যে ইস্তফা দিয়েছেন নিজের পদ থেকে। অন্যদিকে ভোটে লড়েও ফলাফলের আগেই করোনা কবলে প্রাণ হারিয়েছেন খড়দহের বিধায়ক কাজল সিনহা, তাঁর জায়গায় উপনির্বাচনে লড়বেন শোভনদেব।
এক দিনের ভোটে প্রভাব পড়বে না রাজ্যে। এদিকে ভোটে জিতেও সাংসদ থেকে যাওয়ার দলীয় সিদ্ধান্তে দিনহাটা ও শান্তিপুর আসন থেকে বিধায়ক পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বিজেপি-র নিশীথ প্রামাণিক ও জগন্নাথ সরকার। তাই উপনির্বাচন হবে ওই দু’টি আসনেও। কদিন আগেই প্রাণ হারিয়েছে গোসাবার বিধায়কও। সেই কেন্দ্রেও ভোট হবে আবার। শাসক দলের আশঙ্কা কেন্দ্র সরকার এবং কমিশন কোভিডের কারণ দেখিয়ে ৬ মাসের মাথায় আটকে দিতে পারে উপনির্বাচন। সবকিছু মাথায় রেখেই আজ উপনির্বাচন এবং তা নিয়ে আর্জির কথা নিজে বৈঠকে জনিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



