নজিরবিহীন প্রতারণা হবু শিক্ষকদের সাথে, এত মিথ্যা কিভাবে বলেন মাণিক? প্রশ্ন চাকরিপ্রার্থীদের

নজিরবিহীন প্রতারণা হবু শিক্ষকদের সাথে, এত মিথ্যা কিভাবে বলেন মাণিক? প্রশ্ন চাকরিপ্রার্থীদের
নজিরবিহীন প্রতারণা হবু শিক্ষকদের সাথে, এত মিথ্যা কিভাবে বলেন মাণিক? প্রশ্ন চাকরিপ্রার্থীদের

নজরবন্দি ব্যুরোঃ পুজোর আগেই প্রাথমিকের টেট-এর ফলপ্রকাশ করা হবে। ২৯ জুন ২০২১ তারিখে সংবাদমাধ্যমের সামনে এমনটাই ঘোষণা করেছিলেন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য। সেদিন পর্ষদ সভাপতি বলেছিলেন, “চলতি বছরের ৩১  জানুয়ারি প্রাথমিকের টেট নেওয়া হয়েছিল। তার ফলপ্রকাশ পুজোর আগেই করে দেওয়া হবে।” এদিকে পুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। আজ মহাপঞ্চমী। এদিকে রেজাল্টের কথা বেমালুম ভুলে গিয়েছে পর্ষদ, কার্যত নজিরবিহীন প্রতারণা হবু শিক্ষকদের সাথে।

আরও পড়ুনঃ পুজোর কলকাতা টার্গেট জঙ্গিদের! সতর্ক করল স্বরাষ্ট্র দফতর

প্রায় আড়াই লক্ষ পরীক্ষার্থী টেট দিয়েছিলেন। আর পর্ষদ সভাপতি মানিক ভট্টাচার্য জানিয়েছিলেন, প্রাথমিকের টেটের ফলপ্রকাশ নিয়ে সতর্ক রয়েছে পর্ষদ। ফলপ্রকাশের আগেই মডেল উত্তরপত্র ওয়েবসাইটে আপলোড করা হবে। গত ২৯ জুন তিনি বলেছিলেন, “ফলপ্রকাশের আগে সমস্ত প্রশ্নের উত্তর ওয়েবসাইটে আগে দেওয়া হবে। তার পরেই চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হবে।”

সেদিন পর্ষদ সভাপতি সংবাদ্মাধ্যমে সাফ জানিয়েছিলেন, “মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন পুজোর আগে ১০ হাজার ৫০০ জনকে প্রাথমিক শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ করা হবে। সোমবার শিক্ষা মন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পুজোর আগেই সেই নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।” যদিও কথা রাখেন নি তিনি। পুজো শুরু হলেও মানিকের কথা মত হয়নি ফলপ্রকাশ।

নজিরবিহীন প্রতারণা হবু শিক্ষকদের সাথে

নজিরবিহীন প্রতারণা হবু শিক্ষকদের সাথে
নজিরবিহীন প্রতারণা হবু শিক্ষকদের সাথে

তাই চাকরি প্রার্থীরা নজরবন্দির মাধ্যমে খোলা চিঠি দিলেন পর্ষদ সভাপতি কে। তাঁরা লিখেছেন, “এতগুলো ছেলেমেয়ের সাথে প্রতাড়না করলেন স্যার(পড়ুন মাণিক ভট্টাচার্য)! আপনি তো আমাদের ডিএলএড দের অভিভাবক। আমাদের সার্টিফিকেটে সই টাও আপনারই। ৩ মাস আগে বললেন পুজোর আগে নিশ্চিত রেজাল্ট দেবেন। এত বড় পদে আসীন, একজন পর্ষদ সভাপতি, একজন বিধায়ক হয়ে ন্যাশনাল মিডিয়াতে বসে এরকম মিথ্যাচার করলেন? আপনিও তো একজন পিতা।

সন্তানসম ছাত্রছাত্রীদের সাথে এরকম প্রতাড়না করতে একটুও বিবেকে বাঁধলো না? পুজোর আগে ছেলেমেয়েগুলোর থেকে হাসি আনন্দ সবকিছু কেড়ে নিলেন। এই পাপের বোঝা বইতে পারবেন? এতজনের চোখের জল এত অভিশাপ নিয়ে শান্তিতে থাকতে পারবেন স্যার? ২০১৪ সালের একটা টেট থেকে ৫ বছর ধরে দফায় দফায় বারে বারে ৭০০০০ নিয়োগ করে গেলেন, এখনো অন্যায্য, অযৌক্তিক কথা বলে অযুহাত দেখিয়ে আমাদের সাথে প্রতাড়না করতে পারলেন? ছিঃ ছিঃ ছিঃ।

৭০০০০ নিয়োগ হওয়ার পরেও মেরিটে না আসা প্রার্থীদের অযুহাত দেখিয়ে ৪ বছর ধরে বঞ্চনার শিকার, একটাও নিয়োগ না পাওয়া প্রার্থীদের রেজাল্টটাও আটকে দিলেন। এতো বড়ো মানুষ হয়ে এরকম মিথ্যাচার, এরকম ছোটো মানসিকতার পরিচয় রাখেন কি করে! একটুও কি বিবেক, মনুষ্যত্ব অবশিষ্ট নেই?”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here