Dubai Airshow-এ ভেঙে পড়ল Tejas যুদ্ধবিমান—শুক্রবার দুপুরে চোখের সামনে ঘটে গেল এই ভয়াবহ ঘটনা। স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ১০ মিনিটে দুবাইয়ের আন্তর্জাতিক ‘এয়ার শো’-তে প্রদর্শনী উড়ান দিচ্ছিল ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি আধুনিক যুদ্ধবিমান তেজস। মুহূর্তের মধ্যে ভারসাম্য হারিয়ে মাটিতে ভেঙে পড়ে বিমানটি, আর তার পরই গোটা বিমানবন্দর এলাকা কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।
উড়ানের ঠিক আগে বা দুর্ঘটনার মুহূর্তে Tejas-এর পাইলট ইজেক্ট করতে পেরেছেন কি না, তা এখনও পর্যন্ত জানা যায়নি। ভারতীয় বায়ুসেনা এবং HAL—কোনও পক্ষই এখনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। এ কারণে পাইলটের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে যাচ্ছে।
দুবাইয়ে প্রদর্শনীর সময়ে ভেঙে পড়ল Tejas যুদ্ধবিমান
হিন্দুস্তান এরোনটিক্স লিমিটেডের তৈরি এই Tejas যুদ্ধবিমান বর্তমানে ভারতীয় বায়ুসেনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাল্টিরোল ফাইটার জেট। একক ইঞ্জিন, সুপারম্যানুভারিং ক্ষমতা এবং দেশীয় প্রযুক্তির সংমিশ্রণে তেজস ভারতীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের ক্ষমতার প্রতীক। আধুনিক সংস্করণ Tejas Mark-1A ইতিমধ্যেই নাসিকের HAL কারখানায় তৈরি হচ্ছে, যা উন্নত রাডার, শক্তিশালী অস্ত্র সিস্টেম এবং আকাশ-থেকে-আকাশ ও আকাশ-থেকে-ভূমি আঘাত হানতে সক্ষম।
দুবাই এয়ারশোতে তেজস-এর অন্তর্ভুক্তি ভারতীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানির সম্ভাবনায় বড় ভূমিকা রাখছে। কিন্তু Dubai Airshow-এ Tejas দুর্ঘটনা সেই প্রচেষ্টায় সাময়িক ধাক্কা আনতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
দুর্ঘটনার ঠিক পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায় ভিডিও এবং ছবি, যেখানে দেখা যায় বিমান ভেঙে পড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ধাতব অংশ এবং কালো ধোঁয়ার স্তম্ভ আকাশে উঠছে। স্থানীয় নিরাপত্তা দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও বিমানের অবশিষ্টাংশ ঘিরে তদন্ত এখনও চলছে।

এটি প্রথম নয়। গত দুই বছরের মধ্যে দ্বিতীয় বার দুর্ঘটনার কবলে পড়ল Tejas যুদ্ধবিমান। ২০২৩ সালের মার্চে রাজস্থানের জয়সলমেরে ভেঙে পড়েছিল আরেকটি তেজস। সেই ঘটনায় পাইলট সময়মতো ইজেক্ট করে প্রাণে বেঁচেছিলেন। এবারেও একইভাবে পাইলট বেরোতে পেরেছেন কি না, তা নিয়ে জোর জল্পনা।
দুর্ঘটনার কারণ এখনও পরিষ্কার নয়, তবে যেহেতু এটি প্রদর্শনী উড়ানের সময় ঘটেছে, তাই বিশেষজ্ঞদের একাংশের অনুমান—ইঞ্জিন সমস্যা, ভারসাম্যহীনতা অথবা টেকনিক্যাল ত্রুটি এর পিছনে থাকতে পারে। HAL এবং বায়ুসেনার যৌথ তদন্ত রিপোর্ট এলেই প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, তেজস প্রকল্প ভারতের আত্মনির্ভর প্রতিরক্ষা নীতির অন্যতম স্তম্ভ। তাই Dubai Airshow-এ Tejas দুর্ঘটনা প্রযুক্তিগত নির্ভরতা নয়, বরং তদন্ত পর্যন্ত একটি ‘ইনসিডেন্টাল ব্যর্থতা’ হিসেবেই দেখা উচিত। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতীয় যুদ্ধবিমানের সুনাম বজায় রাখতে সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত তদন্তকে অত্যন্ত জরুরি মনে করছেন তাঁরা।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—তেজসের পাইলট কোথায়? তিনি নিরাপদ কি না? ভারত ও আন্তর্জাতিক মহলে সেই উত্তর পাওয়ার অপেক্ষা আরও বাড়ছে।







