তৃতীয় রাউণ্ডের শেষে ১২৭৩ ভোটে পিছিয়ে তেজস্বী যাদব। রাঘোপুর কেন্দ্রের রাজনীতি বরাবরই উত্তপ্ত হলেও এবারের নির্বাচনে লড়াই আরও তীব্র হয়েছে। NDA-র শক্তিশালী ঢেউয়ের মাঝে তেজস্বীর পিছিয়ে পড়া INDIA জোটের জন্য বড় ধাক্কা।
সর্বশেষ গণনায় তেজস্বী যাদব পেয়েছেন ১০,৯৫৭ ভোট, আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি প্রার্থী সতীশ কুমার পেয়েছেন ১২,২৩০ ভোট। এই ব্যবধান এখনো প্রাথমিক হলেও, রাজনৈতিক বার্তা বেশ গভীর।


রাঘোপুরে তেজস্বীর পিছিয়ে পড়া যেমন তাৎপর্যপূর্ণ, তেমনই তা প্রতিফলিত করছে রাজ্যের বৃহত্তর রাজনৈতিক গতিবিধি—বিহারে মোদী-নিতিশ ঝড়।
সারা রাজ্যে মোদী-নিতিশ ঝড়—এনডিএ ছুটছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে। বিহারজুড়ে এখন একটাই শব্দ—মোদী-নিতিশ ঝড়। নির্বাচনী হাওয়া পুরোপুরি বদলে গেছে। সর্বশেষ তথ্য বলছে, এনডিএ ২০০ আসনে এগিয়ে, যা নিঃসন্দেহে একতরফা প্রবণতার ছবি তুলে ধরছে।
তৃতীয় রাউণ্ডের শেষে ১২৭৩ ভোটে পিছিয়ে তেজস্বী যাদব, NDA এগিয়ে ২০০ আসনে!
অন্যদিকে INDIA জোট এগিয়ে মাত্র ৪০ আসনে, যা রাজ্যের বিপুল রাজনৈতিক পরিসর বিবেচনায় অত্যন্ত হতাশাজনক। যে সব আসনে মহাগঠবন্ধন শুরুতে এগিয়ে ছিল, সেই আসনগুলিও একে একে হাতছাড়া হচ্ছে। বহু বিশ্লেষক বলছেন, এই প্রবণতা দেখিয়ে দিচ্ছে—বিহারে মোদী-নিতিশ ঝড় শুধুই রাজনৈতিক নয়, এটি সামাজিক পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত।



NDA-র দুই ইঞ্জিন: JDU ও BJP-র বিস্ফোরক পারফরম্যান্স। এনডিএ-র এই বিপুল উত্থানের পিছনে যে দুই শক্তির অবদান সবচেয়ে বেশি, তা হল JDU এবং BJP। জেডিইউ এককভাবে এগিয়ে রয়েছে ৮৯ আসনে, যা দলের ইতিহাসে অন্যতম শক্তিশালী পারফরম্যান্স।
অন্যদিকে বিজেপি এগিয়ে ৮৪ আসনে, যা কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের জনপ্রিয়তা, গ্রাসরুট প্রচার এবং নিখুঁত কৌশলগত পরিকল্পনার সরাসরি প্রতিফলন। এই দুই দলের সমন্বয় এতটাই সুদৃঢ় যে মহাগঠবন্ধনের যেকোনো প্রতিরোধ কার্যত ব্যর্থ হয়ে পড়ছে। বিশ্লেষকদের ভাষায়—বিহারে মোদী-নিতিশ ঝড় মূলত সংগঠিত নেতৃত্ব, শক্তিশালী কৌশল এবং ভোটারদের আস্থার সম্মিলন।
INDIA জোটের ভরাডুবি—RJD লড়লেও কংগ্রেস কার্যত অদৃশ্য। INDIA জোটের পরিস্থিতি আরও করুণ। RJD এখনো লড়াই ধরে রেখেছে ৩০ আসনে, কিন্তু জোটকে বাঁচানোর জন্য তা যথেষ্ট নয়। কংগ্রেসের বিপর্যয় আরও তীব্র—তারা মাত্র ৫ আসনে এগিয়ে। সংগঠনগত দুর্বলতা এবং প্রচারে অস্পষ্টতা কংগ্রেসকে কার্যত পিছনে ঠেলে দিয়েছে। বাম দলগুলিও এগোচ্ছে ৫ আসনে, কিন্তু বৃহত্তর রাজনীতিতে তার প্রভাব খুবই সীমিত।
এখন পরিষ্কার—বিহারে মোদী-নিতিশ ঝড় বিরোধী জোটের রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে।
রাঘোপুর শুধু আরজেডির শক্ত ঘাঁটিই নয়, এটি তেজস্বী যাদবের রাজনৈতিক পরিচয়ের মূল আসন।
সেখানে তৃতীয় রাউণ্ডের শেষে ১২৭৩ ভোটে পিছিয়ে তেজস্বী যাদব—এটা INDIA জোটের মনোভাবকেই স্পষ্টভাবে প্রভাবিত করছে।
এই কেন্দ্রের ফল শুধু একটি আসনের প্রতিফলন নয়—এটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করে। এ কারণেই তেজস্বীর এই পিছিয়ে থাকা এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
২০০ আসনে এগিয়ে থাকা মানেই পরিষ্কার ইঙ্গিত— এনডিএ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতায় সরকার গঠন করতে চলেছে। ভোটের প্রবণতা বলছে, এই লড়াই ইতিমধ্যেই একতরফা হয়ে গেছে। বিরোধীদের হাতে এখন সময় কম, আর সুযোগ আরও কম।







